April 3, 2026, 2:07 am

সংবাদ শিরোনাম
বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে যাত্রীবাহী কোচ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৬ ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বিকল্প নেই পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে শতাধিক গাছ নষ্টের অভিযোগ এক-এগারোর ছায়া: বন্ধ দরজার ভেতর থেকে উঠে আসা নাম—মাসুদ রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী

সরকারি তৃতীয় শ্রেণীর ৮ লাখ কর্মচারীর পদোন্নতির উদ্যোগ

সরকারি তৃতীয় শ্রেণীর ৮ লাখ কর্মচারীর পদোন্নতির উদ্যোগ

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

সরকার বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কার্যালয় ও বিভিন্ন অধিদফতর, পরিদফতর, কর্পোরেশন ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় শ্রেণীর প্রায় ৮ লাখ কর্মচারীকে পদোন্নতি দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিপূর্বে সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত (তৃতীয় শ্রেণী) কর্মরত কর্মচারীদের ১০ গ্রেডে (দ্বিতীয় শ্রেণী) পদোন্নতি দেয়া হয়। কিন্তু ইউএনও, ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার ও বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, করপোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত প্রায় ৮ লাখ কর্মচারীকে গত ৪৬ বছরে কোনো পদোন্নতি দেয়া হয়নি। ফলে ওসব কর্মকর্তা ১৬তম গ্রেডে (তৃতীয় শ্রেণী) যোগদান করে একই গ্রেড থেকেই অবসরে যাচ্ছেন। আর সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে ১৬তম গ্রেডে যোগদান করে অনেকে সহকারী সচিব হয়ে চাকরি থেকে অবসর নিচ্ছেন। এমন বৈষম্যের কারণে তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারীরা দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন করে আসছে। অথচ একই সঙ্গে দেশের সব প্রতিষ্ঠানের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের অভিন্ন পদোন্নতির নীতিমালা করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এক দেশের কর্মচারীদের জন্য দুই নীতি থাকায় যুগ যুগ ধরে বঞ্চিত হচ্ছে বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশে তৃতীয় শ্রেণীর (১১-১৬ গ্রেড) পদে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ৮ লাখ ৪০ হাজার ২৩৮ জন। তারমধ্যে প্রায় ৪০ হাজার কর্মচারী রয়েছেন সচিবালয়, হাইকোর্ট, সংসদ, নির্বাচন কমিশন, পিএসসি ও মন্ত্রণালয়ের সংযুক্ত বিভাগসমূহে। তার বাইরে ওই পদে রয়েছেন প্রায় ৮ লাখ কর্মচারী। সরকারের উচ্চপদের কর্মকর্তাদের পদোন্নতি পদ খালি না থাকলেও হয়। কিন্তু কর্মচারীদের পদ খালি থেকেও পদোন্নতি হয় না। এমন অবস্থায় এবার ইউএনও, ডিসি, বিভাগীয় কমিশনার ও বিভিন্ন অধিদপ্তর, পরিদপ্তর, করপোরেশন, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের পদ নাম পরিবর্তন ও পদোন্নতির জন্য তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করছে সরকার। গত ১৩ আগস্ট কর্মচারীদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের সিদ্ধান্ত হয় পদমর্যাদা উন্নীতকরণ এবং পদ নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত গঠিত কমিটির সভায়। এরপর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠানো চিঠিতে ১১-১৬ গ্রেডভুক্ত (তৃতীয় শ্রেণী) কর্মচারীদের সংখ্যা এবং ওসব গ্রেডে কর্মচারীদের পদমর্যাদা উন্নীতকরণ করা হলে এর আর্থিক সংশ্লেষ কত হবে সে সব তথ্য পাঠাতে বলা হয়েছে।

সূত্র জানায়, সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই ইউএনও, ডিসি ও বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের বিদ্যমান গ্রেড ও পদের নাম পরিবর্তন করে মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটি পাঠানোর পরে পদমর্যাদা উন্নীতকরণ এবং পদ নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত গঠিত কমিটি এর আর্থিক সংশ্লেষ জানতে চেয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়সমূহের তথ্য সংগ্রহ করে শিগগির আবার ওই প্রস্তাবটি পাঠানো হবে। আর পদমর্যাদা উন্নীতকরণ এবং পদ নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত গঠিত কমিটির পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় সব মন্ত্রণালয় তাদের অধীনস্থ কর্মচারীদের পদোন্নতি ও পদ নাম পরিবর্তনের জন্য একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগে (সওব্য)। জনপ্রশাসন থেকে পাঠানো প্রস্তাবে ১১ গ্রেডের (১২৫০০-৩০২৩০) কর্মকর্তাদের ১০ গ্রেডে (১৬০০০-৩৮৬৪০) উন্নীত করার জন্য, তাছাড়া ১২ গ্রেড (১১৩০০-২৭৩০০) থেকে ১০ গ্রেড (১৬০০০-৩৮৬৪০), ১৩ গ্রেড (১১০০০-২৬৫৯০) থেকে ১১ গ্রেডে (১২৫০০-৩০২৩০), ১৪ গ্রেড (১০২০০-২৪৬৮০) থেকে ১২ গ্রেডে (১১৩০০-২৭৩০০), ১৫ গ্রেড (৯৭০০-২৩৪৯০) থেকে ১৩ গ্রেড (১১০০০-২৬৫৯০), ১৬ গ্রেড (৯৩০০-২২৪৯০) থেকে ১৪ গ্রেড (১০২০০-২৪৬৮০) উন্নীত করা কথা বলা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে সব গ্রেডের জন্য অতিরিক্ত অর্থ লাগবে ৩৪ হাজার ৮৪০ টাকা। তাতে ৮ লাগ কর্মচারীর জন্য প্রতি মাসে অতিরিক্ত অর্থ লাগবে ২ হাজার ৭৮৭ কোটি ২৩ লাখ টাকা।

সূত্র আরো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি বঞ্চিত ৮ লাখ কর্মচারীর দাবি হলো সচিবালয়ে কর্মরত কর্মচারীদের মতো পদোন্নতি নীতিমালা প্রণয়ন করা এবং তাদের মতোই পদোন্নতি দেয়া। কারণ দীর্ঘদিনের বৈষম্যের কারণে লাখ লাখ কর্মচারীর হতাশা ও ক্ষোভ যে কোনো সময় তীব্র রূপ নিতে পারে। সচিবালয়ের একজন কর্মচারী ১৬ গ্রেডে চাকরিতে যোগদান করে ৫ বছর পর ১০ গ্রেডে পদোন্নতি পেয়ে যান। আর সচিবালয়ের বাইরের কর্মচারীরা চাকরি জীবন শেষেও কোনো পদোন্নতি পান না। এই বৈষম্য দূর করার জন্য অভিন্ন পদোন্নতির নীতিমালা জরুরি।

এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১২০ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এরপর আবার এতো বেশি কর্মচারীর পদোন্নতি দেয়া হলে অনেক অতিরিক্ত অর্থের প্রয়োজন হবে। তাই এটি বাস্তবায়ন হতে অনেক সময় লাগবে। তবে কর্মচারীদের মধ্যে যে বৈষম্য রয়েছে সেটি দূর করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া উচিত। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী চাইলে এই উদ্যোগ সহজেই কার্যকর হতে পারে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সওব্য) উম্মুল হাছনা বলেন, কর্মচারীদের পদোন্নতি নিয়ে কাজ চলছে। তবে এজন্য অনেক সময় লাগবে। এছাড়া সরকারের আর্থিক সক্ষমতার বিষয় জড়িত আছে। এটি অনেক বড় বিষয়। এজন্য কাগজপত্র দেখে কথা বলতে হবে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর