April 1, 2026, 2:57 pm

সংবাদ শিরোনাম
বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে যাত্রীবাহী কোচ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৬ ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বিকল্প নেই পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে শতাধিক গাছ নষ্টের অভিযোগ এক-এগারোর ছায়া: বন্ধ দরজার ভেতর থেকে উঠে আসা নাম—মাসুদ রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী

ভাঙ্গুড়ায় প্রেমের সম্পর্কে ছাত্রীকে বিয়ে করে বিপাকে স্কুল শিক্ষক

পাবনা প্রতিনিধিঃ

বাল্য বিয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে দেশজুড়ে কাজ করছে বিভিন্ন মহল। ব্যক্তি উদ্যোগেও চলছে নানা কর্মকান্ড। স্কুল শিক্ষার্থীরা পর্যন্ত দল বেঁধে এমনকি একাকী বাল্য বিয়ে রোধ করে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। পেশাজীবীদের মধ্যে শিক্ষকদের ভূমিকাও কম নয়। তবে এবার খোদ এক শিক্ষক নিজ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে বাল্য বিয়ে করে পড়েছেন মহাবিপাকে। ঘটনাটি ঘটেছে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাটুলীপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে। এলাকার বিশেষ একটি মহল অনৈতিক সুবিধা নিয়ে ঘটনাটি বেশ কিছুদিন ধরে ধামাচাপা দিয়ে রাখলেও সম্প্রতি তা লোকসমাজে জানাজানি হয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যন্ত খানমরিচ গ্রামের মনজুরুল ইসলাম (৩০) এনটিআরসিএ কর্র্তৃক দু’বছর পূর্বে বাংলা বিষয়ে (ইনডেক্স নং ১১৩৪০৬৭) ওই বিদ্যালয়ে নিয়োগ পান। এক পর্যায়ে মনজুরুল ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী স্বর্ণা খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়েন। বর্তমানে স্বর্ণা ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ও পাটুলীপাড়া গ্রামের আব্দুল খালেকের কন্যা। অতঃপর গত মে মাসের প্রথম দিকে প্রেমের বিষয়টি স্বর্ণার পরিবার জানলে মনজুরুলকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন তারা। কিন্তু মনজুরুল বিয়েতে অস্বীকৃতি জানালে স্বর্ণা বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। এতে গুরুতর অসুস্থ স্বর্ণা পাবনা সদর হাসপাতালে প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ওঠেন। এঘটনায় মনজুরুল ভীত হয়ে পড়ে এবং মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে অতি গোপনে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন। বিয়ের সপ্তাহ পার না হতেই বাল্য বিয়ের অপরাধে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি তাকে সাময়িক বহিস্কার করে। এর পর থেকে মনজুরুল তার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহার করাতে বিভিন্ন মহলের কাছে ধরনা দিলেও কোনো ভাবেই পরিত্রাণ মেলেনি। বিয়ে ও সাময়িক বহিস্কারের কথা স্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মনজুরুল ইসলাম জানান, মানবিক কারণে তিনি তার বহিস্কার আদেশ প্রত্যাহারের জন্য ম্যানেজিং কমিটির কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এ বিষয়ে পাটুলীপাড়া উচ্চ বিদ্যলয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম সানোয়ার হোসেন জানান, কোনে শিক্ষকে ২ মাসের বেশি সময় সাময়িক বহিষ্কার করার বিধান নেই, তাই বিষয়টি নিয়ে তারা খুবই চিন্তিত। এবিষয়ে বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আলহাজ মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বাল্য বিয়ের অপরাধে অভিযুক্ত শিক্ষক মনজুরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আগামী মিটিং এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে স্থানীয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা ওই শিক্ষকের বহিস্কারে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। এ ঘটনায় তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি দাবী করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মুল বানীন দ্যুতি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

 

 

 

প্রাইভেট ডিটেকটিভ/২৭জুন ২০১৮/ইকবাল

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর