April 8, 2026, 3:00 am

সংবাদ শিরোনাম
নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন স্বাস্থ্যসেবা দোরগোড়ায়—দাবি, বাস্তবতা ও অপেক্ষার বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল

রূপপুর পরমাণু বিদুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনা রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং উদ্বোধন আজ

রূপপুর পরমাণু বিদুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনা রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং উদ্বোধন আজ

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

পাবনার রূপপুরে দেশের প্রথম পরমাণু বিদুৎকেন্দ্রের মূল স্থাপনা রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং উদ্বোধন করা হবে আজ বৃহস্পতিবার। পদ্মাতীরে ঈশ্বরদী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি উদ্বোধন করার কথা। প্রকল্প এলাকায় গতকাল বুধবার ঘুরে দেখা গেছে, পূর্ণোদ্যমে, দ্রুতগতিতে চলছে মহাযজ্ঞ। এখানে কর্মরত প্রধান প্রকৌশলী ইউরিক মিখাউল খোসলেভ বলেন, ২০১৭ সালটি রূপপুর পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এ বছর রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির প্রস্তুতি হিসেবে সাববেইজ তৈরি করা হয়। আর এ বছরই শুরু হচ্ছে রিঅ্যাক্টর বিল্ডিং তৈরির কাজ। এখন থেকে ৬৮ মাসের মধ্যে বিদুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আমরা আশা করি। অবকাঠামো ছাড়াও চলছে অনেক কাজ। ল্যাবরেটরি, ওয়ার্কশপ, অফিস, স্টাফ কোয়ার্টার ইত্যাদি। মিখাউল বলেন, প্রতিদিন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশি কর্মী মিলে এক হাজারের বেশি লোক দিন-রাত কাজ করছে। প্রকল্পের প্রযুক্তি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ প্রকল্পে থ্রি-প্লাস রিঅ্যাক্টর ব্যবহৃত হবে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ও আধুনিক রিঅ্যাক্টর প্রযুক্তি, যা শুধু রাশিয়ার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে রয়েছে। রূপপুরেই হবে এর দ্বিতীয় ব্যবহার। ২০২০ সালের মধ্যেই রিঅ্যাক্টর ভেসেলসহ সব যন্ত্রপাতিই রাশিয়া থেকে চলে আসবে। তারপর এখানে অ্যাসেম্বল করা হবে বলে তিনি জানান। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই বলে তিনি দাবি করেন। নিরাপত্তা সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, রূপপুর প্রকল্পে আট মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় রিঅ্যাক্টর ঘিরে রয়েছে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা বলয়। রাশিয়ান ফেডারেশন নির্মিত অ্যাকটিভ ও প্যাসিভ সেফটি সিস্টেমের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি নেই বললেই চলে। এর পরও যদি অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেও, এর তেজস্ক্রিয়তা জনগণের নাগালের মধ্যে যাবে না। রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী কেন্দ্রের বর্জ্য নিয়ে যাবে রাশিয়া। কাজেই এ বিদ্যুৎকেন্দ্রকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্তই বলা যায়।” কর্মরত প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, মূল স্থাপনার আগে মাটি স্থিতিশীল করার জন্য যন্ত্রের সাহায্যে মাটির অনেক গভীর পর্যন্ত সিমেন্ট মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে চার হাজার কিউবিক মিটারের কাজ শেষ হয়েছে। আরও ১৩ হাজার ৪৫০ কিউবিক মিটারের কাজ চলছে নিরবচ্ছিন্নভাবে। আসছে জানুয়ারির মধ্যেই পুরোটা শেষ হবে। বাংলাদেশের মাটি তুলনামূলক নরম বলে এই কাজ করা হচ্ছে। প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, মূল স্থাপনার দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ হবে ৭০ মিটার করে। আর এর থিকনেস হবে তিন মিটার। প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০তলা ১১টি ও ১৬তলা আটটি ভবনের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ ছাড়া থাকবে মাল্টিপারপাস হল, মসজিদ ও স্কুলসহ অন্যান্য স্থাপনা। স্বাধীনতার আগে রূপপুরে পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্র স্থাপনের প্রথম উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় উদ্যোগ নেয়। ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সঙ্গে চুক্তি হয় রাশিয়ান ফেডারেশনের প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের। চুক্তি অনুযায়ী নির্মাণব্যয়ের ৯০ শতাংশই ঋণ হিসেবে দেবে রাশিয়া। রূপপুরে ১২০০ করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াটের দুটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি হচ্ছে; যাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা)। ৫০ বছর আয়ুর এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালের মধ্যে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথমে ২৬০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। পরে আরও ৮০০ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এছাড়াও ২১৯ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। প্রকল্প এলাকার বাইরে গ্রিন সিটি আবাসন পল্লী প্রস্তুতের কাজও চলছে পুরোদমে। পাবনা গণপূর্ত অধিতদপ্তর এটা বাস্তবায়ন করছে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর