April 23, 2026, 2:48 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুর কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের শপিং কমপ্লেক্স, সংকুচিত সদস্যপদ আর বিস্তৃত ক্ষমতার এক অনুসন্ধান গাজীপুরে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি বন বিভাগের গেজেট থেকে অবমুক্তি প্রয়োজন রামুতে গাঁজাসহ দম্পতি আটক কাজের প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ, ৭ দিন পর ৩ যুবক উদ্ধার হিলিতে আধিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এসএসসি’র দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান মরিচের লাল রং মুছে গেলে যা থাকে এক্সিম ব্যাংকের প্রতারণার শিকার জামাল কন্সট্রাকশন কোম্পানির প্রোপাইটর ভোলায় গৃহবধূর মৃত্যু, শিশুর তথ্যে আটক ১ বাঙ্গালহালিয়া ছাগলখাইয়াতে শ্মশানের পাশে পড়ে ছিলো নবজাতক শিশু, উদ্ধার করল পথচারী যশোরে মাদকসহ ৫ কারবারি আটক

অনুমোদন ছাড়াই শিক্ষার্থী ভর্তির কারণ খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্নের ২১ শিক্ষার্থীকে আইনজীবীর পরীক্ষায় সুযোগ দিতে হাইকোর্টের রুল

 

mostbet

খুলনা প্রতিনিধি(শিশির রঞ্জন মল্লিক)-

খুলনার বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ২১ শিক্ষার্থীকে আইনজীবী তালিকাভুক্তির পরীক্ষায় অংশ নিতে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের অনুমতি কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আইন সচিব, বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান, সচিব ও নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটিসহ সাতজনকে তিন দিনের মধ্যে এ রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালত আগামী ৫ নবেম্বর মঙ্গলবার এ রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানির দিন ধার্য করেছেন। গত মঙ্গলবার ২১ শিক্ষার্থীর করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শেখ হাবিব-উল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।রিটের নথিতে উল্লেখ করা হয়, ২০১২ সালে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গাস্থ বেসরকারি নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি কার্যক্রম শুরু করে। এরপর ২০১৩ সালের ২৭ নবেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) এলএলবি (স্নাতক) প্রোগ্রামের অনুমোদন দেয়। কিন্তু এলএলবি (স্নাতক) প্রোগ্রামের অনুমোদন পাওয়ার আগেই নর্থ ওয়েস্টার্ন কর্তৃপক্ষ নিয়ম বহির্ভুতভাবে স্থানীয় কিছু পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু করেন। স্প্রিং -২০১৩ তে ৬ জন ভর্তি হলেও পাশ করেন ৪ জন, সামার-২০১৩ তে ৮ জন ভর্তি হলেও পাশ করেন ৫ জন ও ফল-২০১৩ তে ২১ জন ভর্তি হলেও পাশ করেন ১৭ জন। এর মধ্যে বার কাউন্সিলে পরীক্ষা দেয়ার জন্য তিন ব্যাচ থেকে মোট ২১জন ২০১৭ ও ২০১৮ সালে বিভিন্ন সময় ইন্টিমেশন (আবেদন) জমা দেন। আবেদন জমা দেয়ার প্রায় দুই বছর পর এসে গত সেপ্টেম্বর মাসে বার কাউন্সিল জানিয়ে দেন-‘এই তিন সেমিস্টারকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনের আগে ভর্তির কারণে স্নাতক উত্তীর্ণ হলেও এই ২১ জনকে রেজিস্ট্রেশন কার্ড ও ফরম পূরণের সুযোগ দেয়া হবে না। এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই শিক্ষার্থীরা এই রিট করেন।রিটকারী শিক্ষার্থীরা আবেগে আপ্লুত হয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এলএলবি পড়ার মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে বার কাউন্সিল পাশ করে আইনজীবী হওয়া।

 

কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের ভুল ও বার কাউন্সিলের কিছু নীতিমালার কারণে আমাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা এখন প্রায় অনিশ্চিত। বর্তমানে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়, বার কাউন্সিল ও হাইকোর্টে ছোটাছুটি করছি নিজেদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে, যেটা আমাদের করার কথাই ছিল না। আমাদের জীবন এখন অনিশ্চিত। এই অনিশ্চয়তায় আমাদের অভিভাবকরা আরো বেশি উদ্বিগ্ন। আমরা ¯œাতক পাশ করে আড়াই বছর অপেক্ষায় ছিলাম, বার কাউন্সিলের কাঙ্খিত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করার জন্য। এতো অপেক্ষার পরও আমরা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারছি না। যে টা আমাদের কাছে আত্মহত্যার সামিল। যদি সত্যিই কোন কারণে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে না পারি, সে ক্ষেত্রে আমাদের লক্ষ্য ও পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে। তখন আমাদের জীবনের দায়-দায়িত্ব কে নেবে ? কোথায় গিয়ে দাড়াবো আমরা। কি হবে আমাদের ভবিষ্যৎ। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ২০১৬ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবি (¯œাতক) শিক্ষার্থীদের ভর্তি ব্যাপারে হাইকোর্ট একটি নীতিমালা প্রদান করেন। সেখানে স্পষ্ট উল্লেখ আছে যে, কোন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতি সেমিস্টারে ৫০ এর অধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করতে পারবেনা। কিন্তু নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি এই নীতিমালা অনুসরণ না করে একাধিক সেমিস্টারে ৫০ এর অধিক শিক্ষার্থীকে ভর্তি করেছে। এর ফলে এসব শিক্ষার্থীরাও অদূর ভবিষ্যতে একই সমস্যার সম্মুর্খীন হতে পারে বলে শিক্ষার্থীরা আশংকা প্রকাশ করেন।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও এতে তারা কোন কর্ণপাত করছেন না। সিনিয়রদের ঢাকা-খুলনা করার এই দৌড়াদৌড়ির বিষয়টা দেখে আমরা শঙ্কিত। আমাদের শিক্ষাজীবনের দিকে তাকিয়ে কর্তৃপক্ষ জরুরী ভিত্তিতে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানান। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিষ্টার মো. শহিদুল ইসলাম হাইকোর্টে রিটের কথা স্বীকার করে বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেয় ১৮-১১-২০১২ তারিখে। বিগত ২৬-১২-২০১২ তারিখে বিশ^বিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনে এলএলবি সহ অন্যান্য প্রোগ্রামের সিলেবাস অনুমোদনের আবেদন করা হয়। সিলেবাসের জন্য ফি বাবদ ৩,২৫,০০০/-(তিন লক্ষ পঁচিশ হাজার) টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে মঞ্জুরী কমিশনে জমা দেয়া হয়। এই একই পত্রে কমিশনকে জানানো হয় যে, আগামী স্প্রীং-২০১৩ অর্থাৎ জানুয়ারী, ২০১৩ থেকে বিশ^বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা হবে। বিশ^বিদ্যালয়ের এই পত্র মঞ্জুরী কমিশন অফিশিয়ালি রিসিভ করেন।কিন্তু মঞ্জুরী কমিশন অনুমতি দেয়া বা না দেয়া কোনটাই বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেনি। এই অবস্থায় বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এটাকে মঞ্জুরী কমিশনের সম্মতির নিদর্শন বলে ধরে নিয়েছেন এবং জানুয়ারী, ২০১৩ থেকেই ছাত্র-ছাত্রী ভর্তিসহ শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।এছাড়া ইতোপূর্বে নিয়মিতভাবে প্রত্যেক সেমিস্টারে আইন বিভাগ এর ভর্তি তালিকা, গ্রাজুয়েট তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে জমা দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কখনই কোন সমস্যার কথা বার কাউন্সিল থেকে বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়নি।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর