April 15, 2026, 5:43 am

mostbet
সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

জগন্নাথপুরে পানিতে ভেসে গেছে সরকারের পৌনে ৩ কোটি টাকা : ভোগান্তি চরমে

জগন্নাথপুরে পানিতে ভেসে গেছে সরকারের পৌনে ৩ কোটি টাকা : ভোগান্তি চরমে
মোঃফখরুল ইসলাম, জগন্নাথপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি
পৌনে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় অর্ধযুগ পর সংস্কার করা হয়েছিল জগন্নাথপুর বিশ্বনাথ-সিলেট সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলা সদর থেকে কেউনবাড়ী পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার সড়কের কাজ। এ সড়কটি দীর্ঘদিন পর সংস্কার করা হলেও চার মাসের মধ্যেই সড়কটির পিচ ঢালাই উঠে ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। তবে কোন কোন গর্তে নতুন ভাবে আবারো সংস্কার হতে দেখা গেছে ।
সরেজমিন সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে পিচ ঢালাই উঠে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অত্যান্ত নি¤œমানের বিটুমিন ও নির্মান সামগ্রী দিয়ে কাজ করার ফলে অতি সল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। সল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে বেহাল দশায় পরিনত হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন সরকারি বরাদ্দকৃত টাকার সঠিক ব্যবহার ও তদারকি করা হয়নি। ফলে পানিতে ভেসে গেছে সরকারের পৌনে ৩ কোটি টাকা। ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরাও স্বল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লুটপাটের অভিযোগ তুলেছেন। তারা বলছেন, নাম মাত্র দায়সারা কাজ করে মোঠা অংকের টাকা লুটপাট করা হয়েছে। এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, অর্ধযুগ পর চলতি বছরের মার্চে ঐ রাস্তার জন্য ২ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করে দরপত্র আহ্বান করা হলে কাজটি বাগিয়ে নেন নূরা কন্ট্রাকশনের মালিক জনৈক আওয়ামীলীগ নেতা। প্রথমে দলীয় প্রভাব বিস্তার করে কাজটি বাগিয়ে নিলেও পরে রহস্যজনক কারনে কাজটি করতে বিলম্ব করেন। এক পর্যায়ে মার্চ মাসের শেষ দিকে সড়কের সংস্কার কাজটি শুরু করেন। এ সময় নিম্নমানের বিটুমিন ও নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা ভাবে রাস্তাটির কাজ করা হয়। তাই রাস্তাটি লাটিমের মতো উচুঁ নিচু হয়ে যায়। নিয়ম মত কার্পেটিংও করা হয়নি। রাস্তাটি অদক্ষ লোক দিয়ে আনাড়িভাবে করা হয়। প্রথমে ঠিকাদার ৪০% কাজ করে রহস্যজনকভাবে কাজ বন্ধ করে দেন। পরে আওয়ালীগ এর আরেক নেতাকে দিয়ে বাকী কাজ করানো হয়। ঐ ঠিকাদার নিম্নমানের বিটুমিন ও ৩নং ইটের কোয়া দিয়ে চলতি জুন মাসের মধ্যে দায়সারা ভাবে কাজ করেন। ফলে স্বল্প সময়ে ৪ মাসের মধ্যেই সড়কটির পিছ ঢালাই উঠে সড়কটি মরণফাঁদে পরিণত হয়। জানাগেছে আওয়ামীলীগের অপর নেতা ঐ কাজ করলেও এলজিইডি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বড় অংকের টাকার বিনিময়ে  বিল করে দেয় নুরা কন্ট্রাকশনের নামে। সড়ক পার্শ্ববর্তী মীরপুর গ্রামের শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, মাত্র ৪ মাসের মধ্যে সড়কটি ভেঙ্গে গেছে। নামমাত্র কাজ করে অধিকাংশ টাকাই লুটপাট করে নিয়েছে ঠিকাদার নামক আওয়ামীলীগ নেতারা। লুটপাট বন্ধ না হলে টেকসই সড়ক নির্মান কাজ হবে না। মীরপুর এলাকার অপর বাসিন্দা ব্যবসায়ী রফিক উদ্দিন বলেন রাস্তার করুনদশা এটা নতুন কিসের । এখন আবার জোড়াতালি দিয়ে কাজ করা হয়েছে ।
এ ব্যাপারে উপজেলা আওয়ামীলীগ সহ-সভাপতি জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র আলহাজ্ব আব্দুল মনাফ বলেন, সরকার ঐ সড়কের জগন্নাথপুর অংশের ১৩ কিলোমিটার সড়কের সংস্কার কাজের জন্য পৌনে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও কত টাকার কাজ হয়েছে এ ব্যাপারে দূর্নীতি দমন কমিশনকে তদন্তের জন্য অনুরোধ করছি। অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে অসাধু ঠিকাদাররা দায়সারা কাজ করে অধিকাংশ টাকাই লুটপাট করে নিচ্ছে, এটা মেনে নেয়া যায় না। অপরাধি যেই হউক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। ভবিষ্যতে যাতে টেকসই উন্নয়ন হয় এ ব্যাপারে উর্দ্ধেতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ’র সাথে আলাপ হলে তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, এত স্বল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়াতে আমি বিষ্মিত। আমি উর্দ্ধুতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ আতাউর রহমান বলেন, এত স্বল্প সময়ে সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। যাদের গাফিলতি ও দূর্নীতির কারণে এ অবস্থা হলো, এ ব্যাপারে আমরা খতিয়ে দেখে উপজেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
এ ব্যাপারে সদ্য বদলি হওয়া উপজেলা প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামের সাথে আলাপ হলে তিনি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নুরা কন্ট্রাকশন প্রথমে কাজটি ভাগিয়ে নিলেও সময়মত কাজটি করেন নি। বিলম্বে বৃষ্টির সময়ে কাজ শুরু করেন। প্রায় অর্ধেক কাজ করার পর তার গাফিলতির কারণে আমরা আরেক ঠিকাদারকে দিয়ে বাকি কাজ করাই। তিনি বলেন বৃষ্টির মধ্যে কাজ করায় রাস্তাটি ভেঙ্গে গেছে। তবে সড়কটি এখন পুনঃসংস্কার করা হচ্ছে।
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর