April 9, 2026, 12:06 am

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসুন: দাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসুন: দাতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সময়মত অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করাকে একটি ‘বড় চ্যালেঞ্জ হিসাবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, এজন্য উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে উন্নত দেশসমূহকে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। গতকাল বুধবার ঢাকার একটি পাঁচ তারকা হোটেলে আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বান আসে। পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া মোকাবিলায় প্রথাগত আর্থিক সহযোগিতার পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা যাতে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ সার্বিক বৈশ্বিক উন্নয়নে আরও বেশি অবদান রাখতে পারে- সে দিকে আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়কে আরও মনোযোগী হওয়ার তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক ওসামাজিক উন্নয়নের জন্য আমাদের সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। উন্নয়ন ফোরামের ২০১৮ সালের এই বৈঠক দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য যৌথ কর্মপন্থা নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, অমিত সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। বিশ্বের বুকে একটি গতিশীল অর্থনীতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার প্রত্যয় ও উপকরণ আমাদের রয়েছে। আগামী মার্চে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (ইউএনসিডিপি) ত্রিবার্ষিক পর্যালোচনা সভায় বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে উত্তরণের সম্ভাবনা নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, এলডিসি হিসাবে বাংলাদেশ এখন যে সুবিধাগুলো পাচ্ছে, তা বন্ধ হয়ে গেলে অর্থনৈতিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং কার্যক্ষেত্রে প্রস্তুতির মাধ্যমে তা পুষিয়ে নিতে হবে। সেই কৌশলগত প্রস্তুতি বাংলাদেশ ইতোমধ্যে গ্রহণ করছে।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে বলেন, জিডিপির ভিত্তিতে বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের ৪৪তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩২তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। অর্থনীতির বিশ্লেষকদের মতে, ২০৩০ ও ২০৫০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ জিডিপি ও ক্রয় ক্ষমতার ভিত্তিতে বিশ্বের যথাক্রমে ২৮ ও ২৩তম অর্থনীতিতে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। গড় আয়ু,  মাথাপিছু আয়, বিনিয়োগ, রেমিটেন্স প্রবাহ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমতা, নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের অগ্রগতির তথ্য প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। পাশাপাশি অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ সেবার ক্ষেত্রে উন্নয়নের পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, চলমান উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় আমরা আর্ন্তজাতিক সহযোগী দেশ ও সংস্থাসহ ব্যক্তিখাতের অংশীদারিত্বকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারি কমিশনকে একীভূত করে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছি, অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে এবং অধিকতর বৈদেশিক বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি।

তিনি বলেন, উৎপাদন জ্যামিতিক হারে বৃদ্ধি করতে পারলে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতাগুলো আংশিকভাবে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। শিক্ষা ও দক্ষতার সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে রেমিটেন্স প্রবাহ আরও বাড়ানো যায়। পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে দ্রুত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগকে উৎসাহিত করতে হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দুর্যোগ ঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ায় জলবায়ু সহিষ্ণু কৃষি কৌশল প্রবর্তনের ওপরও জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। দারিদ্র্য এবং লিঙ্গ-বৈষম্যকে তিনি নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার অন্যতম দুটি প্রধান কারণ হিসাবে চিহ্নিত করেন। বাংলাদেশের সপ্তম পঞ্চ-বার্ষিক পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার কেন্দ্রবিন্দুতে যে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে কথাও অনুষ্ঠানে বলেন। জাতিসংঘের ২০৩০ এজেন্ডা নির্ধারণের কাজ যখন প্রাথমিক পর্যায়ে ছিল, তখন আমরা সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করছিলাম। যার ফলে বিশ্ব উন্নয়ন এজেন্ডা প্রণয়নে আমরা অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছি। একই সাথে আমাদের জাতীয় পরিকল্পনায় তার প্রতিফলন ঘটাতে পেরেছি। প্রকৃতপক্ষে আমাদের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকার নির্বাচনে ২০৩০ এজেন্ডা একটি নির্দেশনা হিসেবে কাজ করছে। আমরা এই ফোরামে এজেন্ডা বাস্তবায়নে আমাদের লক্ষ্য ও কৌশল আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তার বক্তব্যে বাংলাদেশের ওপর রোহিঙ্গা সঙ্কটের প্রভাব নিয়ে কথা বলেন।

তিনি বলেন, এটা আমাদের সমাজ ও অর্থনীতির ওপর একটি বড় বোঝা। এটা আমাদের উন্নয়ন কর্মসূচিতে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে যে সব দেশ ও সংস্থা এগিয়ে এসেছে, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে অর্থমন্ত্রী সবাইকে এ বিষয়ে আরও উদ্যোগী হওয়ার আহবান জানান। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েন চাই ঝ্যাং তার বক্তব্যে ঢাকার যানজটের কথাও তুলে ধরেন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার ঢাকা পৌঁছে শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তার হোটেলে পৌঁছাতে লেগেছে এক ঘন্টা। এই সমস্যা মেটাতে এডিবি বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। অন্যদের মধ্যে বিশ্ব ব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যানেট ডিক্সন, জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ মহাপরিচালক মিনরু মাসুজিমা এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট-এর সিইও সুলাইমা জাসির আল-হেরবিশ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত দেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব কাজী শফিকুল আজম।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর