বিদেশি আইনজীবী চাওয়া রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল: অ্যাটর্নি জেনারেল
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ষোড়শ সংশোধনী মামলায় আপিল বিভাগে রিভিউ শুনানির জন্য বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে বাদীপক্ষের আবেদনকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ বলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তিনি বলেছেন, বার কাউন্সিলে আন্তর্জাতিক আইনজীবী চেয়ে এটা যারা করেছেন, আমার মতে তারা দেশদ্রোহী। তার কারণ দেশের প্রতি আস্থা থাকলে, দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থা থাকলে, দেশের বিচারকদের প্রতি আস্থা থাকলে কোনো আইনজীবী এরকম দরখাস্ত করত পারেন না। রাষ্ট্রপক্ষ গতকাল রোববার ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীতে উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের নয়জন আইনজীবীর এক রিট আবেদনে হাই কোর্ট ২০১৬ সালে তা ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে। গত ৩ জুলাই আপিল বিভাগেও ওই রায় বহাল থাকে। ওই রায়ের মাধ্যমে জিয়াউর রহমানের সামরিক শাসনামলে প্রতিষ্ঠিত সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল ফিরিয়ে আনে সুপ্রিম কোর্ট। সঙ্গে বিচারকদের জন্য একটি আচরণবিধিও ঠিক করে দেওয়া হয়। তাছাড়া ওই রায়ে তখনকার প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজের পর্যবেক্ষণের অংশে দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন, যা নিয়ে ক্ষমতাসীনদের সমালোচনায় পড়তে হয় তাকে। এ মামলার রিভিউ শুনানিতে বিদেশি আইনজীবী নিয়োগের অনুমতি চেয়ে গত ১৮ ডিসেম্বর বার কাউন্সিলে আবেদন করে বাদীপক্ষ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী একলাছ উদ্দিন ভূঁইয়ার পাঠানো ওই আবেদনে ভারতীয় আইনজীবী অ্যাডভোকেট আগারওয়াল আমবুজ, অ্যাডভোকেট আগারওয়াল অনামিকা গুপ্তা ও অধিমোলাম ভেঙ্কটারমনের নামও সুপারিশ করা হয়। এ বিষয়ে গতকাল রোববার অ্যাটর্নি জেনারেলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, দেশে আমরা ৫০ হাজার আইনজীবী আছি, আমরা কি অকর্মন্য? আমরা কি অযোগ্য? আমাদের দেশে এর আগেই অনেকগুলো সাংবিধানিক মামলা হয়েছে। যেমন পঞ্চম সংশোধনীর মামলা, সপ্তম সংশোধনীর মামলা, অষ্টম সংশোধনীর মামলা। কই কোনো বিদেশি আইনজীবী তো লাগেনি। পৃথিবীর কোনো দেশে বিদেশি আইনজীবী দিয়ে সাংবিধানিক মামলা নিষ্পত্তির নজির আছে কি না- সে প্রশ্নও রাখেন মাহবুবে আলম। তিনি বলেন, যারা এটা করেছে তারা সম্পূর্ণভাবে না বুঝে করেছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমান। রাষ্ট্রের প্রতি, আমাদের বিচার ব্যবস্থার প্রতি, আইনজীবীদের প্রতি তাদের এ অনাস্থা খুবই নিন্দনীয়।