April 8, 2026, 11:45 am

সংবাদ শিরোনাম
নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল

নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ

mostbet

হারুন-অর-রশিদ বাবু (রংপুর)
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কান্দিরহাট স্কুল এন্ড কলেজের সাময়িক বরখাস্ত কৃত সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারীর বিরুদ্ধে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করতে মিথ্যাচার ও অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে। একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে নিজের অপরাধ আড়াল করতেই তিনি বিভিন্ন দপ্তর ও গনমাধ্যমে ভুল তথ্য সরবরাহ করছেন অভিযুক্ত রফিকুল বারী।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান গত ২৩ মার্চ অবসরে যান। ২০২৪ সালের পরিপত্র এবং ২০২৫ সালের নীতিমালা অনুসরণ করে জ্যেষ্ঠ শিক্ষক ইসা খাঁনকে ২৪ মার্চ ম্যানেজিং কমিটি ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেন।
সদ্য বিদায়ী প্রধান শিক্ষক এবিএম মিজানুর রহমান জানান, “শতভাগ বৈধ প্রক্রিয়ায় ইসা খাঁনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারী ও কয়েকজন শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের সম্মান নষ্ট করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।”
সহকারী প্রধান শিক্ষকের বরখাস্তের কারণ
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৭ জুলাই সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পাওয়া রফিকুল বারী যোগদানের পর থেকেই ছিলেন বেপরোয়া। ক্লাস ফাঁকি দেওয়া এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই গত ১১ থেকে ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত অনুপস্থিত থাকায় তাকে পরপর দুইবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তৃতীয় নোটিশ গ্রহণে অস্বীকৃতি জানানোয়, গত ৭ মার্চ ম্যানেজিং কমিটির জরুরি সভায় তাকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ১৪ মার্চের সভায় কার্যকর করা হয়।
ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মো. নাজমুল হক খাঁন জানান, বিধি অনুযায়ী বরখাস্ত অবস্থায় রফিকুল বারীকে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ নেই। অন্যদিকে, অপর সিনিয়র শিক্ষক নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ এবং শিক্ষাজীবনের একাধিক (এসএসসি ও স্নাতক) তৃতীয় বিভাগ থাকায় নীতিমালা অনুযায়ী তাকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান করা সম্ভব হয়নি।
প্রতিষ্ঠান সুত্রে জানাযায় গত ২৪ মার্চ জেলা শিক্ষা অফিসার বরাবর চারজন ব্যক্তিকে বাদী সাজিয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়। তবে অভিযোগে স্বাক্ষর থাকা লিমন তোকদার, পরিতোষ বর্মন ও আতাউর রহমান বিস্ময় প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, তারা এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। কে বা কারা তাদের নাম ব্যবহার করে এই মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তাঁরা।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইসা খাঁন বলেন, “আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছি। কিন্তু রফিকুল বারী আমার ও প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে ভুয়া অভিযোগ দিয়ে বেড়াচ্ছেন। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
সিনিয়র সহকারী শিক্ষক নুরুল ইসলাম (ইসলাম ধর্ম) বলেন, আমার নামে দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা! কারাবরণ ও শিক্ষা সনদের বিষয় জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন এটি মিমাংসিত বিষয়, আপনি এটা নিয়ে কথা বলতে পারেন না।

এ বিষয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক রফিকুল বারী বলেন, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে, আমার প্রধান শিক্ষকের মৌখিক অনুমতি নিয়ে কৃষি অফিসে তিন দিনের প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেছিলাম, পরবর্তীতে তিনি আমাকে দুইটি কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর তৃতীয়টি না দিয়েই আমাকে সাময়িক দরখাস্ত করেন। তিনি আরো বলেন, আমি কোন দালালি করি না আমার কোন অনিয়ম নেই, আমি স্কুলে নিয়মিত যাতায়াত করি আমি একাডেমিক সাইট দেখাশোনা করি।

এবিষয়ে জানতে, রংপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ এনায়েত হোসেনকে
একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেনি। অফিসে গিয়ে জানাগেছে তিনি আজ রংপুরের কোন এক উপজেলায় অফিস করছেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর