বরিশালে শ্মশানঘাট দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ
* সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে ক্ষোভ
* বিভিন্ন দফতরে অভিযোগ
বরিশাল প্রতিনিধি

জেলার বানারীপাড়া উপজেলার প্রভাবশালী এক ডিশ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শ্মশানঘাট দখল করে বহুতল ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে গতকাল শনিবার সকালে সংখ্যালঘু সস্প্রদায়ের ১৭টি সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা শ্মশানঘাট রক্ষার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), পৌর মেয়র ও থানার ওসির কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
জানা গেছে, পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের জেএল ৪২নং মৌজায় ১৯২নং খতিয়ানের ৬১৪ ও ৬১৫নং দাগের ১৩ শতক সম্পত্তিতে থাকা শ্মশান ঘাটের একাংশ দখল করে বন্দর বাজারের শাওন ক্যাবল নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মোজ্জাম্মেল হোসেন অতিসম্প্রতি বহুতল ভবন ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করেন। এসময় স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন একাধিকবার তাকে বাধা দেয়া সত্তে¡ও ঐ প্রভাবশালী ব্যবসায়ী স্থাপনা নির্মাণ কাজ অব্যাহত রেখেছে। ফলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উপায় না পেয়ে গতকাল শনিবার সকালে শ্মশান রক্ষার দাবি জানিয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ উপজেলা শাখা, বানারীপাড়া সনাতনী ছাত্র-যুব পরিষদ, শ্রী শ্রী রাধা মাধব নামহট্ট মন্দির ইসকন, বানারীপাড়া কেন্দ্রীয় সার্বজনিন মন্দির, বাজার হরিসভা মন্দির, রায়েরহাট সার্বজনিন শ্রী মাতা কালী মন্দির, শ্রী গুরু সংঘ, সৎ সংঘ, অবধূত সংঘ, শ্রীশ্রী মহানাম সংঘ, শ্রীশ্রী লোকনাথ মন্দির, শ্মশান বাস্তবায়ন কমিটি, বন্ধু মহল, ডেয়ার ডেভিলস, দাসেরবাড়ী শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির এবং ঠাকুর বাড়ী সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের নেতৃবৃন্দরা উল্লিখিত কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত ডিশ ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হোসেন জানান, তিনি শ্মশানের সম্পত্তিতে নয় পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও নুরজাহান বেগমের কাছ থেকে সাড়ে নয় শতক সম্পত্তি ক্রয় করে সেখানে ভবন ও প্রাচীর নির্মাণ করছেন। তিনি শ্মশানঘাটের সম্পত্তি ১৩ শতক নয় ২ শতক বলেও দাবি করেন। কাগজপত্রে শ্মশানঘাটের সম্পত্তি ১৩ শতক হিসেবেই প্রমাণ পাওয়া গেছে।
সরকারী কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ দায়েরের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সভাপতি দেবাশীষ দাস, শ্রী গুরু সংঘের কেন্দ্রীয় আশ্রমের প্রচার সম্পাদক ভক্ত কর্মকার, অবসরপ্রাপ্ত সরকারী কর্মকর্তা জীবন কৃষ্ণ দাস, সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা পান্না লাল কর্মকার, ব্যবসায়ী শম্ভু নাথ সাহা, পৌর আওয়ামীলীগের ক্রীড়া সম্পাদক রিপন বনিক, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক সুমন রায়, সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন দেবনাথ, পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিত বড়াল, ব্যবসায়ী বরুণ চন্দ্র দাস, অনিমেষ কর্মকার প্রমুখ।