April 15, 2026, 4:51 am

সংবাদ শিরোনাম
অধিকার না ব্যবসা? ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধনের অন্ধকার অর্থনীতি রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা

বর্ষায় মাছে মড়ক লাগলো এখন মাছও ভাসিয়ে নিলে হাকালুকি হাওরে মৎস্যজীবিদের হাহাকার

বর্ষায় মাছে মড়ক লাগলো এখন মাছও ভাসিয়ে নিলে হাকালুকি হাওরে মৎস্যজীবিদের হাহাকার
মশাহিদ আহমদ, মৌলভীবাজার

অগ্রহায়ন মাসে এত বৃষ্টি কোনদিন দেখেননি এলাকার মৎসজীবিরা। ভারি বর্ষণের ফলে পাহাড়ী ঢলে হাকালুকি হাওরের বিলগুলো তলিয়ে যাচ্ছে। এতে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে মৎস্যজীবিদের ৩ বছরের প্রচেষ্টার ফল লাখ লাখ টাকার মাছ। মৎস্যজীবি সমিতিগুলো সরকারের কাছ থেকে ইজারা নেয়ার ৩ বছর পর মাছ আহরণ বা মাছ ধরে বিক্রি করে থাকে। সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেও ঢলের পানি বিলে প্রবেশ ঠেকানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হচ্ছে। ফলে মৎস্যজীবিদের মধ্যে চলছে হাহাকার। দক্ষিণ হাকালুকি মৎস্য সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসাইন জানান- গত বর্ষায় মাছে মড়ক লাগলো। তাতে অনেক ক্ষতি হলো। আর এখন মাছ ধরার মুহুর্তে পানি প্রবেশ করে সব মাছ ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
দু’দফা ক্ষতি কাটিয়ে পরিশোধকৃত ইজারা মুল্যের সমপরিমান টাকা মুনাফা করা কঠিন হবে। হাকালুকি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও নাগুয়া ও ধলিয়া বদ্ধ জলমহালে ইজারাদার মিরজান আলী, রাখাল শাহ কান্দি মৎস্যজীবি সমবায় সমিতি লিমিটেডের সাধারণ সম্পাদক ও গৌড়কুড়ি বিল বদ্ধ জলমহালের ইজারাদার মতিলাল রায় গত ১২ ডিসেম্বর লিখিত আবেদন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা মৎস্য কমিটির সভাপতি বরাবরে লিখিত আবেদনে জানান- উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিন তদন্তক্রমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। আজ ১৪ ডিসেম্বর সরেজমিন হাকালুকি হাওরের চকিয়া বিল এলাকায় গেলে উজান থেকে আসা পানি বিলে প্রবেশ ঠেকাতে প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যেতে দেখা যায়।
তাছাড়া বিভিন্ন নদনদী দিয়ে পানি হাকালুকি হাওরে দ্রুত বেগে প্রবেশ করছে। এভাবে পানি প্রবেশ করতে থাকলে আগামী ২৪ ঘন্টা হাকালুকি হাওরের সকল বিল তলিয়ে গিয়ে পানিতে একাকার হয়ে যাবে। এশিয়ার বৃহত্তম হাওর ও মিঠা পানির মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হাকালুকির প্রধান সম্পদ হচ্ছে মাছ। হাওর তীরের ৫টি উপজেলায় এই মাছের উপর জীবিকা নির্বাহ করে ৬ সহ¯্রাধিক জেলে পরিবার। তাছাড়া কৃষি ছাড়াও প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হাওরের উপর নির্ভরশীল হাওর তীরের কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, ফেঞ্চুগঞ্জ এবং গোলাপগঞ্জ এই ৫টি উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষ। দু’দফায় মাছ, অকাল বন্যায় শতভাগ বোরো, চলতি পৌষ মাসের শুরুতে বোরোর বীজতলা এবং ২৪৫ হেক্টর রবিশস্য ক্ষতি হয়েছে। ফলে হাওর তীরের মানুষ সকল ক্ষেত্রেই ক্ষতির শিকার হচ্ছে। কঠিনতর হয়ে পড়ছে মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা। মৎস্যজীবিরা জানান, পাহাড়ী ঢলে যে পানি নিয়ে আসছে, সেগুলো পলিবাহিত ঘোলা পানি। এই পানি বিলে প্রবেশ করলে বিলের সব মাছ বেরিয়ে যাবে। ফলে বিলে মাছ থাকার সম্ভাবনা খুব একটা নেই। এই ঘোলা ও পলিবাহিত পানি বিষক্রিয়ার মতই।

mostbet
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর