
রেজাউল করিম মজুমদার, গাজীপুর
গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলায় ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাগজে-কলমে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত কার্যক্রম চালু থাকার নিয়ম থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায, বিকাল ৩টার আগেই অধিকাংশ ডিলার পয়েন্ট বন্ধ।
জানা যায়, উপজেলায় মোট ১৩টি ওএমএস ডিলার পয়েন্ট। তবে এর মধ্যে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮টি পয়েন্ট খোলা থাকে। কিন্তু উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তার দাবি, ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে প্রতিদিন ১০টি পয়েন্ট চালু থাকে যা বাস্তব চিত্রের সঙ্গে মেলে না।
সোমবার ১৩ এপ্রিল সকাল ৬টা থেকে সকাল ৮টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত অন্তত ৬টি মিনি পিকআপ ভ্যান উপজেলা খাদ্য গুদামে প্রবেশ করে। তন্মধ্যে একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-ন ১১-৪৭-৯০) অনুসরণ করে এমসি বাজারের মেসার্স সাদিকা এন্টারপ্রাইজের ডিলার পয়েন্ট পৌছালে দেখা যায়, ১ টন চাল ও ১ টন আটা বদলে ১৬ বস্তা আটা। অসঙ্গতির বিষয় জানতে চাইলে ডিলার জানান “সেখানে আগেই মজুদ থাকা বস্তার সঙ্গে মিশিয়ে মোট ৪০ বস্তা আটা ও ৩৩ বস্তা চাল পাওয়া যায়”।
গোপন ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিওতেও কম বস্তা বহনের চিত্র দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট ডিলার তা অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, ১৫ এপ্রিল সকাল ৯টা ২৮ মিনিটে খাদ্য গুদাম থেকে বের হওয়া আরেকটি পিকআপ (ঢাকা মেট্রো-ন ১৬-১৮-১২) নির্ধারিত ডিলার পয়েন্টে না গিয়ে শ্রীপুর পৌরসভার কিত্তাপুকুর পাড় এলাকায় যাত্রাবিরতি করে। সেখানে কোন ডিলার পয়েন্ট না থাকলেও গাড়ির ট্রিপল খোলার সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সংশ্লিষ্টরা লোক জড়ো করার চেষ্টা করলে মব আতঙ্কে সাংবাদিকরা তড়িঘড়ি করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এরপর সকাল ১০টা ১৮ মিনিটে ভাংনাহাটি নতুন বাজার পয়েন্টে পৌঁছালে সেটি বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং ভোক্তাদের বিভিন্ন অভিযোগ করেন। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর কার্যক্রম শুরু হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ডিলার রাসেল মন্ডল জানান, তিনি কোনো অনিয়ম করছেন না। এবং সব কার্যক্রম সঠিকভাবে হচ্ছে।
সার্বিক বিষয়ে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ কামাল উদ্দিন সরকার বলেন, গুদাম থেকে সরাসরি পয়েন্টে গাড়ি যাওয়ার কথা। আপনার তথ্য সঠিক হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পয়েন্ট বন্ধ থাকার বিষয়ে তিনি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে সাময়িক বিড়ম্বনা হয়েছে।
এবিষয়ে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ শফি আফজালুল আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা পরিদর্শনে গেলে অনিয়ম কমে যায়। অভিযোগগুলো যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দরিদ্র মানুষের জন্য নির্ধারিত ওএমএস পণ্যে অনিয়ম ও গাফিলতির কারণে তারা ন্যায্য সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত তদন্ত ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।