April 9, 2026, 12:05 am

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রদানের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে রকেট

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা প্রদানের দায়িত্ব পেতে যাচ্ছে রকেট

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

সরকার মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির দ্বিতীয় কিস্তির টাকা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সেক্ষেত্রে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) রকেটের মাধ্যমেই মাধ্যমিকের উপবৃত্তির টাকা প্রদান সহজ হবে বলে মত দিয়েছে প্রকল্প কার্যালয়। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত সুপারিশ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। যদিও মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা তিন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আবেদন করা হলেও বিকাশ ও রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশকে বিবেচনায় নিচ্ছে না মাধ্যমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্প কার্যালয়। ডিবিবিএল ও বিকাশ কোনো সার্ভিস চার্জ ছাড়াই সেবাটি দিতে আগ্রহী ছিল। আর শিওর ক্যাশ শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ হারে সার্ভিস চার্জ দাবি করে। ডিবিবিএল ও শিওর ক্যাশ এজেন্ট চার্জ হিসেবে চায় শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ। তবে বিকাশ এজেন্ট চার্জ ছাড়াই সেবাটি দিতে আগ্রহী। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শিক্ষার্থীদের অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ বিতরণে ২০১৫ সালের জুনে অগ্রণী ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করা হয়। তবে নিজেদের মোবাইল ব্যাংকিং কার্যক্রম না থাকায় বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটি ওই সেবা দেয়। ২০১৪-এর জুলাই থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ওই কার্যক্রম পরিচালনা করে ডিবিবিএল। সেক্ষেত্রে ডিবিবিএলের সেবার জন্য চার্জ ছাড়াও অগ্রণী ব্যাংক এর অতিরিক্ত চার্জ নেয়। ফলে সেবাটির জন্য বাড়তি সার্ভিস চার্জ দিতে হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। উপবৃত্তির অর্থ অভিভাবকের মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে দেয়া হয়। সেক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জের পরিমাণ বেশি। সরকারের অর্থে ওসব প্রকল্প পরিচালিত হয় বলে সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে নিজেদের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা না থাকায় অন্য একটি ব্যাংকের মাধ্যমে সেবাটি দিতে গিয়ে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ গুনতে হচ্ছে।

সূত্র জানায়, উপবৃত্তির টাকা প্রদানে সার্ভিস চার্জ নির্ধারণের বিষয়ে নির্দেশনা চেয়ে প্রকল্প কার্যালয় বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে অনুরোধ করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ইস্যু করা নীতিমালায় ব্যাংকের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবা কার্যক্রমের চার্জ নির্ধারিত রয়েছে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি চার্জমুক্ত করার সুযোগ নেই। তবে সরাসরি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাদাতা ব্যাংক বা সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা হলে সার্ভিস চার্জ কমে আসবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালিত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও আর্থিক শিক্ষা কার্যক্রমে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত বিভিন্ন প্রকল্পে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অনলাইন ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে উপবৃত্তির অর্থ প্রদান করা যেতে পারে। তাছাড়া অনলাইন ব্যাংকিং ও এজেন্ট ব্যাংকিং নেই, এমন এলাকায় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মাধ্যমে উপবৃত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে সার্ভিস চার্জ হ্রাসের জন্য প্রতিযোগিতামূলক ফি নির্ধারণে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে চুক্তি করা যেতে পারে।

সূত্র আরো জানায়, উপবৃত্তির টাকা প্রদানের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই শেষে প্রকল্প কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। সুপারিশে বলা হয়েছে, বিকাশ কোনো ব্যাংক নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপত্র অনুযায়ী শুধু যেসব ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা রয়েছে, সেসব ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে বিকাশের সঙ্গে চুক্তি করা সমীচীন হবে না। তাছাড়া রূপালী ব্যাংকের শিওর ক্যাশের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছে প্রকল্প কার্যালয়। বলা হয়েছে, রূপালী ব্যাংকের (শিওর ক্যাশ) সঙ্গে চুক্তি হলে নতুন করে ১৬ লাখ মোবাইল অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন পড়বে। তাতে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প সম্পন্ন করা কঠিন হবে। আর ডিবিবিএলের রকেটের পক্ষে সুপারিশ করে প্রকল্প কার্যালয় বলেছে, প্রায় ১২ লাখ শিক্ষার্থীর মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টসহ তথ্যভা-ার ডিবিবিএলের কাছে রয়েছে। তাতে তাদের মাধ্যমে দ্বিতীয় কিস্তির উপবৃত্তির অর্থ বিতরণ সহজ হবে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক শরীফ মোর্তজা মামুন জানান, মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তাবনা সম্পর্কে ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় যে সিদ্ধান্ত দেবে, সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করা হবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর