April 13, 2026, 8:35 pm

সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

শেরপুরে ঘর পাচ্ছেন গণহত্যায় বেঁচে থাকা ৩২ বিধবা

শেরপুরে ঘর পাচ্ছেন গণহত্যায় বেঁচে থাকা ৩২ বিধবা

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযোদ্ধে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নের সোহাগপুর গণহত্যায় বেঁচে থাকা ৩০ বিধবা নারীর জন্য সরকারি বরাদ্দে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ২৪ জানুয়ারী বুধবার থেকে এই নির্মাণ করা শুরু হয়েছে। বেঁচে থাকা নারীরা এই ঘর পেয়ে সরকারের প্রতি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী কার্যালয় ও সোহাগপুর শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালের ২৫ জুলাই পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ও দেশিয় রাজাকার সোহাগপুর গ্রামে গণহত্যায় ১৮৭ জন নিরিহ মানুষকে হত্যা করে। এ সময় ৬২জন নারী বিধবা হন। এদের মধ্যে নির্যাতনের শিকার ৬ নারীকে গত বছর সরকার নারী মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়েছেন। আরো ১২ নারীকে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিতে যাচাই-বাছাই চলছে। বর্তমানে বেঁচে আছেন ২৯ জন নারী। গণ হত্যায় এইসব নারী স্বামী-স্বজন হারিয়েছেন এবং নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। সোহাগপুর বিধবা পল্লীর প্রত্যেক নারীকে প্রতিমাসে ট্রাস্ট ব্যাংক থেকে দুই হাজার, বেসরকারি সংগঠন ব্র্যাক থেকে ৪০০ ও সরকারি বিধাব ভাতা হিসেবে ৫০০ টাকায় পেয়ে থাকেন। এদের মধ্যে সাত নারীর নিজস্ব জমি ও বাড়ি ঘর না থাকায় আত্মীয়স্বজন ও অন্যে বাড়িতে বসবাস করেন। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রানালয়ের ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্প’ মাধ্যমে সোহাগপুর গ্রামের গণহত্যায় স্বামী- স্বজন হারানো ও নির্যাতনের শিকার ৩০ নারী জন্য ঘর বরাদ্দ করা হয়েছে। দরপত্রের মাধ্যমে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩০টি ঘর নিমার্ণে কাজের দায়িত্ব পেয়েছে। ঘর নির্মানের কাজের তত্বাবধান করছে এলজিইডি। একটি বাড়ির জন্য দুইটি থাকার কক্ষ,একটি রান্নার কক্ষ,একটি পশুপাখি রাখার ঘর ও পাশে নলকুপ ও শৌচাগার নির্মানের জন্য ৮ থেকে প্রায় ৯ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ঘর লাল ও সবুজ রঙে তৈরি করা হবে। ঘর দেখলেই বুঝা যাবে এটা সরকারি অনুদানে মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়ি। জবেদা বেওয়া বলেন, গণ হত্যায় স্বামী সহ ৪ জনকে হারাইছি। রোজগারে কেও না থাহুনের মানুষের বাড়িতে কাম কইরা দিন চালাইছি। বাড়িগর না থাহুনে এক আতœীয় বাড়িতে থাকছি। গনহত্যায় বিচার পাইছি। নারী মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইছি। অহন আমগরে থাহুনের লাইগা সরকার ঘরের ব্যবস্থা করছে। এতে আমগর কত খুশি ও আনন্দ বইলা বুঝাবার পাইতাম না। সোহাগপুর শহীদ পরিবার কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো.জালাল উদ্দিন বলেন, ৩০ জন নারীর মধ্যে সাত জন্য নারীর কোন ভিটামাটি নাই। অন্যের বাড়িতে থাকেন। নির্যাতনের শিকার ৬ জনকে নারী মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। বাকিদেও যাচাই-বাছাই চলছে। অহন ৩০ জনকে একটি কইরা বাড়ি নির্মান করা হইতেছে। এই অসহায় মানুষ গুলোর বাড়ি নির্মান করে দেওয়ায় তারা দারুন খুশি। আমাদের পক্ষ থেকে সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। কাকরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদ উল্লাহ তালুকদার বলেন, বিধবা পল্লীর এই মহান মানুষদের জন্য ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এদের বাসস্থানের ব্যবস্থা হওয়ায় ৩০ জন নারীর পরিবারসহ এলাকাবাসী সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রানালয়ের ‘মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন প্রকল্প’ মাধ্যমে সোহাগপুর গণ হত্যায় স্বামী-স্বজন হারা, নির্যাতিত ও মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়া ৩০ বিধবার নারীর জন্য ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। এলজিইডির তত্বাবধানে চারটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজের বাস্তবায়ন করবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর