May 26, 2024, 4:52 am

সংবাদ শিরোনাম
মাঝরাত্রে প্রবাসীর ঘরে ঢুকে স্ত্রীও মা কে ছুরি মেরে পালালো দুর্বৃত্তরা বগুড়ার শিবগঞ্জে জাতীয় অনলাইন প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন: এমদাদুল আহবায়ক রবি সদস্য সচিব গাইবান্ধা প্রসক্লাব’র কমিটি গঠিত প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা, বাগাতি পাড়ার ভূমিহীন রাবেয়া বেগমের জৈন্তাপুরে ৫১০ বোতল ফেনসিডিল সহ এক নারী আটক পটুয়াখালীতে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু এন এস আই পরিচয় দিয়ে এন এস আই এ চাকরির মিথ্যা প্রলোভনে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ আটক দুই পটুয়াখালীতে প্রতিমা ভাঙচুর ও স্বর্ণের চোখ চুরি মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার আদমদীঘিতে হেলমেট নেই, জ্বালানি নেই কার্যক্রম শুরু কক্সবাজার সমুদ্র সৈকত থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার

রেলকে আরামদায়ক ও নিরাপদ করার উদ্যোগ আমদানি করা হচ্ছে আধুনিক কোচ ও ইঞ্জিন

রেলকে আরামদায়ক ও নিরাপদ করার উদ্যোগ আমদানি করা হচ্ছে আধুনিক কোচ ও ইঞ্জিন

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

আধুনিক ও নিরাপদ ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নত যাত্রীসেবা দিতে বিদেশ থেকে আধুনিক কোচ ও ইঞ্জিন আমদানির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্যে রেলের বহরে যোগ হচ্ছে ১৫০টি যাত্রীবাহী আধুনিক কোচ ও ২০টি ইঞ্জিন। রেলের পুরনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ মিটারগেট ডিজেল ইলেকট্রিক ইঞ্জিন ও যাত্রীবাহী কোচের জায়গায় এগুলো প্রতিস্থাপন করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন ইঞ্জিন ও বগি যুক্ত হলে রেলপথে যাতায়াত সময় কমে আসবে এবং যাত্রীদের জন্য আধুনিক, নিরাপদ ও উন্নত যাতায়াত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বর্তমানে মিটারগেজ সেকশনে রোলিং স্টকের (ইঞ্জিন, যাত্রী ও মালবাহী গাড়ি) সঙ্কট রয়েছে। নতুন কেনা হলে রোলিং স্টকের স্বল্পতা দূও হবে। পাশাপাশি রেলওয়ের রাজস্ব আয়ও বাড়বে। রেলপথ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা কমিশন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বাংলাদেশ রেলওয়ের ১৮৬টি মিটারগেজ এবং ৯৬টি ব্রডগেজসহ মোট ২৮২টি ইঞ্জিন রয়েছে। ওসব ইঞ্জিনের গড় আয়ুষ্কাল বা কার্যকারিতা ২০ বছর। তার মধ্যে ১৬৮টি (১১০টি মিটারগেজ ও ৫৮টি ব্রডগেজ) ইঞ্জিনের বয়স ৩০ বছর অতিক্রম করেছে। চাহিদার কারণে ব্যয়বহুল মেরামত ও অধিক জ্বালানি ব্যয়ের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ ইঞ্জিনগুলো এখনো চালানো হচ্ছে। তাছাড়া অনেক পুরনো মডেলের হওয়ায় ওসব ইঞ্জিনের মেইনটেনেন্স পার্টসও সহজলভ্য নয়। চাহিদা ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় পুরনো ওসব ইঞ্জিন বহর থেকে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। তাছাড়া রেলওয়েতে যাত্রীবাহী বগি রয়েছে ১ হাজার ১৬৫টি। ওসব বগির উপযোগিতা বা অর্থনৈতিক মেয়াদ ৩৫ বছর। ৪৫৬টি যাত্রীবাহী বগির বয়স ইতিমধ্যে ৩৫ বছর অতিক্রম করেছে। ১৩৫টির মেয়াদ ৩১-৩৪ বছর। যাত্রী চাহিদার কারণে মেরামতের মাধ্যমে মেয়াদোত্তীর্ণ যাত্রীবাহী বগিগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু সেগুলো আরামদায়ক ও নিরাপদ নয়। ওসব বগি অনেক আগেই বহর থেকে বাদ দেয়া উচিত ছিল। কিন্তু বগিস্বল্পতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে ইঞ্জিন এবং বগি কেনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। চলমান সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় ৫ বছরে ১ হাজার ১২০টি যাত্রীবাহী বগি ও ১০০টি ইঞ্জিন সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

সূত্র জানায়, সব দিক বিবেচনা করে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ এবং ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী ক্যারেজ সরবরাহ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রাথমিকভাবে ইন্দোনেশিয়া থেকে যাত্রীবাহী ১৫০টি বগি আমদানির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত পাল্টে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে উন্নতমানের ২০টি রেল ইঞ্জিন ও ১৫০ বগি কেনার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়। ২০টি মিটারগেজ ডিজেল ইলেকট্রিক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও ১৫০টি মিটারগেজ যাত্রীবাহী বগি সংগ্রহে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। তার মধ্যে ১ হাজার ৪১৫ কোটি টাকা দেবে দক্ষিণ কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ)। অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীর তুলনায় কম সুদে এ ঋণ সহায়তা দিচ্ছে দেশটি। দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বার্ষিক সুদের সহজ শর্তে ঋণ পাবে বাংলাদেশ।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (রোলিং স্টক) শামসুজ্জামান বলেন, প্রথমবারের মতো কোরিয়া থেকে যাত্রীবাহী কোচ (বগি) কেনা হচ্ছে। তার আগে দেশটি থেকে কয়েকটি ইঞ্জিন আনা হয়েছিল, যেগুলোর মান অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক ভাল। রেল কোচ ও ইঞ্জিন কেনার এই প্রকল্পে বড় অঙ্কের ঋণও দিচ্ছে কোরিয়া।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর