‘অলরাউন্ডার’ রুট ইংল্যান্ডের জয়ে উজ্জ্বল
ডিটেকটিভ স্পোর্টস ডেস্ক
অ্যারন ফিঞ্চের আরেকটি সেঞ্চুরি। মিচেল স্টার্কের চার উইকেট। ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ব্যাটে-বলে দুজন ম্যাচের সেরা। কিন্তু বিবর্ণ তাদের সতীর্থদের প্রায় সবাই। ‘দশে মিলি করি কাজ’-এর আদর্শ উদাহরণ দেখিয়ে ম্যাচ জিতে নিল ইংল্যান্ড। অনেকের অবদানেও একটু বেশি উজ্জ্বল জো রুট।
অনিয়মিত অফ স্পিনার হলেও এদিন রুট নিলেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পরে ব্যাট হাতে ফিনিশারের ভূমিকা পূরণ করলেন নিখুঁতভাবে। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে শুক্রবার অস্ট্রেলিয়াকে ৪ উইকেটে হারাল ইংল্যান্ড।
ব্রিজবেনে অস্ট্রেলিয়ার ২৭০ রান তাড়ায় ইংল্যান্ড জিতে যায় ৩৪ বল বাকি রেখে।
টস জয়ী অস্ট্রেলিয়াকে ভালো শুরু এনে দেন ডেভিড ওয়ার্নার ও ফিঞ্চ। ৭০ বলে ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন। ৪০ বলে ৩৫ রান করে ফেরেন ওয়ার্নার।
দ্বিতীয় উইকেটে ফিঞ্চের সঙ্গে স্টিভেন স্মিথের জুটিও জমে উঠছিল। তখন রুটের চমক। স্মিথকে ফিরিয়ে ভাঙেন এই জুটি। পরে ফিরিয়ে দেন ট্রাভিস হেডকেও।
ফিঞ্চকে পরে সঙ্গ দিয়েছেন মিচেল মার্শ। তবে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি তিনিও (৩৫)। দলকে টানেন ফিঞ্চই। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি পর আবার করেছেন সেঞ্চুরি। তবে শেষ ১০ ওভারে যখন রান বাড়ানোর তাগিদ, ফিঞ্চ আউট হয়ে যান তখনই। ১১৪ বলে করেছেন ১০৬। তার দশম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
শেষ দিকে মার্কাস স্টয়নিস, ক্যামেরন হোয়াইটরা পারেননি ঝড় তুলতে। অভিষিক্ত উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি ২৪ বলে করেছেন ২৭। হোয়াইট ২১ বল খেলে অপরাজিত ছিলেন মাত্র ১৫ রানে।
ব্যাটিং উইকেটে এই ইংল্যান্ডকে ২৭০ রান করে আটকানো কঠিন। অস্ট্রেলিয়া একাদশ সাজিয়েছিল মাত্র তিন জন স্পেশালিস্ট বোলার দিয়ে। কাজটা ছিল আরও কঠিন। স্টার্কের ৪ উইকেটের পরও তাই পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
আগের ম্যাচের নায়ক জেসন রয় এদিন ফেরেন শুরুতেই। ইংল্যান্ডের আগ্রাসী নীতি তাতে পাল্টায়নি। দ্বিতীয় উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়েন জনি বেয়ারস্টো ও অ্যালেক্স হেলস।
৫৬ বলে ৬০ করেন বেয়ারস্টো, ৬০ বলে ৫৭ হেলস। ইনিংসে ফিফটি নেই আর একটিও। জিততে তবু খুব বেগ পেতে হয়নি ইংল্যান্ডকে।
এক পাশ আগলে রেখে দলকে ভরসা দিয়ে গেছেন রুট। আরেক পাশে জস বাটলার করেছেন ৩২ বলে ৪২। ক্রিস ওকস ২৭ বলে অপরাজিত ৩৯।
দুই উইকেট নেওয়ার পর অপরাজিত ৪৬ রান করে ম্যাচ সেরা জো রুট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে ২৭০/৯ (ওয়ার্নার ৩৫, ফিঞ্চ ১০২, স্মিথ ১৮, হেড ৭, মার্শ ৩৬, স্টয়নিস ৪, হোয়াইট ১৫*, ক্যারি ২৭, স্টার্ক ৩, টাই ৮*; উড ০/৫৫, ওকস ১/৩৭, প্লাঙ্কেট ১/৪৩, মইন ১/৩১, রশিদ ২/৭১, রুট ২/৩১)।
ইংল্যান্ড: ৪৪.২ ওভারে ২৭৪/৬ (রয় ২, বেয়ারস্টো ৬০, হেলস ৫৭, রুট ৪৬*, মর্গ্যান ২১, বাটলার ৪২, মইন ১, ওকস ৩৯*; স্টার্ক ৪/৫৭, রিচার্ডসন ২/৫৯, হেড ০/৫৫, টাই ০/৪৭, ফিঞ্চ ০/১৭, স্টয়নিস ০/৩৪, মার্শ ০/৮)।
ফল: ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচ সিরিজে ইংলান্ড ২-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: জো রুট