নেপালে বিধিনিষেধ সত্ত্বেও খ্রিষ্টান মিশনারীদের তৎপরতা বেড়েছে
ডিটেকটিভ আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নেপালে ধর্মান্তরণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও দেশটিতে খ্রিষ্টান মিশনারীদের তৎপরতা বেড়েছে। প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে দেশটির রিচেত গ্রামের সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার দুই বছর পর শুধু গ্রামের চার্চটি পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছে। হিন্দু প্রধান দেশটিতে খ্রিষ্টান মিশনারীদের প্রভাব বেড়ে যাচ্ছে। ধর্মান্তরণের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নেপালে বিগত দুই দশক ধরে খ্রিষ্টান ধর্মের মানুষের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। খবর এএফপি’র। এই ধর্মান্তরণকে অনেকেই হিন্দু ধর্মের কঠোর জাত প্রথা থেকে নিষ্কৃতির উপায় হিসেবে দেখছে। দুই শতাব্দী ধরে হিমালয়ের পাদদেশের এই দেশটি হিন্দু রাজতন্ত্রের অধীনে ছিল। নেপালে ২০০৮ সালে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে। দেশটিতে বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে বৌদ্ধ ঐতিহ্যের জোরালো প্রভাব রয়েছে। কিন্তু প্রত্যন্ত লাপা উপত্যকায় এখন খ্রিষ্টানদের প্রাধান্য চলছে। এই অঞ্চলেই রিচেত অবস্থিত। এখানকার অনেক বাসিন্দাই হিন্দু থেকে ধমান্তরিত হয়ে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছেন। রিকা তামাং হিন্দু থেকে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তার মা একবার অসুস্থ হয়ে পড়লে স্থানীয় এক ধর্মগুরু তাদের পশু বলি দিতে বলেন। দরিদ্র হওয়ায় তাদের কাছে পশু কেনার অর্থ ছিল না। তিনি বলেন, ‘আমার কাছে যাই থাকত, দেবতার নামে তাকে উৎসর্গ করতে হতো।’ এখন তিনি লাপা উপত্যাকায় অবস্থিত তার গ্রামের একজন খ্রিষ্টান যাজক। তামাং বলেন, ‘আমি খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করার পর আমাকে কোন উৎসর্গ করতে হয়নি। আমি ওই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছি।’ ২০১১ সালের সরকারি আদমশুমারী অনুযায়ী নেপালে খ্রিষ্ট ধর্মের লোকের সংখ্যা ১ দশমিক ৫ শতাংশ। কিন্তু খ্রিষ্টান গ্রুপগুলোর ধারণা নেপালে ত্রিশ লাখ খ্রিষ্ট ধর্মের অনুসারী রয়েছে।