April 9, 2026, 6:36 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সরকার চাষী ও ব্যবসায়ীর ক্ষতি এড়াতে অতিরিক্ত আলু রফতানির বাজার খুঁজছে

সরকার চাষী ও ব্যবসায়ীর ক্ষতি এড়াতে অতিরিক্ত আলু রফতানির বাজার খুঁজছে

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

দেশে চাহিদার বেশি আলু উৎপাদন হওয়ায় প্রতি বছরই বিপুল পরিমাণ আলু নষ্ট হচ্ছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে চাষী ও ব্যবসায়ীরা। এমন পরিস্থিতিতে দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত আলু রফতানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেজন্য বিদেশে বাজার সন্ধান করা হচ্ছে। কোন কোন দেশে বাংলাদেশের আলুর চাহিদা রয়েছে তা জানারও চেষ্টা চলছে। আর তা জানাতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের সব মিশনগুলোকে নির্দেশ দেয়া হবে। যদিও অতীতে এ ধরনের উদ্যোগ বার বার নেয়া হয়েঝে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তবে সরকার চেষ্টা করছে ক্ষতির মুখে পড়ে যাতে আলু চাষে কৃষকরা নিরুৎসাহিত না হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে প্রতিবছর আলুর চাহিদা ৮০ লাখ মেট্রিক টন। গতবছর দেশে এক কোটি ১৩ লাখ টান আলু উৎপাদিত হয়েছে। বর্তমানে দেশের ৩৮০টি কোল্ড স্টোরেজে মজুদকৃত আলুর পরিমাণ ১৫ থেকে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। ইতিমধ্যে বাজারে নতুন আলু আসতে শুরু করেছে। আশা করা যাচ্ছে এ বছরও দেশে এক কোটি মেট্রিক টনের বেশি পরিমাণ আলু উৎপাদন হবে। এমন অবস্থায় লোকসানের ভয়ে কৃষকরা কোল্ড স্টোরেজের মজুদকৃত আলু বাইরে আনতে পারছে না। এমনকি তারা কোল্ড স্টোরেজের কাছেই যায় না। প্রতি কেজি আলুর উৎপাদনসহ কোল্ড স্টোরেজে রাখার খরচ ১৪ টাকা হলেও দেশের উত্তরবঙ্গে এখন বিক্রির জন্য ব্যবসায়ীরা দাম বলছে ৬০ কেজি আলুর বস্তা ৩০ টাকা। অথচ রাজধানীসহ শহরাঞ্চলে আলু বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে। নতুন আলুর চড়া দামের সুযোগে পুরনো আলুর দামও ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০১৭ সালে সারাবছরই আলুর দাম ২০ টাকার ওপরে কেনাবেচা হয়েছে। অথচ খুচরা বাজারে এক কেজি আলুর দাম সর্বোচ্চ ১৫ টাকা হওয়ার কথা নয়। কোল্ড স্টোরেজ মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার কারণেই খুচরা পর্যায়ে আলুর দাম বেশি হচ্ছে। আর তাদের অতি মুনাফার দায় বহন করতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

সূত্র জানায়, এখন পর্যন্ত কোল্ড স্টোরেজগুলোতে ৫৩ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। যার ৪৫ শতাংশই কম দামে বিক্রি করা হয়েছে। আর এখন পর্যন্ত অবিক্রিত ২৯ লাখ টন আলু থেকে ১০ লাখ টন বীজ বের হবে। বাকি ১৯ লাখ টন আলু থেকে মৌসুমের আগে ৪ লাখ টন বিক্রি হতে পারে। তারপরও ১৫ লাখ টন আলু বিক্রি হবে না। এমন অবস্থায় ওই অবিক্রিত আলু কোল্ড স্টোরেজের বাইরে এনে ফেলে দেয়া ছাড়া বিকল্প দেখা যাচ্ছে না। তাতে প্রতি বস্তা আলু ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে প্রায় ২ হাজার ৬২৫ কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। আর একই দরে সংরক্ষণ করা ৩৮ লাখ টন আলু ৭০০ টাকা বস্তা হিসেবে বিক্রিতে লোকসান হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩২৫ কোটি টাকা। তাতে কৃষকদের মোট লোকসান হচ্ছে ৫ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা। ওই লোকসান ঠেকাতে এ্যাসোসিয়েশন নেতারা আলু রফতানির উদ্যোগ বাড়ানোর কথা বলছেন।

সূত্র আরো জানায়, বিগত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে আলু রফতানিতে দেশের আয় হয়েছিল ৩ কোটি ৩৮ লাখ ডলার। আর চলতি ২০১৬-১৭ অর্থবছর বাংলাদেশ থেকে আলু রফতানি হয়েছে প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার। আলু সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় মালয়েশিয়ায়। তাছাড়া সিঙ্গাপুর, শ্রীলঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ব্রুনাই, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি হয়। আর আলু রফতানিতে সরকার কয়েক বছর ধরেই ২০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দিয়ে আসছিল। তবে বিগত ২০১৬ সালে তা কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়। এখন আবার নগদ সহায়তা ২০ শতাংশ করা হয়েছে। অবশ্য কৃষি বিশেষজ্ঞরা অবশ্য সরাসরি আলুর ব্যবহার ও প্রক্রিয়াজাত করে রফতানি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তাদের মতে, সেটি করতে পারলে কৃষকের লোকসান কমানো সম্ভব। ওই ক্ষেত্রে রফতানিযোগ্য জাত উদ্ভাবন করে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগ। আলু তো আর সরকার রফতানি করবে না। ব্যবসায়ীদেরই আলু রফতানির উদ্যোগ নিতে হবে। তাদেরই নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতে হবে। এক্ষেত্রে কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা আলু রফতানির উদ্যোগ নিতে পারে। কারণ তারা নিজেরাও ব্যবসায়ী। আর আলু হচ্ছে কৃষি পণ্য। বাজারে সব সময় কৃষি পণ্যের দাম উঠানামা করে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে, আর সরবরাহ কমলে দাম বাড়ে। কোল্ড স্টোরেজগুলোতে যদি এতো আলুই মজুদ থাকে তাহলে গত বছর ভোক্তাদের ৩০ টাকা দরে আলু খেতে হলো কেন? বিশেষ করে, বন্যার সময় সবজি সঙ্কটের সময় কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা আলুর দামও বাড়িয়ে দেয়। ফলে প্রায় ৪ মাস সময় ধরে ৩০ টাকা দরে ভোক্তাদের আলু খেতে হয়। দাম বৃদ্ধির কারণে তখন চাহিদাও কমে যায়। অথচ ওই সময় তারা আগের দাম আলুর সরবরাহ বাড়িয়ে দিলে এখন কোল্ড স্টোরেজগুলোতে এতো আলুর মজুদ গড়ে উঠত না। গত বছরের মতো, নতুন আলু উঠার পরপরই পুরনো মজুদ ফুরিয়ে যেতো।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ জানান, অতীতে বাংলাদেশ থেকে আলু রফতানির হতো। বিশেষ করে রাশিয়ায়। একই সঙ্গে শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও বাংলাদেশী আলুর চাহিদা রয়েছে। কিন্তু আলুতে ব্রাউন রোড ডিজিস নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া ধরা পড়ায় রাশিয়া আলু নেয়া বন্ধ করে দেয়। রাশিয়ার সেই আপত্তি নিরসন করা হয়েছে। এখন বাংলাদেশে উৎপাদিত আলু সব ধরনের ব্যাকটেরিয়া মুক্ত। বাংলাদেশ কৃষি বিভাগ এখন ব্যাকটেরিয়া মুক্ত আলু উৎপাদন করছে। বিষয়টি রাশিয়াকে ইতোমধ্যে জানানো হয়েছে। এখন রাশিয়া বাংলাদেশের আলু নেয়ার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ থেকে এক লাখ মেট্রিক টন আলু রাশিয়ায় রফতানির কথা ভাবছে সরকার।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর