মা’কে বিয়ে করতে মেয়েকে অপহরণ!
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক
ঢাকা থেকে বরিশালে যাওয়ার সময় যাত্রীবাহি লঞ্চে বসে পরিচয়ের সূত্র ধরে মা’কে বিয়ে করতে তার ছয় বছরের কন্যা শিশুকে অপহরণ করেছে নুর ইসলাম নামের এক অপহরনকারী। ঘটনার চারদিন পর বরিশালের কাউনিয়া থানা পুলিশের অভিযানে শরীয়তপুর থেকে অপহৃতা শিশু শিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল মনিবার দুপুরে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ আগস্ট ঢাকা থেকে লঞ্চযোগে মা পারভীন আক্তারের সাথে বরিশাল নগরীর বেলতলা চরআবদানি মামার বাসার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয় শিশু শিলা। লঞ্চে বসে নুর ইসলাম (৩৫) নামের ওই অপহরণকারীর সাথে পরিচয় হয় শিলার মা পারভীনের। লঞ্চে বসে শিশু শিলাকে বিভিন্ন খাবার ক্রয় করে দেয় নুর ইসলাম। বরিশাল ঘাটে আসার পর নুর ইসলাম তাদের বাসায় পৌঁছে দেয়ার জন্য অটো রিকসাযোগে বেলতলায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে নুর ইসলাম পারভীনের কাছে ভাড়া ও লঞ্চে খাওয়ানো বাবদ টাকা দাবি করে। এ সময় পারভীন তাকে তার ভাইয়ের বাসায় নিয়ে যায় এবং দাবীকৃত টাকা পরিশোধ করে। কিন্তু অপহরণকারী নুর ইসলাম তাকে বিয়ে করবে বলে জানিয়ে সেখানেই বসে থাকে। একপর্যায় পারভীন শিশু শিলাকে বাসায় রেখে পাশের বাসায় যাওয়ার সুযোগে নুর ইসলাম শিশু শিলাকে খাবার ক্রয় করে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কৌশলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পারভীন বেগম জানান, ১০ মিনিট পরেই নুর ইসলাম তাকে ফোন করে হুমকি দিয়ে বলে, আমার সাথে বিয়ে না বসলে তোমার মেয়েকে হত্যা করা হবে। এরপর থেকে নুর ইসলাম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে। পরে সন্ধ্যার কাউনিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোঃ জাহাঙ্গীর মল্লিক জানান, মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে অপহরনকারী নুর ইসলামের অবস্থান শরীয়তপুরে বলে নিশ্চিত হয়ে থানার একদল পুলিশ শরীয়তপুরে ছদ্মবেশে সম্ভাব্য এলাকায় অভিযান চালায়। এরইমধ্যে গত ৮ আগস্ট দুপুরে পুনরায় অপহরণকারী নুর ইসলামের মোবাইল ফোনে পারভীন তাকে বিয়ে করার কথা জানায়। ওইসময় পারভীনকে শরীয়তপুর বাসস্ট্যান্ডে আসতে বলে নুর ইসলাম। সেখানে গিয়েও তাকে (নুর ইসলাম) পাওয়া যায়নি। প্রায় দুই ঘন্টা পর নুর ইসলাম ফোন করে পারভীনের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করে। দাবীকৃত টাকা না দিলে শিশু শিলাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয়। কৌশলে নুর ইসলামকে পাঁচ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পরিশোধ করার পর পরই চতুর নুর ইসলাম মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখে। তবে অপহরণকারী নুর ইসলামের ব্যবহৃত মোবাইল সিমটির রেজিষ্ট্রেশন না থাকায় তার পূর্ণ পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি। উপ-পুলিশ কমিশনার আরও জানান, পরবর্তীতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অপহরণকারীর মামা শ্বশুর বাবুল মোল্লাকে আটক করে তাকে সাথে নিয়ে শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানা পুলিশের সহায়তায় টানা তিনদিন তল্লাশী চালিয়ে দাসের জঙ্গল গ্রামে অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার বিকেলে অপহৃতা শিশু শিলাকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, অপহরণকারী নুর ইসলাম পুলিশের তৎপরতা টের পেয়ে শিশু শিলাকে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে। গোসাইরহাট গ্রামে অভিযানে গিয়ে পুলিশ জানতে পেরেছেন অপহরণকারী এরপূর্বে দুটি বিবাহ করলেও সেখানে তার নাম নুর ইসলাম ব্যবহার করলেও পিতা-মাতা কিংবা ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ করেনি। এ ঘটনায় অপহৃতা শিশু শিলার মা পারভীন বেগম গতকাল মনিবার সকালে বাদি হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন।