কালের বিবর্তন আর আধুনিকতার ছোওয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার বায়স্কোপ
আতাউর রহমান গাবতলী (বগুড়া) থেকে
এই দেখা যায়, কেমন মজা/দ্যাখেন তবে মক্কা-মদিনা/তার পরেতে মধুবালা/এক্কাগাড়ীতে উত্তম-সূচিত্রা। এরকম ধারাভাষ্য দিয়েই গ্রাম্য জনপদে বায়স্কোপ দেখাত বাইস্কোপওয়ালা। ছেলে-মেয়ে-বুড়োতে সবাই মিলে দেখত একটা বাক্সের মধ্যে সুন্দর করে পোস্টার ছবি সাজানো বাইস্কোপ। গ্রামাঞ্চলে বাইস্কোপ নামে পরিচিত ভ্রাম্যমান সিনেমা হলের ছবি। গ্রামের শিশুরা ছুটত তার পেছনে পেছনে। ঢাকাতে ছবিওয়ালা বলে। হাতে থাকত তার ঢুগঢুগি। বাজাতে বাজাতে গ্রাম্য পথে হাঁটত। দল বেঁধে সবাই একখানে জড়ো হতো গ্রামের শিশু-কিশোর এমনকি বধূরা পর্যন্ত। তারপর শুরু হতো সিনেমা। তার আগেই টিকিট কেটে নিতে হতো। বাক্সের চারখানা ফুটোয় আট জোড়া চোখ লাগিয়ে সেই স্বপ্নের সিনেমা দেখতো গাঁও-গেরামের মানুষ। সে সবই এখন এক সূদূর অতীত। মনে পড়ে পড়ে না। তবে এখন আর খুঁজেও পওয়া যায় না সেই ছবিওয়ালাকে। কোথায় গেল তারা। সব গ্রামেই তো এসব কাজের দরিদ্র মানুষ ছিল। প্রবীণ নাট্য অভিনেতা ও শিক্ষক সাইফুল আলম পারুল জানান, কি হবেরে ভাই ওসব ঘেঁটে ঘুঁটে যা হারাবার তাতো হারাবেই ধরে রাখবে কে প্রযুক্তির যে ঠ্যালা…। না হারায়ে যাবি কোনে। শিলপাটা ধারকাটাওলা, ঘোলওয়ালা, কটকটিওয়ালারা কোথায় গেল। সবাই আছে হয়তো। পেশাটা বদলে ফেলেছে, উপায় নেই। মানুষের জীবনাচরণ বদলে যাচ্ছে। তার অনুসঙ্গ হারিয়ে যাবে সেটাইত কথা। রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী জাহিদ হোসেন বলেন, আমি নিজে দেখেছি ওই বাইস্কোপ। দুপুরে বাড়ির উঠোনে বাক্সটা নিয়ে বসত। বাড়ির সবাই একে একে দেখতাম। সেই বোঁথড়ের ঘোলওয়ালা আর নেই। আস্তে আস্তে সব বিলীন হয়ে যাবে আমাদের অতীত ঐতিহ্য। আমরা এখন আকাশ সংস্কৃতির ঘেরাটোপে বন্দী। ২০ বছর পূর্বেও বাইস্কোপওয়ালাকে আমার গ্রাম গুনাইগাছাতে ছবি দেখাতে আসতে দেখেছি। কি না কান্ড করতাম। বাবা-মায়ের অনেক বকুনি খেয়ে তারপর বাইস্কোপ দেখতাম। আর কি আনন্দ পেতাম, তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। সভ্যতা আমাদের অনেক দিয়েছে। কেড়েও নিয়েছে অনেক কিছু।