শামীম আলম , জামালপুর প্রতিনিধিঃ

জামালপুরে চলন্ত ট্রেনের কেবিনে এক তরুনীর সাথে অনৈতিক কাজ করার সময় কলেজের এক অধ্যক্ষকে আটক করেছে জিআরপি পুলিশ।২ ফেব্রুয়ারী ২০২০ ইং তারিখ রোববার দুপুরে আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কেবিন থেকে ইসলামপুর জে জে কে এম গালর্স হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরীকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করা হয়।
আটক অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম জামালপুর শহরের বেলটিয়া এলাকার মৃত সিরাজুল হকের ছেলে। শহরের গেইটপাড় এলাকায় মধুমহল নামে তার একটি মিষ্টির দোকানও রয়েছে।
রেলওয়ে পুলিশের সূত্রে জানাগেছে, রোববার ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা দেওয়ানগঞ্জগামী আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘ নাম্বার কোচের ২ নম্বর কেবিন বুকিং করে ইসলামপুর জে জে কে এম গালর্স হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরী (৫০) তার কলেজের প্রাক্তন ছাত্রী ইসরাত জাহান সিউলি (২৭) কে নিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। আন্তঃনগর তিস্তা এক্সপ্রেস ট্রেনটি মেলান্দহ স্টেশন অতিক্রম করার পর ওই তরুনীসহ ট্রেনের কেবিনটি ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় যাত্রীদের সন্দেহ হয়। কেবিনের বাহির থেকে ডাকাডাকির পরও দরজা না খুলায় ট্রেনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশকে বিষয়টি জানায় যাত্রীরা।পরে জিআরপি পুলিশ ওই কেবিনে গিয়ে কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম চৌধুরীকে ওই তরুনীসহ আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। এ সময় আব্দুস সালাম অনৈতিক কাজে ব্যবহৃত কনডমটি গিলে ফেলার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ কনস্টেবল আব্দুল মান্নান ওই অধ্যক্ষের মুখ থেকে কনডমটি উদ্ধার করে এবং তাদের দুজনকে আটক করে দেওয়ানগঞ্জ রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিকেলে আটক দুজনকে আন্তঃনগর তিস্তা ট্রেনেই জামালপুর জিআরপি থানায় নিয়ে আসা হয়। আটক ইসরাত জাহান সিউলির বাড়ি জামালপুরের ইসলামপুর পৌরসভাধীন গাঁওকুড়া এলাকায়। এদিকে অধ্যক্ষের অনৈতিক কাজের ঘটনায় ইসলামপুর জে জে কে এম গালর্স হাইস্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষকরা প্রতিবাদ সভা ও নিন্দা জানিয়েছে।
জামালপুর রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাপস চন্দ্র পন্ডিত ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলাদেশের আলোকে জানান, ট্রেনে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থেকে জনগণের মাঝে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/০২ ফেব্রুয়ারী ২০২০/ইকবাল