June 21, 2024, 12:51 am

সংবাদ শিরোনাম
সিসিটিভির আওতায় উলিপুরঃ সম্মানিত নাগরিকদের নিরাপত্তায় পুলিশের এই প্রচেষ্টা সরিষাবাড়ীতে ৪ হাজার ব্যক্তির মাঝে এমপির চাল বিতরণ চিলমারীতে পৈ‌ত্রিক সম্প‌তি নি‌য়ে বি‌রো‌ধের জের ধ‌রে প্রায় ১৪ বছরের পুরোনো কবর ভেঙে ফেলার অভিযোগ গাজীপুর কালিয়াকৈর চান্দ্রায় ঈদ যাত্রার যাত্রীদের দুর্ভোগ কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এসেছে বোতলনোজ প্রজাতির মৃত ডলফিন উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আরসার গান কমান্ডার গ্রেফতার ফরিদপুরের নগরকান্দার চাঞ্চল্যকর “ক্লুলেস ডাকাতি” ঘটনার মূলহোতা দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার রবিজুল শেখ’কে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১০ রংপুরের পীরগঞ্জে ইয়াবা, জুয়ারী,ও ওয়ারেন্টের আসামী সহ ৮জনকে আটক করে পীরগঞ্জ থানা পুলিশ ভূমি সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে জনসচেতনতা মূলক আলোচনা সভা জৈন্তাপুরে চিকনাগুল বাজারে অবৈধ পশুর হাট, সরকার হারাচ্ছে কোটি টাকার রাজস্ব

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই: অর্থমন্ত্রী

৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্রে উৎসে কর ৫ শতাংশই: অর্থমন্ত্রী

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

সব ধরনের সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে উৎসে করের হার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে বলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন। নতুন করহার চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই কার্যকর হবে বলে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান। অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্র যাদের জন্য তারা না পেয়ে ধনীরা এ সুবিধা পাচ্ছে। এজন্য শিগগরিই সঞ্চয়পত্র নিয়ে আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সেখানে ৫ লাখের ওপরে যাদের বিনিয়োগ তারা ১০ শতাংশ উৎসে কর দিবে। এর নিচে বা ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ও পেনশনভোগীরা ৫ শতাংশ উৎসে কর দিবে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে উৎসে করের হার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। পরে পেনশনভোগীদের জন্য সঞ্চয়পত্রে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত করহার কমিয়ে ৫ শতাংশ বহাল রাখা হয়। মুস্তফা কামাল বলেন, বাজেটে পাসের পর সঞ্চয়পত্র নিয়ে অনেক বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। তাই সঞ্চয়পত্রে যাদের ৫ লাখ টাকা আছে, তাদের ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ কর আর এর বেশি যারা রাখবেন তাদের ১০ শতাংশ উৎসে কর দিতে হবে। সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করে গরিব বা স্বল্প আয়ের মানুষ। তাই এখাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করতে চাই। এ সুযোগ যাদের জন্য দেওয়া হচ্ছে তাদের জন্য এটা চলবে। ৫ লাখ টাকা যথেষ্ট না হলে পরর্তীতে চিন্তা-ভাবনা করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন, সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। ডাটাবেজ দেখে কে কোথায় কত টাকা বিনিয়োগ করেছে তা নিশ্চিত হয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। সঞ্চয়পত্রে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগকারীদের জন্য শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আইনি কোনো বাধা না থাকায় শাস্তি দেওয়া সম্ভব না।

প্রস্তুতির অভাবে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া এখনও শুরু করা যায়নি জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা আমরা বাজেটে পাস করেছি। কিন্তু সিস্টেম এখনো ডেভেলপ করতে পারিনি। প্রণোদনা দেওয়ার জন্য সিস্টেম আপডেট করতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে।

গত ১ জুলাই থেকে যারা বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন তাদের প্রত্যেককে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেন, এটা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ট্যাক্স কাঁটা হবে না। কেউ ১০০ টাকা রেমিট্যান্স পাঠালে ১০২ টাকা পাবে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ট্যাক্স বা সার্ভিস চার্জ কাঁটা হবে না। অর্থমন্ত্রী বলেন, চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) বাজেটে রেমিট্যান্সের ওপর দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ার কথা রয়েছে। তবে নীতিমালা না হওয়ায় এখনও এটি কার্যকর করতে পারেনি সরকার। আমাদের সিস্টেম আরও আপডেট করতে হবে। এজন্য আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে। সামনে ঈদ, অনেকেই ধারণা করছে এখন দেশে কেউ রেমিট্যান্স পাঠালে তারা প্রণোদনা পাবে না উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটা কিন্তু ঠিক না। এটা যেহেতু বাজেটে পাস হয়েছে সেহেতু এখন রেমিট্যান্স পাঠালেও দুই শতাংশ প্রণোদনা ছয় মাস পরে হলেও পাবে। এখন পাঠালেও পাবে, পরে পাঠালেও পাবে। অর্থাৎ, জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকেই যারা রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে তারাই দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা পাবে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমটা ডেভেলপমেন্ট করতে আমরা দ্রুত কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম রেমিট্যান্সে এ ধরনের প্রণোদনা দেওয়া হবে। আর এজন্য নতুন বাজেটে ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, রেমিট্যান্স পাঠানোয় বাড়তি ব্যয় কমানো এবং বৈধপথে অর্থ পাঠানোয় উৎসাহিত করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের ওপর আগামি অর্থবছর থেকে দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। ফলে বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে এবং হুন্ডি ব্যবসা নিরুৎসাহিত হবে। এ ছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিমা সুবিধার আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ১১ মাসে (জুলাই-মে) মোট ১ হাজার ৫০৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বাংলাদেশে, যা গত অর্থ বছরের একই সময়ের তুলনায় ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। এর আগে গত ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এক হাজার ৪৯৮ কোটি ১৭ লাখ (১৪.৯৮ বিলিয়ন) ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছিলেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানকারী প্রবাসীরা। বর্তমানে এক কোটিরও বেশি বাংলাদেশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। জিডিপিতে তাদের পাঠানো অর্থের অবদান ১২ শতাংশের মতো।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কোনো হাসি ঠাট্টা করা যাবে না। জ¦র হলে ভয় না পেয়ে সঙ্গে সঙ্গেই পরীক্ষা করে নেওয়া উচিৎ। একই সঙ্গে শুধু পানি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিৎ। অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ডেঙ্গু হলে চিকিৎসা করাতে হবে। বারবার প্ল্যাটিলেট (অণুচক্রিকা) পরীক্ষা করতে হবে। এই বিপদ থেকে আমাদের উত্তোরণ ঘটাতে হবে। ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে। অন্যান্য দেশে কী হচ্ছে সেটাও দেখা উচিৎ। এডিস মশা কামড়ালে জ¦র আসার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিতে হবে। আমার হয়েছিল তাই আমি বুঝি, নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেন, আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য এডিস মশা বেড়েছে। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ ধরনের অবস্থা থাকবে। এ মশা বেশি ঠাণ্ডা ও বেশি গরমে মারা যায়। ২৫ থেকে ২৯ ডিগ্রি তাপমাত্রায় এডিস মশা বেশি হয়। একই সঙ্গে প্রতিদিন বৃষ্টি হচ্ছে। এর প্রভাবে বিভিন্ন এলাকায় এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি হয়। মশার ওষুধে কাজ হয় না-এমন এক প্রশ্নের জবাবে মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের দেশে না হয় ওষুধে কাজ করে না। কিন্তু ভারত, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুরের মতো দেশেও ডেঙ্গু হয়। সেখানে তো ওষুধ দেওয়া হয়। তাহলে তাদের ওষুধ কেন কাজ করে না? আবহাওয়া পরিবর্তনের জন্য এটা হচ্ছে। সব দেশেই একই অবস্থা। গত মাসের শুরুর দিকে ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয়। সে সময়ই আক্রান্ত হয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। গত ১৩ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের দু’দিন আগে হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। বাজেট দিতে হাসপাতাল থেকে সরাসরি সংসদে যান অর্থমন্ত্রী। যদিও এর কিছুক্ষণ পর ফের অসুস্থ হয়ে পড়ায় তার হয়ে বাজেট উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অর্মন্ত্রী বলেন, ওই দিনই ছিল আমার জীবনের ‘চরম সংকটের দিন’। কারণ এর তিন দিন আগে আমি ডেঙ্গু জ¦রে ভয়ানকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি ও হাসপাতালে ভর্তি হই। কেউ যেন এই জ¦রে আক্রান্ত না হয় সেজন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনাও করেন তিনি। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন ভূইয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর