March 24, 2026, 7:12 pm

সংবাদ শিরোনাম
রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

অটোমেশনের আওতায় আসছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা

অটোমেশনের আওতায় আসছে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

জবাবদিহিতা ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে বাণিজ্য করার দিন শেষ হয়ে আসছে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে অটোমেশনের আওতায় আসছে সরকারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরসহ (ডিআইএ) দেশের প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ফলে মনিটরিং করা সহজ হবে। সেজন্য সফটওয়্যার তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য থাকছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ তথ্যসংবলিত স্বতন্ত্র ওয়েবপেজ। এর মাধ্যমে এক ক্লিকেই দেশের যে কোন প্রান্ত থেকে যে কোন প্রতিষ্ঠানের তথ্য জানা যাবে। অটোমেশনের বিষয়টিকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন পর পর  পরিদর্শন ও নিরীক্ষা হয়। ফলে ওসব প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কাজকর্ম সম্পর্কে সরকারের সর্বশেষ তথ্য জানার কোন সুযোগ থাকে না। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থার অনুপস্থিতি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে যদি প্রতিমুহূর্তে নজরদারি ও পরিদর্শনের আওতায় আনা যায়, তাহলে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সেজন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতর ইতিমধ্যে পুরনো ব্যবস্থা বাদ দিয়ে অধিকাংশ কার্যক্রম ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এনেছে। অধিদফতরের সকল কাজে এনালগ পদ্ধতিকে বাদ দিয়ে প্রযুক্তির শতভাগ ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরসহ (ডিআইএ) দেশের প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

ফলে মাত্র ৭ দিনে ওসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অডিট করা সম্ভব হবে। আগামী মাসেই একসঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অডিট করার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে ডিআইএ। যার নাম দেয়া হয়েছে পেয়ার ইন্সপেকশন সপ্তাহ। এতো কম সময়ে এতো অধিকসংখ্যক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অডিট করে রেকর্ড গড়তে যাচ্ছে ডিআইএ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেয়ার ইন্সপেকশন সপ্তাহের ডাক টিকেট অবমুক্ত করার সম্মতি দিয়েছেন। সে আলোকেই পেয়ার ইন্সপেকশন সপ্তাহ পালন করার উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি। ওই অডিট চালু হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক, প্রশাসনিক এবং আর্থিক অনিয়ম-দুর্নীতি অনেকাংশে কমে যাবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র জানায়, সরকারের লক্ষ্য মানসম্মত ও জবাবদিহিতাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর তা নিশ্চিত করা গেলেই পাওয়া যাবে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা। ইতিমধ্যে সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও নিরীক্ষার কাজকে অনেক উন্নত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এখন দ্রুত ও মানসম্মত কাজ হচ্ছে। শিগগির প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ছাড়াও অধিদফদরের কাজকে অটোমোশনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে।

সূত্র আরো জানায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিদর্শন ব্যবস্থায় অনেক পরিবর্তন আনতে জাতীয় তথ্য বাতায়নের অধীনে ওয়েবসাইট নির্মাণ করা হয়েছে। সকল কর্মকর্তার জন্য পদবি অনুযায়ী ওয়েব মেইল প্রস্তুত ও ব্যবহারও নিশ্চিত করা হয়েছে। অধিদফতরের আছে নিজস্ব ফেসবুক ও ইউটিউব চ্যানেল। ইতিমধ্যেই বাস্তবায়ন হয়েছে ই-নথি। পিয়ার ইন্সপেকশনও চলমান। উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট ও ওয়াইফাই সুবিধা নিশ্চিত করাও কাজ চলছে। অনলাইনেই সকল ফরম আছে। অনলাইনে অভিযোগ দাখিল ও অনলাইন গণশুনানি হচ্ছে ভিডিও কনফারেন্সে, যা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করতে পেরেছে ডিআইএ। যদিও পরিদর্শন ও নিরীক্ষা এবং তদন্ত কোন গতানুগতিক কাজ নয়। এ কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল। ওই কাজের সুফলভোগী দেশের সকল মানুষ এবং এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাপনা। বর্তমানে কাজের পরিধি ও পরিমাণ ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় জনবল কম। এসব বিষয়কে মাথায় রেখেই দিয়ে এ কাজ পরিচালনার জন্য ডিআইএর কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যাপক পরিবর্তন আনাসহ সার্বিক কার্যক্রমকে মূলত আধুনিকায়ন ও ডিজিটালাইজড করা হয়েছে।

এদিকে পেয়ার ইন্সপেকশনের বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পেয়ার ইন্সপেকশন করার সব প্রক্রিয়া শেষ। ৭ দিনে দেশে সব প্রতিষ্ঠান অডিট হবে। দীর্ঘ প্রক্রিয়ার শেষে প্রতিষ্ঠানের তথ্য আপলোড করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য আপলোড করা হয়েছে। বাকি তথ্য পর্যায়ক্রমে করা হবে। অডিট বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে আসবে। সেখানে কোন তথ্য গোপন করার সুযোগ নেই। কেউ গোপন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ধরা খাবে।

এ প্রসঙ্গে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক আহম্মেদ সাজ্জাদ রশীদ জানান, দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মধ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের মাধ্যমে দেশের ১৬ কোটি মানুষ আধুনিক প্রযুক্তির আশীর্বাদ পাচ্ছে। সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মনিটরিং ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসার কাজ করা হচ্ছে। যেখানে সেখানে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে যেমন ইচ্ছে তেমন করে জবাবদিহিতা ছাড়া কেবল মানহীন শিক্ষা দেয়া যাবে না। দেশের যে কেউ যে কোন স্থানে বসে যাতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা জানতে পারে সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। অটোমেশনের আওতায় আনা হচ্ছে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদফতরসহ দেশের প্রায় ৩৬ হাজার ৬৮৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ওই লক্ষ্যে তৈরি করা হচ্ছে সফটওয়্যার।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর