তিনি জানান, ২২ ডিসেম্বর সকালে স্থানীয় দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে ভর্তি হন রংপুর নগরীর তিনমাথা মাহিগঞ্জ নাজমুন নাহার ক্লিনিকে সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য। আলট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট অনুযায়ী রাত সাড়ে দশটায় সিজার করা হয়। মা ও শিশুর অবস্থা খারাপ বলে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ দ্রত পাঠিয়ে দেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মেডিকেলে যাওয়ার পর মেডিকেল কর্তৃপক্ষ বলেন শিশু ভাল আছে। পরে ২ / ৩ ঘন্টা থেকে তারা আবার চলে আসেন নাজমুন নাহার ক্লিনিকে। দ্বিতীয় ছেলে সন্তানের কথা বললে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ তাদেরকে হুমকি দিয়ে বলে একটি বাচ্চা হয়েছে। সেখানে ৫দিন অবস্থান করে এবং তাঁর দ্বিতীয় সন্তানটিকে দেয়ার অনুরোধ করে। কিন্তু খুটির জোড় নেই গরীব, অসহায় এই পরিবারের। তাই অনেক আকুতি মিনতির পরও যখন কোন উপায় হলনা তখন সাড়ে ৮ হাজার টাকা ক্লিনিক ভাড়া দিয়ে বাড়িতে চলে যান। শারমিন আক্তার বলছেন, ছেলে সন্তানটিকে ক্লিনিকের লোকজন বিক্রি করে দিয়েছে। আমি আমার সন্তাকে ফিরে চাই। আজও সদ্য প্রস্ফুটিত ছেলে সন্তান ফিরে পাওয়ার আকুতি সেই প্রসূতি মায়ের।
স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশি বলছেন , এর আগেও এই ক্লিনিকের উপর বাচ্চা বিক্রি ও অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে।
স্বজনদের দাবি হতদরিদ্র এই পরিবারটির মাঝে ফেরত দেওয়া হোক ছেলে সন্তানটি। চায় স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ।
তবে এবিষয়ে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলতে গেলে তারা কথা বলতে রাজি হননি।
রংপুরে এরকম দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে সর্বশান্ত হচ্ছে অনেক হতদরিদ্র সহজ সরল পরিবারের মানুষজন। চক্ষুলজ্জার অন্তরালে থাকা এসব ঘটনার যেনো আর পূর্ণাবৃত্তি না ঘটে সেদিকে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি পীরগাছা তাম্বুলপুরবাসীর।