May 22, 2024, 11:13 am

সংবাদ শিরোনাম
পীরগাছায় আনসার দলনেতা আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতিতে ভুক্তভোগীদের ক্ষোভ কক্সবাজারে জোড়া খুনের মামলার আসামী ৬ জন কুড়িগ্রামে জাল ভোট দিতে এসে ধরা খেলো রিকশাওয়ালা পটুয়াখালীতে মন্দিরে ডুকে ৩টি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্বরা পটুয়াখালীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক সচেতনতামুলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত দৈনিক নবচেতনা পত্রিকার ৩৩তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপিত চিলমারীতে বিধি বহির্ভূতভাবে শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন রামু উপজেলা বিএনপির তিন নেতা বহিষ্কার সুন্দরগঞ্জে দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ দিনাজপুরে চতুর্থ পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ৩ উপজেলায় প্রতিক বরাদ্দ ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে মোবাইল ফোনে ঝুঁকিতে নিরাপত্তা

রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে মোবাইল ফোনে ঝুঁকিতে নিরাপত্তা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গাদের কাছে মোবাইল সিম বিক্রি না করার নির্দেশ দিয়ে ক্যাম্পগুলোতে ১০টি টেলিটক বুথ স্থাপন করেছে সরকার। অথচ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বলপ্রয়োগপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে আসা রোহিঙ্গাদের হাতে হাতে এখন মোবাইল ফোন। বাংলাদেশের বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সিম অবাধে ব্যবহার করছেন তারা। এসব সিম রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও রোহিঙ্গাদের দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা তৈরি করেছে। তাই মোবাইল ফোনগুলো অবিলম্বে জব্দের দাবি উঠছে। বাংলাদেশের নাগরিকদের মোবাইল সিমকার্ড সংগ্রহে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, আঙ্গুলের ছাপ ও ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন ছাড়া বিক্রিও নিষিদ্ধ। কিন্তু রোহিঙ্গারা এসব ছাড়াই সহজেই সিম সংগ্রহ করছেন। সরেজমিনে বালুখালির থ্যাংখালির হাকিমপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বৃদ্ধ থেকে কিশোর-কিশোরী পর্যন্ত সব বয়সী নারী-পুরুষের হাতে মোবাইল ফোন দেখা গেছে। আরও অনেকেই সেট-সিম কিনতে টেকনাফ-উখিয়ার মোবাইলের দোকানগুলোতে ভীড় করছেন। গড়ে উঠেছে মোবাইল ফোন চার্জের ব্যবসাও। রোহিঙ্গা নারী আজিজার বেগম জানান, রাখাইন রাজ্যের অনেক দূর পর্যন্ত অনায়াসেই বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটরদের নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়। ফলে সেখানে থাকতেও অনেক রোহিঙ্গা গোপনে বাংলালিংক, রবি ও গ্রামীণফোনের সিম ব্যবহার করতেন। তবে বিদেশি সিমকার্ড ব্যবহার মিয়ানমারেও গুরুতর অপরাধ।
বালুখালি ক্যাম্পের মুরতুজা সলিম জানান, তার ভাই দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফের শামলাপুরের ক্যাম্পে আছেন। তার মাধ্যমেই সিম পেয়েছেন। তাদের পরিবারের কয়েকজন এখনো মংডুতে আছেন। তাদের অবস্থা জানতে মোবাইল তাই খুব দরকার। টেকনাফ রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোজাম্মেল হক  বলেন, মোবাইল কোম্পানির ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের অনিয়মের কারণেই সিম চলে যাচ্ছে রোহিঙ্গাদের হাতে। অল্পশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত লোকজন সিম কিনতে গেলে নানা অজুহাতে ৪/৫ বার বা সুযোগ পেলে আরও বেশি ফরমে আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে নেন বিক্রেতারা। একটি ফরম পূরণ করে জমা দেওয়া হলেও অন্যগুলো পরবর্তীতে ব্যবহার করেন। কেউ সিম কিনতে গেলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকলেও ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায় দিয়ে দেন। এভাবেই এই কয়েকদিনে লাখ লাখ সিমকার্ড রোহিঙ্গাদের হাতে চলে গেছে। মোজাম্মেল হক আরো বলেন, ডিলার ও অপারেটরদের এ অনিয়মে নিরাপরাধ লোকজন ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদে পড়বেন। রোহিঙ্গারা অপরাধ করলে সিমের তথ্য অনুসারে অনেক নিরীহ ব্যক্তিকে হয়রানির শিকার হতে হবে। এ ব্যাপারে তাই এখনই সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
উখিয়া নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, এটি অবিলম্বে বন্ধ না করা হলে রোহিঙ্গাদের অপরাধের দায় নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের ঘাড়ে চাপবে।
উখিয়ার থেইংখালি মোশারখোল ৬ নম্বর ক্যাম্পের এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের হাতে থাকা মোবাইলের সিমগুলো জব্দ করা উচিত। এসব সিম ব্যবহার করে তারা বাংলাদেশের সব জায়গায় যোগাযোগ করতে পারছেন। রোহিঙ্গাদের তো সারা দেশে যোগাযোগের প্রয়োজন নাই। তারা মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নিয়ে রাষ্ট্রবিরোধী ও সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাতে পারেন বলে আশঙ্কা করছি’।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের থানেশ্বর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবদুল মান্নান বলেন, ‘একটি চক্র নিজেদের মোবাইল নম্বর উখিয়া-টেকনাফে থাকা রোহিঙ্গাদের কাছে দিয়ে যাচ্ছে। সহযোগিতার জন্য যেকোনো সময় ফোন করতে বলছে। এভাবে যোগাযোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গারা সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে।
বালুখালির পালংখালি ইউপির চেয়ারম্যান আবদুল গফুর বলেন, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে এসেই সিম নিচ্ছে। মোবাইলে যোগাযোগ করে যেকোনো সন্ত্রাসী কর্মকা- চালাতে পারে তারা। তাদের হাতে এত মোবাইল ফোন থাকা রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যও ক্ষতিকর। এসব সিম দ্রুত জব্দ করা উচিত।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর