
মির্জাগঞ্জে কেঁচো সার উৎপাদন করে পারিবারিক ব্যয় মেটাচ্ছেন কৃষকরা
আ: রহিম সজল, প্রতিনিধি, মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী)
ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন করে বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জের আদর্শ কৃষক সমীর চন্দ্র অধিকারী। শুধু তিনিই নয়, উপজেলার অনেক কৃষকই এখন বাড়ির আঙিনায় উৎপাদিত এ সার বিক্রির টাকা দিয়ে পারিবারিক ব্যয় মিটাচ্ছেন। জৈব এই সার মাটিকে তাজা করে, নেই কোনো ক্ষতিকর দিক, দামেও সস্তা তাই কৃষকেরও পছন্দ এই সার।
তেমনই একজন উপজেলার আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের কিসমত ছৈলাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা সমীর অধিকারী। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগীতায় এসএসিপি প্রকল্পের আওতায় ২০২০ সালে মাত্র ২ টি মাটির চাড়ি দিয়ে শুরু করেন সার উৎপাদন। ধীরে ধীরে সার উৎপাদনের পরিধি বাড়িয়েছেন। এখন বাড়ির উঠানে টিনের সেড বানিয়ে তৈরি করেছেন ইট, সিমেন্ট দিয়ে ৬টি হাউজ । প্রতিটি হাউজের দৈর্ঘ্য ৫ ফুট প্রস্থ ৩ ফুট আকারের।
প্রতিটি হাউজে ১৫০ কেজি গোবর ও শাকসবজির উচ্ছিষ্টাংশের মিশ্রণ করে প্রতিটি হাউজে ২ কেজি কেঁচো ছেড়ে দেয়া হয়। তারপর চটের বস্তা দিয়ে হাউজ ঢেকে রাখা হয়। এভাবে ২ মাস ঢেকে রাখার পর তৈরি হয় ভার্মি কম্পোস্ট (কেচো) সার। এই ভাবে প্রতি মাসে সমীর চন্দ্র অধিকারী ৬টি হাউজ থেকে ৫-৬ মণ সার উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি কেজি সার খুচরা ২০ টাকা করে বিক্রি করা হয়। এতে খরচ বাদে প্রতি মাসে আয় হয় পাঁচ হাজার টাকা। এদিকে সমীরের উৎপাদিত কেঁচো সার স্থানীয় কৃষকদের কাছে ক্রমেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আশেপাশের এলাকা থেকে চাষিরা এসে সমীরের বাড়ি থেকে সার কিনে নিয়ে চাষাবাদ করছেন।
ভার্মি কম্পোস্ট সার ব্যবহারকারী চাষি হাবিব বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট সার জমির উর্বরতা বাড়ায়, ফলনও বেশী হয়। এছাড়া দামও কম। আর রাসায়নিক সারের দাম বেশী ও ক্ষতিকারক। এজন্য আমরা এখন জৈব সার ভার্মি কম্পোস্ট সমীরের থেকে কিনে জমিতে ব্যবহার করছি। ফলে অল্প খরচে অধিক লাভবান হচ্ছি।
উদ্যোক্তা সমীর অধিকারী বলেন, ২০২০ সালে কৃষি অফিস থেকে আমাকে বিশেষ জাতির কিছু কেঁচো ও তা দিয়ে সার উৎপাদনের ট্রেনিং দেওয়া হয়। তা দিয়ে আমি শুরু করি এবং বর্তমানে কৃষিকাজের পাশাপাশি সার বিক্রি করে আমি মাসে আয় করছি পাঁচ হাজার টাকা। সারের চাহিদা থাকায় দিন দিন উৎপাদন বাড়িয়েছি। আর আমার সাফল্য দেখে এলাকার অনেকেই আমার কাছ থেকে সার উৎপাদনের কৌশল রপ্ত করছেন। তারাও আগামীতে ভার্মি কম্পোস্ট সারা উৎপাদন করবেন।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কেঁচো দিয়ে সার উৎপাদনে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে রাসায়নিক সারের অতিব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি হ্রাস পাচ্ছে। পরিবেশবান্ধব এই সার মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমেছে। মাটির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে।