July 13, 2024, 12:06 pm

সংবাদ শিরোনাম
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকা হতে জাল সার্টিফিকেট ও জাল সার্টিফিকেট তৈরীর সরঞ্জামাদিসহ ০২ জন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ র‌্যাব-১০ এর অভিযানে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং এলাকা হতে ইয়াবাসহ ০১ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার কক্সবাজারে ভারী বৃষ্টিপাত পাহাড় ধ্বসে নারী-শিশু নিহত পীরগঞ্জে মসজিদের দোহাই সরকারি খাস জমির গাছ কর্তন পার্বতীপুরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিক হোসেন এর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন দারুসসালাম লাফনাউট মাদ্রাসার দস্তারবন্দী নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু পীরগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর শিশু’র লাশ উদ্ধার মাদক মামলায় ১৫ বছরের সাজাপ্রাপ্ত গ্রেফতারী পরোয়ানাভুক্ত দীর্ঘদিন পলাতক আসামী আলাউদ্দিন’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ যশোরের মুজিব সড়ক থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ ঝিকরগাছার আখির মোবাইলে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ডিলিট না করায় কক্সবাজারে বন্ধুকে হত্যা

বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের বিভিন্ন অনিয়মের চালচিত্র

বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘের বিভিন্ন অনিয়মের চালচিত্র
(একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন)

মোনোয়ার হোসেন মুন


নীতি নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে জীবন সদস্যপদ গ্রহণে বয়স জালিযাতির আশ্রয় নিয়ে পূর্বের এবং বর্তমান নির্বাহী কমিটির সভাপতি, মহাসচিব, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদ দখলের মহোৎসব। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষীসংঘ ও জরা বিঞ্জান প্রতিষ্ঠান (বাইগাম) দেশের  ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও অধিক প্রবীণ জনগোষ্ঠীর কল্যাণের লক্ষ্যে গঠিত একটি অলাভজনক ও অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। ১৯৬২ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেচ্ছাসেবী এজেন্সি এ্যাক্ট ১৯৬১ এর অধীনে ২৪৩ নং এবং সোসাইটি এ্যাক্ট ঢঢ১/ ১৮৬০ এর অধীনে ১৪১২/৩ নং এবং এনজিও ব্যুরো এ্যাক্ট ১৯৯৯ সালে ৪২৯ নং  এ নিবন্ধিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানটির স্বপ্নদ্রষ্ট্রা প্রথিতযশা চিকিৎসক মরহুম একেএম আব্দুল ওয়াহেদ। তিনি ১৯৬০ সালে তার ধানমন্ডিস্থ বাসভবনে এর গোড়া পত্তন করেছিলেন।  পরবর্তীতে আগাঁরগাওয়ে সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত জায়গার উপর সমাজসেবা মন্ত্রণালয়ের অধীনে  একটি নিবাস একটি হাসপাতাল এবং একটি জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা হয় যার ব্যয়ের সিংহভাগ আসে সরকারী বরাদ্দকৃত অনুদান থেকে এবং এর সামান্য কিছু নিজস্ব ব্যয় থেকে পরিচালিত হয়। বর্তমানে সরকার প্রদত্ত অনুদানের পরিমান সাড়ে ৪ কোটিতে উন্নীত হয়েছে। সরকার এ অনুদান দেয় মূলত প্রবীণ ও দুস্থ স্বাস্থ্যসেবার জন্য। বাংলাদেশ  প্রবীণ হিতৈষী সংঘটি একটি নির্বাচিত নির্বাহী কমিটি দ্বারা পরিচালিত যা সংঘের সাধারণ  ও জীবন সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হয়। সংঘের বিদ্যমান সংবিধানের ১২ নং ধারায় বলা হয়েছে“ বাংলাদেশ জাতীয় পরিচয়পত্র দ্বারা প্রমানিত ৫৫ বছর বা তার বেশী বয়সী বাংলাদেশী নাগরিক নারী বা পুরুষ বাইগামের উদ্দেশ্য ও বিধিবিধান এবং কল্যাণ তৎপরতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আগ্রহী,বাইগামের কার্যনির্বাহী কমিটি কর্তৃক চাঁদা পরিশোধ সাপেক্ষে তিনি বাইগামের সদস্য হতে পারবেন”। সংঘের সংবিধানে বয়সসীমা কমপক্ষে  ৫৫ বছরের কথা উল্লেখ থাকলেও মোঃ সওগাত হোসেন বয়স জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে সংঘের সদস্যপদ লাভ করেন। যার জিবন সদস্য নং ৩৮২। তিনি বর্তমান নির্বাহী কমিটিতে সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে আছেন। মো: সওগাত হোসেন ইতপূর্বে ঢাকা মেট্রোপলিটান  পুলিশে প্রসাশনিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সরকারী চাকুরীরত অবস্থায় ১৯৯৭ সালে তিনি বয়স জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে অনৈতিক কাজ করেন যা বাইগামের সংবিধান অনুচ্ছেদ ১২.১.১ এবং ১২.১.২ এর পরিপন্থি।  মোঃ সওগাত হোসেনের জন্ম সার্টিফিকেট এ বয়স দেয়া আছে ১৯৪১ কিন্ত জাতিয় পরিচয় পত্রে তার জন্ম তারিখ রয়েছে ১লা মে ১৯৪৫। তিনি ৪ বছর তার বয়স গোপন করে অনৈতিক এবং অসাংবিধানিক কাজ করেছেন যা কোনভাবেই গ্রহনযোগ্য না। তার জন্ম সার্টিফিকেট রেজিষ্ট্রেশন নং ০১৪০০৬। তার ব্যক্তিগত পরিচিতি নং ১৯৪১৩০০৮০৩০১৪০০৬ জন্ম ১ মে ১৯৪৫ যা ঢাকা সিটি করপোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত। তার জাতিয় পরিচয় পত্র নং ১৯৪৫২৬৯৪৮০৩৫৭৮২৮৮।

উল্লেখ্য যে ইতিপূর্বে এ ধরনের অনৈতিক কাজের জন্য সংঘের বর্তমান সভাপতি ক্যাপ্টেন অব:একেএম শামছুল হকের স্ত্রী রেজিনা বানুরু সংঘের জিবন সদস্য নং ৯৬১ সদস্য পদ বাতিল হয়। যা বাইগাম কর্তৃক প্রকাশিত ডাইরেক্টরী ২০১৪ তে উল্লেখ রয়েছে। সংঘের অপর একজন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: সুলতান আহম্মদ তিনিও অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। যার বাইগাম জিবন সদস্য নং ৪৭৫। তিনি বাংলাদেশ কারিগরী শিক্ষা বোর্ডে বর্তমানে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত আছেন।  ১৯৬৩ সালে তার জন্ম। সরকারী কর্মকর্তা হিসেবে তিনি সরকারী অনুমতি ছাড়াই সংঘের বিগত নির্বাচনে অংশগ্রহন করেন। সংঘের সংবিধান পরিপন্থি কাজ করে তিনি মাত্র ৩৫ বছর বয়সে সংঘের জিবন সদস্য হন যা সমাজরসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক তদন্তে প্রমানিত হযেছে। তিনি সংঘের বিভিন্ন কমিটি এবং উপ-কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে নিয়মিত ভাতা গ্রহন করছেন যা সম্পূর্ণ সরকারী বিধিবিধানের পরিপন্থি। সংঘে কর্মরত কর্মচারী অধিরঞ্জন মজুমদার ১৯৯৩ সালে হিসাব রক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্ত যোগদানের তারিখ হতে তিনি প্রশাসনের যোগসাজসে হিসাবরক্ষন কর্মকর্তা হিসেবে বেতন ও ভাতা গ্রহণ করে আসছেন। এজন্য ২০০০ সালে তাকে বরখাস্ত করা হলে তিনি বরখাস্তের আদেশ গোপন রাখেন। এ অবস্থাতেই পদ না থাকা সত্বেও কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদন ছাড়াই তাকে সহকারী পরিচালক হিসেবে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। যা সম্পূর্ণ  অনৈতিক ও সরকারী আর্থিক অনিয়মের সামিল। বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষীসংঘ ও জরা বিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান(বাইগাম) একটি বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা অথচ ২০১৬ সাল থেকে সেখানে সরকারী স্কেলে বেতন ও ভাতা কার্যকর করা হয়েছে। যেহেতু এ প্রতিষ্ঠানের সিংহভাগ অর্থ সরকারী অনুদানে পরিচালিত হয় সেহেতু এ ধরনের আর্থিক অনিয়মের ও সরকারী অর্থ অপচয়ের বিষয়গুলো সমাজসেবা মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক যথাযথভাবে সুষ্ঠু তদন্তের দাবী রাখে। বিগত কার্যনির্বাহী কমিটি সংঘের বিভিন্ন অনিয়ম ও নির্বাহী কমিটির বিভিন্নসময়ে নেয়া সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা হওয়ায় বিগত নির্বাহী কমিটির সহ সভাপতি মেজর জেনারেল (অব:) মো: শাহজাহান সিিমতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। যার জিবন সদস্য নং ১১৪৭। তার পদত্যাগ পত্রটি সংবিধানের ২১ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী  কোন সদস্য পদত্যাগ করলে তার পদত্যাগ পত্রটি নির্বাহী সকল সদস্যকে অবহিত করে  পরবর্তী সভায়  উপস্থানের বিধান থাকলেও সংঘের মহাসচিব বা সভাপতি তা না করে  বিষয়টি গোপন রেখেছেন যা সংঘের সংবিধান পরিপন্থি। এ ধরনের বহু অনিয়মতান্ত্রিক কার্যক্রম এ সংঘে হর হামেশাই হচ্ছে প্রবীণদের কল্যাণের স্বার্থে যার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরী। প্রবীণ হিতৈষী সংঙ্গের বর্তমান সভাপতি ক্যাপ্টেন অবঃ একে এম শামসুল হক অনিয়ম ও দূর্নীতির কথা অকপটে শিকার করেন। এসব বিষয় সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর ৭৮ জনের নামে একটি বয়েস জালিয়াতির মামলা করেছে বলে তিনি জানান। পরবর্তী সংখ্যায় ধারাবাহিক প্রকাশ করা হইবো।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর