June 19, 2024, 10:53 pm

সংবাদ শিরোনাম
সিসিটিভির আওতায় উলিপুরঃ সম্মানিত নাগরিকদের নিরাপত্তায় পুলিশের এই প্রচেষ্টা সরিষাবাড়ীতে ৪ হাজার ব্যক্তির মাঝে এমপির চাল বিতরণ চিলমারীতে পৈ‌ত্রিক সম্প‌তি নি‌য়ে বি‌রো‌ধের জের ধ‌রে প্রায় ১৪ বছরের পুরোনো কবর ভেঙে ফেলার অভিযোগ গাজীপুর কালিয়াকৈর চান্দ্রায় ঈদ যাত্রার যাত্রীদের দুর্ভোগ কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে বোতলনোজ প্রজাতির মৃত ডলফিন উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার গান কমান্ডার গ্রেফতার ফরিদপুরের নগরকান্দার চাঞ্চল্যকর “ক্লুলেস ডাকাতি” ঘটনার মূলহোতা দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার রবিজুল শেখ’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ রংপুরের পীরগঞ্জে ইয়াবা, জুয়ারী,ও ওয়ারেন্টের আসামী সহ ৮জনকে আটক করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে জনসচেতনতা মূলক আলোচনা সভা জৈন্তাপুরে চিকনাগুল বাজারে অবৈধ পশুর হাট, সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা : বকেয়া পরিশোধ ছাড়া চামড়া বিক্রি করবে না আড়তদাররা

ট্যানারি মালিকদের কাছে পাওনা প্রায় ৪০০ কোটি টাকা

বকেয়া পরিশোধ ছাড়া চামড়া বিক্রি করবে না আড়তদাররা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

পাওনা টাকা পরিশোধ না করলে এবার ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদাররা চামড়া বিক্রি করবে না বলে জানিয়েছে পোস্তার কাঁচা চামড়ার আড়তদাররা। গতকাল শনিবার রাজধানীর লালবাগের পোস্তায় আড়তদারদের পক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান কাঁচা চামড়া আড়তদারদের সংগঠন বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড স্কিন মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএইচএসএমএ) সভাপতি দেলোয়ার হোসেন। এসময় সংগঠনের সেক্রেটারি হাজী মো. টিপু সুলতানসহ অন্যান্য নেতা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় আড়তদারদের সভা শুরু হয়।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের প্রায় ৪০০ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। এ টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত ট্যানারি মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করবো না। সভায় আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আগামীকাল (আজ) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ট্যানারি মালিক, আড়তদার ও কাঁচা চামড়া সংশ্লিষ্টদের বৈঠক আছে। সেখানে আলোচনার পর আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আজকে (গতকাল) চামড়া বিক্রি করার কথা থাকলেও আমরা এখন থেকে আর বিক্রি করব না।

ট্যানারি মালিকদের কারণে চামড়ার দাম কমেছে অভিযোগ করে আড়তদারদের এ নেতা বলেন, ট্যানারিগুলো বকেয়া টাকা না দেয়ায় এবার অর্থের অভাবে চামড়া কিনতে পারিনি। অন্যান্য বছর ঈদের আগেরদিন আড়তদারদের সঙ্গে আলোচনা করলেও এবার তারা কোনো কথা বলেনি। তারা যদি আমাদের আশ্বস্ত করত ন্যায্য দামে চামড়া কিনতে তাহলে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হতো না। কিন্তু এটি না করে উল্টো মিডিয়ার কাছে নানা কথা বলেছেন। এ কারণে আরও দর কমেছে। তাই ট্যানারি মালিকরাই এ পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন।

প্রসঙ্গত, এবার কোরবানির পশুর চামড়া নিয়ে নৈরাজ্য চলছেই। কোরবানিদাতাদের দেড়-দুই লাখ টাকার গরুর চামড়া পানির দামে কেনেন ব্যবসায়ীরা। আবার অনেক চামড়া বিক্রি না হওয়ায় পচে নষ্ট হয়েছে। এবারের কাঁচা চামড়ায় বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ দরপতন হয়। অনেক ব্যবসায়ী বিনা মূল্যেও চামড়া সংগ্রহ করেনি। এমন অবস্থায় বিপাকে পড়েন মৌসুমী ব্যবসায়ী ও বহু মাদ্রাসা এবং এতিমখানা।

এর বাইরে রয়েছে সিন্ডিকেট করে ফায়দা লোটারও অভিযোগ। এ নিয়ে আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা দু’পক্ষই পল্টাপাল্টি অভিযোগের তীর ছুড়ছে। আর তাই সমস্যা নিরসনে দু’পক্ষকে নিয়ে আজ রোববার বৈঠকে বসতে যাচ্ছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এদিকে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাঁচা চামড়া রফতানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এরপরেই নড়েচড়ে বসে ট্যানারি মালিকরা। দেশীয় শিল্প রক্ষায় কাঁচা চামড়া রফতানির ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

উল্লেখ্য, এবারও পবিত্র ঈদুল আজহার আগে সরকার ও ব্যবসায়ীরা মিলে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয়। এবার ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৪৫-৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। গতবছরও প্রতি বর্গফুটের দাম একই ছিল। ২০১৭ সালে প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ছিল ঢাকায় ৪৫-৫৫ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০-৪৫ টাকা। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকায় সংগ্রহ করতে বলা হয় ব্যবসায়ীদের। গতবার খাসির চামড়ার দামও ছিল একই। তবে ২০১৭ সালে খাসির চামড়ার দাম ছিল প্রতি বর্গফুট ২০-২২ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫-১৭ টাকা। সাভারে ট্যানারি স্থানান্তর, রফতানি আদেশ কমে যাওয়া ও অর্থ সংকটের কারণে এ বছর চামড়ার দাম কমানোর সুপারিশ করেছিল কাঁচা চামড়ার ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকরা। এসব বিবেচনায় সরকার দাম না বাড়িয়ে আগের মূল্য নির্ধারণ করেছিল।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর