রাজশাহীতে পনেরো দিনে ঝরে গেছে ৮৩ নবজাতকের প্রাণ
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

গত ১৫ দিনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) মারা গেছে ৮২ জন নবজাতক। আর বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডা জনিত কারণে মারা গেছে একজন। তবে এ বিষয়ে ৯টি উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা কমিউনিটি কিøনিকের কোন সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। যে কারণে এ বিষয়ে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোন পরিসংখ্যান সেল না থাকার কারণে তথ্য পেতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে গণমাধ্যম কর্মীদের। তবে চিকিৎসকদের ধারণা, রামেক হাসপাতালের নথিভুক্ত চিত্রই বলে দিচ্ছে গত ১৫ দিকে রাজশাহী জেলায় কমপক্ষে শতাধিক নবজাতক শিশু মারা গেছে। যাদের বয়স এক মাসেরও কম। কিন্তু এদের তথ্য প্রকাশ হয়নি। আর এ মৃত্যুর কারণ অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহের ফলে ঠান্ডাজনিত রোগ নাকি অন্যকোন বিষয় তা পরিষ্কার করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, অতিতের যে কোন সময়ের চেয়ে এবার সবচেয়ে কম ঠান্ডাজনিত রোগে ভর্তি হয়েছে এবং মানুষ আগের চেয়ে অনেক সচেতন হওয়ায় ঠান্ডাজনিত রোগে কম আক্রান্ত হয়েছে। তবে যেসব নবজাতক মারা গেছে তাদের অধিকাংশই ছিল অপরিপক্ক। যে কারণে এ প্রচন্ড শীতের মধ্যে অনেক চেষ্টা করেও তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে রামেক শিশু বিভাগের প্রধান প্রফেসর ড. সানাউল হক বলেন, এবার তীব্র শীত পড়লেও তুলনামুলকভাবে বাড়েনি শিশু রোগির সংখ্যা। আর যেসব শিশু মারা গেছে শীতজনিত রোগের কারণে নয়। তারা অন্য রোগে বেশি আক্রান্ত ছিল। তবে অপরিপক্কের কারণেই মূলত এসব নবজাতকদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এর জন্য সবচেয়ে দায়ি বাল্যবিবাহ এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা ও অসাবধানতা। রামেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১৫ দিনে রামেক’র শিশু বিভাগের ৪টি ওয়ার্ডে শিশু রোগি ভর্তি হয়েছে ৭২৫ জন। এর মধ্যে ১০নং ওয়ার্ডে ১৭২ জন, ২৪নং ওয়ার্ডে ৯১ জন, ২৭নং ওয়ার্ডে ১৬৭ জন, ২৮নং নবজাতক ওয়ার্ডে ২৯৫ জন। তবে কতজন ঠান্ডাজনিত রোগে ভর্তি হয়েছে তা নিশ্চিত করতে পারেনি হাসপাতাল সূত্র। কিন্তু গত ১৫ দিনে শিশু মারা গেছে ৮২ নবজাতক। যাদের বয়স ১ থেকে ২৮ দিনের মধ্যে। এর মধ্যে হাসপাতালের নথিমতে ঠান্ডাজনিত রোগ নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় মারা গেছে ৩ শিশু। গতকাল সোমবার বিকালে রামেক হাসপাতালের মাস্টার মোশারফ বলেন, আজ (সোমবার) বিকাল ৪টা পযর্ন্ত রেজিষ্টার মতে ২ নবজাতক মারা গেছে। তবে এ দু’টিও ঠান্ডাজনিত কারণে নয়, অপরিপক্কতায় এর মূল কারণ। গতকাল সোমবার বিকাল ৫টার দিকে সেলফোনের মাধ্যমে রাজশাহীর সিভিল সার্জন ডা. সঞ্জিত কুমার বলেন, আমাদের কাছে নবজাতক বা শিশু মৃত্যুর সঠিক খবর নেই কথাটি ঠিক নয়। কারণ, গর্ভবতী সময়কালীন থেকেই আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসকের মাধ্যমে সকলেই নথিভুক্ত হয়। সকল গর্ভবতি মা পেয়ে থাকে সরকারি সুযোগ সুবিধা। এমনকি হাসপাতালে ভর্তি নবজাতক বা শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিমানে কম্বলও সরবরাহ করা হয়ে থাকে। তারপরেও অসাবধানতার কারণে ঠান্ডা জনিত রোগে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মাত্র একজন শিশু মারা গেছে। আর শিশুদের কম্বল দেওয়া হয় না কথাটিও সঠিক নয় বলে দাবি করেন সিভিল সার্জন।