প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার চক্র পাচার করছে রোহিঙ্গা নারী-শিশু
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

রোহিঙ্গা শিবিরগুলো ঘিরে মানবপাচারকারী চক্রগুলো সক্রিয় রয়েছে। তাদের টার্গেট নারী ও শিশু। বিয়ে এবং বিভিন্ন দেশে পাঠিয়ে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গা নারী-শিশুকে পাচার করছে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা তরুণদের সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচারেরও চেষ্টা চলছে। গত ১২ ডিসেম্বর এনজিও কর্মী পরিচয়ে শিশু পাচারকালে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা ৮ বছরের এক রোহিঙ্গা শিশু কন্যাকে উদ্ধার করেছে। পরে তাকে ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চেকপোস্টে যাত্রীবাহী গাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ৯ শতাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশু উদ্ধার করে ক্যাম্প পাঠানো হয়েছে। ওই সময় আটক শতাধিক পাচারকারীকে উখিয়া পুলিশের নিকট সোপর্দ করা হয়। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা সূত্র জানায়, রোহিঙ্গারা খুবই অসহায়, যে কারণে তারা যেকোনো লোভনীয় প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়। তাদের এই অসহায় অবস্থার সুযোগ নিচ্ছে পাচারকারীরা। গত সেপ্টেম্বর থেকে এ পর্যন্ত বিভিন্ন চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ৩ সহ¯্রাধিক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর দেড় শতাধিক পাচারকারীকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদের সাজা দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, মানবপাচার প্রতিরোধে কুতুপালং, মরিচ্যা বাজার ও মেরিন ড্রাইভ পয়েন্টেসহ ৩টি চেকপোস্টে ২৪ ঘন্টা যানবাহন তল্লাশি চালানো হচ্ছে। তারপরও রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে মানবপাচার ঠেকানো যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত কতজন রোহিঙ্গা পাচার হয়েছে তারও কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে উদ্ধার হওয়া রোহিঙ্গাদের আইওএম দেখভাল করছে। গত বুধবার গভীর রাতেও টেকনাফের বটডেইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের জন্য অপেক্ষমাণ ২ জন রোহিঙ্গাসহ ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ওই সময় পাচারকারীদের একজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এ প্রসঙ্গে কুতুপালং রোহিঙ্গা বস্তি ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভাপতি আবু ছিদ্দিক (৬০) জানান, উখিয়া-টেকনাফের শরণার্থী ক্যাম্প কেন্দ্রিক গড়ে উঠা প্রায় অর্ধশতাধিক পাচারকারী চক্রের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মানবপাচার করছে। তারা বিদেশে চাকরি দেয়ার নামে সাগরপথে মানবপাচার অব্যাহত রেখেছে।