April 10, 2026, 12:46 am

সংবাদ শিরোনাম
সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

ক্রমাগত লোকসানে চিংড়ি চাষ থেকে সরে আসছে চাষীরা

ক্রমাগত লোকসানে চিংড়ি চাষ থেকে সরে আসছে চাষীরা

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

চাষীরা চিংড়ি চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে চিংড়ির উৎপাদন ও রফতানিও কমছে। মূলত জমির ভাড়ার বেশি মূল্য, লোনাপানি তুলতে বাধা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ভাইরাস নামক রোগে চাষিদের বাগদা চিংড়িগ চাষে ক্রমাগত লোকসান গুনতে হচ্ছে।  যুক্তরাষ্ট্রে মন্দাভাবের কারণে গলদা চিংড়ির দাম অর্ধেক নেমে আসায় রফতানির পরিমাণ কমেছে। এমন পরিস্থিতিতে চিংড়ি চাষিরা আমনের বাম্পার ফলনের পর এখন ইরি-বোরো চাষেই বেশি আগ্রহী। মৎস্য অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে প্রধান চিংড়ি চাষপ্রবণ এলাকা হচ্ছে মূলত বৃহত্তর খুলনাঞ্চল। উপকূলীয় ওই এলাকায় ব্যাপক হারে গত দুই যুগ ধরেই চিংড়ি চাষ হয়। চিংড়ি চাষের কারণে ওই অঞ্চলে গত দেড় যুগে একের পর এক ফিস প্রোসেসিং কালচার, মাছ কোম্পানি, ল্যান্ডিং সেন্টার গড়ে ওঠেছে। সেখান থেকে প্রতি বছর হাজার হাজার কোটি টাকার চিংড়ি মংলা ও চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বিদেশে রফতানি হয়। কিন্তু গত অর্ধযুগে চিংড়ি চাষে প্রতিকূল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইলা ও সিডরসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চিংড়ি চাষে ধস নামে। শুরু হয় চিংড়ি ঘেরে চিংড়ি চাষের সাথে সমন্বিত ধান চাষ। ছোট ছোট চিংড়ি ঘেরে গত ৬/৭ বছর বোরো চাষে ব্যাপক সফলতা আসে। যে কারণে গত অর্ধযুগে চিংড়ি চাষিরা আবার ঝুঁকে পড়েছে ইরি-বোরো চাষে।

সূত্র জানায়, বর্তমানে সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপে বিত্তবানরা আধানিবিড় পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছে। লোনা পানি তুলতে বাধা এবং রোগ বালাইয়ের কারণে ছোট ছোট ঘেরগুলোর উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ২০১৫-’১৬ অর্থ বছরে খুলনা জেলার ৯ উপজেলায় ১৩ হাজার ৯৫৯ মেট্রিক টন গলদা এবং ১০ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন বাগদা উৎপাদন হয়। ২০১৬-’১৭ অর্থ বছরে গলদার উৎপাদন ১৩ হাজার ৬৬৭ মেট্রিক টন এবং বাগদার উৎপাদন ১২ হাজার ৪১১ মেট্রিক টন। আর জুলাই মাসে ৪ কোটি ৩৮ লাখ ৮ হাজার ডলার, আগস্ট মাসে ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮১ হাজার ডলার, সেপ্টেম্বর মাসে ২ কোটি ১০ লাখ ডলার, অক্টোবর মাসে ৩ কোটি ১১ লাখ ডলার এবং নভেম্বর মাসে ২ কোটি ৪২ লাখ ২২ হাজার ডলার মূল্যের হিমায়িত চিংড়ি বিদেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানিকারক দেশগুলো হচ্ছে নেদারল্যান্ড, বেলজিয়াম, রাশিয়া, ডেনমার্ক, সাইপ্রাস, অস্ট্রিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ইটালী, জার্মাণ, জাপান, পর্তুগাল,গ্রীস, সুইজারল্যান্ড, লিথুনিয়া, স্পেন ও পোল্যান্ড।

সূত্র আরো জানায়, চিংড়ি চাষপ্রবণ বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে বোরো ধানের চারা উৎপাদন ভালো হচ্ছে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ এবার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল তার চেয়ে শতকরা ১০/১২ ভাগ চারা বেশি উৎপাদন হয়েছে। প্রাকৃতিক পরিবেশ অনুকূলে থাকায় চারা উৎপাদনে কৃষকের মুখে এখন নতুন স্বপ্নের এবং আনন্দের হাসি। খুলনা মেট্রোসহ জেলার ৯ উপজেলায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন। ধান চাষে চাষীদের বেশি আগ্রহ চিংড়ি চাষে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ প্রসঙ্গে মৎস্য মান উন্নয়নের উপ-পরিচালক প্রফুল্ল কুমার সরকার জানান, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ইউকেতে গলদার চাহিদা কমেছে। গেল অর্থ বছরের তুলনায় চলতি অর্থ বছরের এই ক’ মাসে ১১শ’ মেট্রিক টন কম হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি গলদার দাম কমেছে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর