April 8, 2026, 7:34 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

নানা অজুহাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের গতি নেই

নানা অজুহাতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের গতি নেই

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ এবং পাইপলাইন সম্প্রসারণে গড়িমসি করছে পেট্রোবাংলা। এক্ষেত্রে দেখানো হচ্ছে নানা কালাকানুন ও খোঁড়া যুক্তি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে যাতে সহজে গ্যাস সংযোগ দেয়া না হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণ কোম্পানির রিপোর্টও আমলে নেয়া হচ্ছে না। বরং আবাসিক খাতের আইন দেখিয়ে অযৌক্তিকভাবে বাণিজ্যিক সংযোগ ও পাইপলাইন সম্প্রসারণ করতে দেয়া হচ্ছে না। সরকার ইতিমধ্যে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। ওই খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগও হয়েছে। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা পেট্রোবাংলাকেন্দ্রিক একটি চক্রটি গ্যাস উৎপাদন কম দেখিয়ে ৫-৬ বছর ধরে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের গতি শ্লথ করে রেখেছে। চক্রটি পাইপলাইন নির্মাণসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নেও নানা বাধা তৈরি করে রেখেছে। অভিযোগ রয়েছে, এক্ষেত্রে সিন্ডিকেটের সঙ্গে বিদেশি মহলেরও যোগসাজশ রয়েছে। পেট্রোবাংলা ও শিল্প-কারখানা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের অনুমোদন দিয়েছে, সেসব শিল্পকারখানায়ও নানা অজুহাতে সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। বরং মাসের পর মাস সংযোগ সংক্রান্ত ফাইল আটকে রাখছে। নানা কালাকানুন দেখিয়ে সরকারি বিতরণ কোম্পানিগুলোকে গ্রাহক আঙিনা পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। এমনকি শিল্প গ্রাহকরা নিজ খরচে পাইপলাইন নির্মাণ করে অনুমোদিত কারখানায় সংযোগ নিতে চাইলেও বাধা দেয়া হচ্ছে। সেক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞার কথা বলে গ্রাহকদের মিথ্যা তথ্য দেয়া হচ্ছে। এর আগেও ২০১৫ সালে শিল্পে গ্যাস সংযোগ চালুর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ বাস্তবায়ন না করে নানা ষড়যন্ত্র করেছিল পেট্রোবাংলা। ওই বছরের ৯ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় পরিদর্শন শেষে দ্রুত শিল্প ও বাণিজ্যিক কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ বন্ধ থাকায় তিনি জ্বালানি বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু অভিযোগ আছে, পেট্রোবাংলার অসাধু সিন্ডিকেটটি তখনও নানাভাবে দেশীয় শিল্পের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছিল। ওই সিন্ডিকেট এখনো পেট্রোবাংলায় অবস্থান নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক নির্দেশনা যাতে বাস্তবায়ন না হয় সেজন্য মরিয়া হয়ে কাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ সুবিধা নিয়ে বা এ সিন্ডিকেটের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করে গ্যাস সংযোগ ও পাইপলাইন নির্মাণের অনুমতি দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে বিশেষ কমিটির প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টাকে অনেক সময়ই অন্ধকারে রেখে সিন্ডিকেট চক্র পর্দার আড়ালে রমরমা সংযোগ বাণিজ্য করছে। মূলত ওই গোপন বাণিজ্য বহাল রাখতে মহল বিশেষ প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পর্যন্ত আমলে নেয়া হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, দেশীয় শিল্পকারখানা ধ্বংস করে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান বন্ধের মাধ্যমে দেশকে বড় ধরনের বিপদের দিকে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত চলছে। সরকারের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা চক্রটি শেষ মুহূর্তে সরকারকে বিপাকে ফেলার জন্য ওই ধরনের কার্যক্রম চালাচ্ছে। চক্রটি বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্যের মাধ্যমে পছন্দের কোম্পানিকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগের অনুমতি দিচ্ছে। এমনকি পাইপলাইনও করে দিচ্ছে। অথচ যারা নিজ খরচে পাইপলাইন নির্মাণ করে সরকারকে সহযোগিতা করতে চাচ্ছে, তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। খোদ পেট্রোবাংলার মধ্যেই ঘাপটি মেরে আছে সরকারবিরোধী ওই চক্রটি। বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠুক তা চক্রান্তকারীরা চায় না। তারা চায়, বাংলাদেশ যেন গ্যাস-বিদ্যুতে কোনো দিন স্বয়ংসম্পন্ন হতে না পারে। শিল্পে স্বয়ংসম্পন্ন হতে না পারে। তারা দেশকে পরনির্ভরশীল করে জিম্মি করে রাখতে চায়। আর এটা করে সরকারকে বিপাকে ফেলতে চায়।

সূত্র আরো জানায়, নতুন এলাকা বর্ধিত করে কোনো প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ দেয়া হচ্ছে না। অজুহাত দেখানো হচ্ছে ওই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিষেধাজ্ঞা আছে। বœ বিশেষ কমিটি যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে গ্যাস সংযোগ প্রদানের অনুমতি দিয়েছে সে বিষয়েও পেট্রোবাংলার করার কিছু নেই। একাধিক কোম্পানি নিজ খরচে পাইপলাইন নির্মাণ করে গ্যাস সংযোগ নেয়ার আবেদন করেছে। ওসব আবেদন যাচাই-বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো গ্রাহকদের স্বপক্ষে মতামত দিলেও সিন্ডিকেট সেই ফাইল আটকে রাখছে বলে অভিযোগ আছে। বলা হচ্ছে এ নিয়ে আইন আছে। কিন্তু বাস্তবে ২০১৩ সালের ৮ মে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য তৈরি করা একটি আইনের কপি দেখিয়ে বলা হচ্ছে এটা সবার জন্য প্রযোজ্য। শিল্প ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের জন্য আলাদা কোনো আইন নেই।

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়েজউল্লাহ জানান, বিশেষ কমিটি যদি কোনো শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে গ্যাস সংযোগ দেয়ার অনুমোদন করে থাকে ওই প্রতিষ্ঠান অবশ্যই সংযোগ পাবে। কোনো গ্রাহক যদি নিজ খরচে পাইপলাইন নির্মাণ করতে চান তবে সংশ্লিষ্ট বিতরণ কোম্পানির সুপারিশ আমলে নিয়ে আইনানুযায়ী পেট্রোবাংলা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। বর্তমানে বেসরকারি ইকোনমিক জোনগুলোতে সরকার গ্যাস সংযোগ ও পাইপলাইন নির্মাণে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। কোনো উদ্যোক্তা যদি বেসরকারি ইকোনমিক জোনের অনুমোদন পান এবং গ্যাস সংযোগসহ বিভিন্ন সহযোগিতা চান পেট্রোবাংলা তা দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। একই সঙ্গে আগামী ৩ মাসের মধ্যে গ্যাস সংকট আর থাকবে না বলেও জানান তিনি।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর