বিকৃতি রোধে প্রতিটি নাগরিককে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জানাতে হবে: রাষ্ট্রপতি
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাসের বিকৃতি রোধে তা প্রতিটি নাগরিককে জানানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোলার ফাতেমা খানম ডিগ্রি কলেজ মাঠে এক সুধী সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, যারা নিজের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের জন্য স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, তাদের উপযুক্ত সম্মান জানাতে হবে। তারা যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, তা অর্জনে সকলকে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাতে হবে। মাত্র এক মাস আগে আমরা ৪৭তম বিজয় দিবস উদযাপন করেছি। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী চক্র এখনও তাদের চক্রান্ত অব্যাহত রেখেছে। সুযোগ পেলেই ষড়যন্ত্রকারীরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করতে উঠেপড়ে লাগে। অতীতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে অনেক কাঁটাছেড়া করা হয়েছে। আবদুল হামিদ বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে স্বাধীনতা বিরোধী চক্র এ দেশে ইতিহাস বিকৃতির চর্চা শুরু করে, যা এখনও অব্যাহত আছে। মিথ্যা বেশি দিন চাপা থাকে না। মিথ্যার উপর সবসময়ই সত্যের জয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্ব। নতুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তাদেরকেও আমাদের মুক্তি সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস এবং এতে কার কি অবদান ছিল তা সঠিকভাবে জানাতে হবে। আর তা করতে হলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘর প্রতিষ্ঠা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকে টেকসই ও বেগবান করতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, কারণ গণতন্ত্রই মানুষের মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন, মানবাধিকার, চিন্তা, বাক্ ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে পারে। তাই গণতন্ত্রকে অব্যাহত ও প্রতিষ্ঠানিকীকরণের জন্য দলমত নির্বশেষে সকলের সম্মিলিত প্রয়াস খুবই জরুরি। দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, রাজনৈতিক কারণে দল ও মতের পার্থক্য থাকতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এ দেশ আমাদের সকলের। তাই আগামি প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখবেন- জাঁতি তা প্রত্যাশা করে। ভোলা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ পারভীন আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। এর আগে রাষ্ট্রপতি ভোলায় স্বাধীনতা জাদুঘরের উদ্বোধন করেন।