June 20, 2024, 11:54 pm

সংবাদ শিরোনাম
সিসিটিভির আওতায় উলিপুরঃ সম্মানিত নাগরিকদের নিরাপত্তায় পুলিশের এই প্রচেষ্টা সরিষাবাড়ীতে ৪ হাজার ব্যক্তির মাঝে এমপির চাল বিতরণ চিলমারীতে পৈ‌ত্রিক সম্প‌তি নি‌য়ে বি‌রো‌ধের জের ধ‌রে প্রায় ১৪ বছরের পুরোনো কবর ভেঙে ফেলার অভিযোগ গাজীপুর কালিয়াকৈর চান্দ্রায় ঈদ যাত্রার যাত্রীদের দুর্ভোগ কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে বোতলনোজ প্রজাতির মৃত ডলফিন উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার গান কমান্ডার গ্রেফতার ফরিদপুরের নগরকান্দার চাঞ্চল্যকর “ক্লুলেস ডাকাতি” ঘটনার মূলহোতা দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার রবিজুল শেখ’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ রংপুরের পীরগঞ্জে ইয়াবা, জুয়ারী,ও ওয়ারেন্টের আসামী সহ ৮জনকে আটক করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে জনসচেতনতা মূলক আলোচনা সভা জৈন্তাপুরে চিকনাগুল বাজারে অবৈধ পশুর হাট, সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

সরকার স্বাস্থ্যবীমা চালুর পরিকল্পনা করছে: প্রধানমন্ত্রী

সরকার স্বাস্থ্যবীমা চালুর পরিকল্পনা করছে: প্রধানমন্ত্রী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

দেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যবীমা চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বর্তমানে পরীক্ষামূলকভাবে তিনটি উপজেলায় এই বীমা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার সংসদে টেবিলে উপস্থাপিত সাংসদ রুস্তম আলী ফরাজীর প্রশ্নে শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনগণের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের স্বাস্থ্যবীমা চালু করার পরিকল্পনা আছে। এ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আমরা দরিদ্র জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য টাঙ্গাইল জেলায় মধুপুর, ঘাটাইল ও কালিহাতি উপজেলায় ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে স্বাস্থ্যবীমা কার্যক্রম চালু করেছি। প্রধানমন্ত্রী জানান, সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার ‘হেলথ কেয়ার ফাইন্যান্সিং স্ট্র্যাটেজি ২০১২-২০৩২’ প্রণয়ন করেছে। এ কৌশলের অধীনে প্রাথমিকভাবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিতে ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচি-এসএসকে’ শীর্ষক পাইলট কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ৭৮টি ভর্তিযোগ্য রোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প সম্প্রসারণ করে টাঙ্গাইল জেলার অবশিষ্ট নয়টি উপজেলাও এর আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানান শেখ হাসিনা। কালিহাতি, ঘাটাইল ও মধুপুরের দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাসকারী ৮১ হাজার ৫২৮টি পরিবারের নিবন্ধন সম্পন্ন করে ৮১ হাজার ১৭৭টি পরিবারেরর মধ্যে এসএসকে কার্ড বিতরণ করার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পাইলট প্রকল্পের ধারাবাহিকতায় ‘হেলথ ইকোনমিকস’ ইউনিটের আওতায় পরবর্তীতে সারা দেশে স্বাস্থ্য বীমা চালু করার মাধ্যমে ওষুধ ও চিকিৎসা দেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। মোকাব্বির খানের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালে দেশে মোবাইল ফোনের গ্রাহক সংখ্যা ছিল সাড়ে চার কোটি। চলতি বছরের এপিলে তা উন্নীত হয়েছে ১৬ কোটি পাঁচ লাখে। একই সময় ইন্টারনেট গ্রাহক ৬০ লাখ থেকে নয় কোটি ৩৭ লাখে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, বর্তমানে টেলিডেনসিটি ৯৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ ও ইন্টারনেট ডেনসিটি ৫৭ শতাংশ। ২০০৮ সালের ইন্টারনেট ব্যান্ডউইডথ চার্জ প্রতি এমবিপিএস ২৭ হাজার থেকে কমিয়ে বর্তমানে ২৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের ই-গভর্নমেন্ট সূচক অনুযায়ী বাংলাদেশ বিশ্বের অনেক দেশকে পেছনে ফেলে ২০১৮ সালে ১১৫তম অবস্থানে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে। আওয়ামী লীগের সদস্য অসিম কুমার উকিলের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে ত্রিশ হাজার গণশহীদ চিহ্নিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। আগামীতে গণশহীদদের নাম-পরিচয় চিহ্নিত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রশ্নোত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করেছে। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকাশিত তালিকার বাইরে যদি কোনো মুক্তিযোদ্ধা থাকেন তা চিহ্নিত করে ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্যে আমরা সারা দেশে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এই কার্যক্রম সম্পন্ন হলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে। এই তালিকার অংশ হিসেবে বর্তমানে মোট পাঁচ হাজার ৭৯৫ জন শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধার নাম-ঠিকানা সম্বলিত পূর্ণাঙ্গ তথ্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এর মধ্যে গেজেডভুক্ত বেসামরিক শহীদ ২ হাজার ৯২২ জন, গেজেটভুক্ত সশস্ত্র বাহিনী শহীদ ১ হাজার ৬২৮ জন, গেজেটভুক্ত বিজিবি শহীদ ৮৩২ জন এবং গেজেটভুক্ত শহীদ পুলিশ ৪১৩ জন। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী স্বাধীনতা যুদ্ধে সারা দেশে ত্রিশ লাখ গণশহীদ চিহ্নিত করা এখনো সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে এ লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণ করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কার্যক্রমে সারা দেশে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও পরবর্তী সময়ে পরলোকগত মুক্তিযোদ্ধাদের ২০ হাজার সমাধিস্থল সংরক্ষণ করা হবে। সরকার দলীয় সংসদ সদস্য বেনজীর আহমদের এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার জীবন যাত্রার মানোন্নয়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জীবন যাত্রার মান উন্নয়ন, শিক্ষার হার ও গড় আয়ু বৃদ্ধি এবং দারিদ্র বিমোচনে বাংলাদেশ এখন সারা বিশ্বে এক অনন্য উদাহরণ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের নগর উন্নয়নের পাশাপাশি গ্রামীণ সমাজের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করতে এবং প্রতিটি গ্রামে নগর সুুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে আমাদের সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। বিগত এক দশকে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের গৃহীত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ জনগণের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হওয়ায় শহরমুখী হওয়ার পবণতা কমে এসেছে। জাতির পিতাই প্রথম গ্রামীণ উন্নয়নের মাধ্যমে শহর ও গ্রামের পার্থক্য ঘুচিয়ে আনার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাঁরই পদাংক অনুসরণ করে আওয়ামী লীগ সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, এই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার ২০১৮, তে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ-এ প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণের অঙ্গীকার করেছি। সরকার শহর ও গ্রামের পার্থক্য ঘুচিয়ে আনার যে সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তাঁর মধ্যে রয়েছে, সকলের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য সারাদেশে ১ হাজার ৪৯৫টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন এবং ৩৯ হাজার ৩টি অতিরক্তি শ্রেনীকক্ষ এবং ৩৯৫টি সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ। একই সঙ্গে ৭ হাজার ৭৪২টি বিদ্যালয় পুন:স্থাপন, ২৮ হাজার ৫শ’টি ওয়াশব্লক নির্মাণ এবং ৩৯ হাজার ৩শ’ নলকূপ স্থাপন করেছে। তিনি বলেন, ৫০ হাজার ৪৭১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষার সরঞ্জামাদি প্রদান করে মাল্টিমিডিয়া শ্রেনীকক্ষ চালু করা হয়েছে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঝরে পড়া রোধকল্পে ১২১টি উপজেলায় ঝরে পড়া শিশুদের নিয়ে ৭ হাজার ৪৫৬টি শিক্ষা কেন্দ্রে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থীর প্রাথমিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার কারিগর শিক্ষার প্রসারে ১শ’টি উপজেলায় ১শ’ টেকনিক্যাল স্কুল এণ্ড কলেজ স্থাপনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ৫ হাজার মাদ্রাসায় কারিগরি কোর্স চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন,সকলের জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে তাঁর সরকার সারাদেশে ১৩ হাজার ৫শ’ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বাতায়ন নামে ২৪ ঘন্টা একটি হেলথ কল সেন্টার চালুসহ রোগ নির্নয়ে উপজেলা পর্যায়ে এক্সরে মেশিন,আল্ট্রাসনোগ্রাম,ইসিজি,সেমি অটো এনালাইজার,ইএনটি ওপিডি সেট সরবরাহ করা হয়েছে। এ সময় শেখ হাসিনা গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সমবায় সৃষ্টি,কৃষি আধুনিকায়ন, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন,বিদ্যুতায়ন, স্যানিটেশন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনির কর্মসূচি, আমার বাড়ি আমার খামার এবং ভূমিহীনদের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করণে তাঁর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর