সাত বছরে প্রায় সাত শতাধিক পত্রিকার নিবন্ধন দেয়া হয়েছে: তথ্যমন্ত্রী
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, বিগত ৭ বছরে প্রায় ৭ শতাধিক পত্রিকার নিবন্ধন দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৩১টি স্যাটেলাইট চ্যানেল, ২৮টি এফএম বেতার এবং ৩২টি কমিউনিটি রেডিও’র অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদে সরকারি দলের সদস্য আনোয়ারুল আজীম (আনার)’র এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সরকারি ৪টি টেলিভিশনের পাশাপাশি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২৮টি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, ২২টি এফএম বেতার এবং ১৭টি কমিউনিটি রেডিও’র সম্প্রচার কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সারাদেশে বর্তমানে দৈনিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক, ত্রৈমাসিক, যান্মাসিক মিলে বর্তমানে ২ হাজার ৮শ’ পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে। তিনি বলেন, এ ছাড়া সংবাদপত্রে কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট বর্তমান সরকারের সময়ে ১৬ হাজার ১জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ইনু বলেন, অপরদিকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা, উৎকর্ষ বৃদ্ধির লক্ষ্যে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট একই সময়ে ২ হাজার ২৫৫ জন সাংবাদিককে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। হাসানুল হক ইনু বলেন, একই সময়ে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট ১ বছর মেয়াদী পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা ইন ব্রডকাস্ট জার্নালিজম শীর্ষক প্রথম কোর্স সম্পন্ন করেছে। তিনি বলেন, এ ছাড়া প্রেস ইনস্টিটিউট ২ বছর মেয়াদী সাংবাদিকতায় মাস্টার ডিগ্রি কোর্স চালু করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে আর্থিক সহায়তা তহবিল থেকে দুস্থ, অস্বচ্ছল, দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ১৮১ জন, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ১৯৬ জন ও ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১৮৫ জন এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ৬১ জনকে ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য বর্তমান সরকার অষ্টম মজুরি বোর্ড বাস্তবায়ন করছে এবং ৯ম সংবাদপত্র মজুরি বোর্ড গঠনে চূড়ান্তকরণের নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের জাতীয় অনলাইন নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। সরকার সাংবাদিকদের বিশেষ অবদানের জন্য বৃত্তি প্রদান, সাংবাদিকদের মেধাবী ছেলে-মেয়েদের জন্য এককালীন বৃত্তি এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রথিতযশা প্রয়াত সাংবাদিকদের অস্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা ও তাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ ও কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর আওতায় বাতিলকৃত নিউজ পেপার এমপ্লইজ (কন্ডিশনস এ- সার্ভিসেস এ্যাক্ট-১৯৭৪, আইনটি যুগোপযোগী করে গণমাধ্যম কর্মী (চাকরির শর্তাবলী) আইন শিরোনামে পুনঃপ্রবর্তনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ যথাযথ প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের জন্য সম্প্রচার আইন-২০১৮ এর খসড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা পূর্বক মতামত প্রদান সংক্রান্ত কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। সরকারি দলের সদস্য মোহাম্মদ সুবিদ আলী ভূঁইয়ার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ইনু বলেন, শিগগিরই আরো ৬টি বিভাগে বিটিভির সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, রংপুর, বরিশাল, সিলেট, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগে সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু করার জন্য সরকার ইতোমধ্যে অবকাঠামো তৈরিসহ অন্যান্য কার্যক্রম শুরু করেছে। মন্ত্রী বলেন, পর্যায়ক্রমে ৬ ঘণ্টা থেকে ২৪ ঘন্টা এ সম্প্রচার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে বেসরকারি যে কোন টিভি চ্যানেলের তুলনায় বিটিভির দর্শকের সংখ্যা অনেক বেশি এবং এ সংখ্যা প্রায় ৮০ দশমিক ১ শতাংশ। সরকার বিটিভির দর্শক ও মান বাড়াতে বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি সংযোজন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইনু বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং ভাষা সংস্কৃতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে বিটিভি নতুন কর্মসূচি সম্প্রচারের কার্যক্রম গ্রহণ করতে যাচ্ছে। জাতীয় পার্টির সদস্য নুরুল ইসলাম ওমরের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের মানোন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় কবিরপুরে ১০৫ একর জমির ওপর বিশ্বমানের একটি বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন এফডিসির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের জন্য ৫৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে সরকার ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা অনুদান দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ ছাড়া যারা জেলা পর্যায়ে প্রেস ও মিডিয়ার কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৫১৯ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রথম পর্যায়ে ২৬টি জেলায় মাল্টিপারপাস হল বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারসহ সাংবাদিকদের জন্য মিডিয়া রুমসহ ডিজিটাল তথ্য কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।