April 23, 2026, 8:29 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুর পীরগাছার দেউতিহাট ইজারা নিয়ে নয়-ছয় ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে শীর্ষ অবস্থানে আলমগীর হোসেন ধনীদের সংখ্যা বাড়ছে: ৫ বছরে বিলিয়নিয়ার হতে পারে প্রায় ৪ হাজার রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের শপিং কমপ্লেক্স, সংকুচিত সদস্যপদ আর বিস্তৃত ক্ষমতার এক অনুসন্ধান গাজীপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে অবমুক্তি প্রয়োজন রামুতে গাঁজাসহ দম্পতি আটক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ, ৭ দিন পর ৩ যুবক উদ্ধার হিলিতে আধিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এসএসসি’র দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান মরিচের লাল রং মুছে গেলে যা থাকে এক্সিম ব্যাংকের প্রতারণার শিকার জামাল কন্সট্রাকশন কোম্পানির প্রোপাইটর

পীরগঞ্জে ব্যর্থ ডাকাতি, ধরা আন্তঃজেলা চক্রের ৬ জন

mostbet

লোকমান ফারুক, রংপুর</strong
১৭ এপ্রিল ২০২৬
রংপুরের পীরগঞ্জে একটি রাসায়নিক কারখানায় ডাকাতির চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। অভিযানে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বলে সন্দেহভাজন দুটি পিকআপও উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, গত ২৯ মার্চ রাত। ঘড়ির কাঁটা তখন ১২টা ৫ মিনিট পেরিয়েছে। অধিকাংশ ঘরে বাতি নিভে গেছে, কিন্তু পীরগঞ্জ উপজেলার বড় দরগাহ ইউনিয়নের
মকিমপুর গ্রামের 'রংপুর কেমিক্যাল লিমিটেড’ কারখানায় শুরু হয় অন্য এক দৃশ্য। ১৪ থেকে ১৫ জনের একটি দল কারখানায় ঢুকে নাইটগার্ডদের আটকে ফেলে। লক্ষ্য ছিল ভেতরের মালামাল ও সম্পদ লুট করা–এমনটাই অভিযোগ তদন্তকারীদের।

রাতের পাহারাদারদের জন্য ঘটনাটি ছিল আকস্মিক ঝড়ের মতো। কারখানার দেয়াল, লোহার গেট, টিনের ছাদ–সবকিছু নীরব সাক্ষী। কিন্তু ডাকাতির ছক শেষ পর্যন্ত কাগজেই থেকে যায়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পীরগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। বাংলার পুরোনো প্রবাদ আছে–চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে। কিন্তু এই ঘটনায় পুলিশ বলছে, তারা পালানোর পরই আসল অনুসন্ধান শুরু হয়।

কারখানার মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. হাবিবুল ইসলাম রুহুল বাদী হয়ে পীরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলা নম্বর ৩২। অভিযোগ আনা হয় দণ্ডবিধির ৩৯৮, ৩৯৯ ও ৪০২ ধারায়। এরপর তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে কয়েক মিনিটের সিসিটিভি ফুটেজ। ঝাপসা আলো, দ্রুত চলা ছায়া, গাড়ির গতি, শরীরের ভঙ্গি–সবকিছু আলাদা করে খতিয়ে দেখা হয়। পুলিশ সুপার মো. মারুফত হুসাইনের নির্দেশনায় ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ দল মাঠে নামে। নেতৃত্বে ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সুশান্ত চন্দ্র রায়; তত্ত্বাবধানে সহকারী পুলিশ সুপার (ডি সার্কেল)। তদন্তকারীরা বলেন, প্রযুক্তি কখনও কখনও নীরব সাক্ষীর চেয়েও বেশি কথা বলে।

পরে পাবনা, সিরাজগঞ্জ, ঢাকা ও গাজীপুরে টানা তিন দিনের অভিযান চালানো হয়। ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে চারজন এবং গাজীপুরের কাশিমপুরের এনায়েতপুর এলাকা থেকে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন –রুবেল রানা (২৭), মানিক (২৮), ইব্রাহিম (২৫), শফিকুল ইসলাম (২৫), সাইমুন আমিন শুভ (২৬) ও সোহাগ মিয়া (২২)। পুলিশের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আইনত অভিযুক্ত, দোষী নন–এ নীতিই ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার ভিত্তি। এই ঘটনার আরেকটি দিকও আছে। গ্রামবাংলার প্রান্তিক শিল্পকারখানাগুলো এখন শুধু উৎপাদনের জায়গা নয়, অপরাধচক্রের নজরেও পড়ছে। রাতের পাহারাদাররা প্রায়ই থাকেন স্বল্প বেতনে, সীমিত নিরাপত্তায়। একটি বাঁশি, একটি টর্চলাইট, আর অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই–এই তাদের প্রতিরক্ষা। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতার হওয়া ছয়জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন এবং চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে অভিযান চলছে।

গল্প এখানেই শেষ নয়। কারণ প্রতিটি ব্যর্থ ডাকাতির পেছনে লুকিয়ে থাকে আরও বড় কোনো পরিকল্পনার ছায়া। আর প্রতিটি গ্রেফতারের পর সামনে আসে এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন–অপরাধের পথ তৈরি হওয়ার আগেই কেন অন্ধগলিতে হারিয়ে যায় কিছু মানুষ?
কারখানার গেট আপাতত নিরাপদ, কিন্তু সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো অধরা।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর