মানহীন ভোজ্যতেলে ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

দেশের খোলাবাজারের বেশিরভাগ ভোজ্যতেলই জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ওসব ভোজ্যতেল মানহীন। ভোক্তারা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মাত্র ৩ শতাংশ মানসম্মত সয়াবিন তেল বাজার থেকে কিনতে পারেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ ভোজ্যতেলই মানহীন বলে প্রমাণিত হয়েছে; যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক। তার মধ্যে ব্যান্ড, খোলা তেলও রয়েছে। যেগুলোর বেশির ভাগেই ফ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড ও ময়েশ্চারাইজ মেশানো। বাজারে বিক্রি হওয়া ওসব সয়াবিন তেল নির্ধারিত মানের অনেক নিচে। দেশের বাজারে ‘ভিটামিন এ’-যুক্ত মাত্র ৯টি ব্র্যান্ড আছে। তার মধ্যে মাত্র ৩টিতে অনুমোদিত মূল্য নির্ধারণ করা। জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (বিপিআই) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট (বিপিআই) গত বছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত গবেষণা করে দেখেছে- খোলাবাজারের বেশির ভাগ ভোজ্যতেলই স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। নেই মান। রান্নায় ব্যবহার করা ওই তেলের মান নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিএসটিআইর। কিন্তু বাজার চলতি সয়াবিন তেল ও ঘিতে এমন কিছু পদার্থ মেশানো হয়, যা শরীরের মেদ বাড়াতে সহায়তা করে বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে। সেগুলোই দৃষ্টি আকর্ষণ উপযোগী করে সারা দেশের বাজারে সরবরাহ করা হয়। এমনকি নির্ধারিত পরিমাণের ‘ভিটামিন এ’ নেই ওসব তেলে। মূলত বিচারহীনতা ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেয়ায় এমন অবস্থা হয়েছে। আর মান নিয়ন্ত্রণে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যর্থতা জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
সূত্র জানায়, ভোজ্যতেল অতিপ্রয়োজনীয় একটি পণ্য। সুস্বাস্থ্যের জন্য সেটি রান্নায় ব্যবহার করা হয়। ভোজ্যতেল যদি মানহীন হয় তাহলে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে পড়ে। সেজন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া উচিত। বিশেষ করে ২০১৩ সালের খাদ্য নিরাপত্তা আইন বাস্তবায়ন হলে খাদ্যের কিছু মান ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এদিকে মানহীন ভোজ্যতেল প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, ভোজ্যতেলের নমুনা নিয়ে ল্যাবে পরীক্ষা করে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট যে রিপোর্ট দিয়েছে তা বৈজ্ঞানিক দিক থেকে শতভাগ সঠিক। আর বাজারে মানসম্মত পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিএসটিআইর এবং খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের। বিএসটিআইর ছাড়পত্র ছাড়া কোনো কোম্পানি তাদের পণ্য সরবরাহ করতে পারে না।
অন্যদিকে এ বিষয়ে বিএসটিআইর সহকারী পরিচালক রিয়াজুল ইসলাম জানান, বিএসটিআই মূলত ৪০ শতাংশ ‘ভিটামিন এ’ নিশ্চিত করে ভোজ্যতেলের মান স্ট্যান্ডার্ড হিসেবে ছাড়পত্র দিয়ে থাকে।