প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় পেতে বেশ কষ্ট হয়েছিল ফ্রান্সের। দ্বিতীয় ম্যাচে ফরাসিরা মুখোমুখি হয়েছিল ‘সি’ গ্রুপে তাদের আরেক প্রতিপক্ষ পেরুর। এই ম্যাচেও যে খুব সহজ জয় পেয়েছে দলটি তা বলা যাবে না। ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশমও স্বীকার করেছেন দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ খেলেছে পেরু। তবে টিনএজার ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপের প্রথমার্ধের গোলটিই তাদের জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। বৃহস্পতিবার একাতেরিনবার্গে পেরুকে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। টানা দুই ম্যাচ জিতে গ্রুপ-সি এর প্রথম দল হিসেবে তারা নিশ্চিত করেছে শেষ ষোল। তবে দুই ম্যাচ হেরে শেষ ষোলতে ওঠার স্বপ্ন ভেঙেছে পেরুর।
এবারের বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট ফ্রান্স। তবে জয় আদায় করে নিতে তাদের ঘাম ঝরিয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দল পেরু। র্যাঙ্কিংয়ে ফরাসিদের অবস্থান ৭ এ। পেরুভিয়ানরা রয়েছে ১১তম স্থানে। তবে ম্যাচে হয়েছে উল্টো। ৫৬ শতাংশ সময় বল পাত্যে ছিল পেরুভিয়ানদের। মোট পাসের সংখ্যাও বেশি ছিল তাদের। দলটির নির্ভুল পাসের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল।
খেলার প্রথম মিনিট ১৫ এর মধ্যেই ফ্রান্স দ্রুত গোল পাওয়ার আকাঙ্খাটা বুঝিয়ে দেয়। অলিভিয়ের জিরু বুকে বল টেনে সেটিকে এমবাপের কাছে দিলেও আঁতোয়া গ্রিজমানকে তা বুঝিয়ে দেওয়ার আগে হারান। এরপর জিরুকে বল দিয়ে রিটার্ন পাস নিয়ে আঁতোয়া গ্রিজমান শট নিলেও তা লক্ষ্যহীন হলো। পল পগবাও ২৫ গজ দুর থেকে যে চেষ্টাটা করেছিলেন তা গোলকিপারের বেশ দুর থেকেই চলে গেল। জিরুর হেডে বল পেয়ে শট নিয়েছিলেন গ্রিজমান। কিন্তু জোর ছিল না। গোলকিপার গালেসেও প্রস্তুত ছিলেন বলে সহজে ধরেছেন।
পেরু সৃষ্টিশীল ও গতিময় ফুটবল খেলে। কিন্তু তাদের আগেই চ্যালেঞ্জ করে বসা ফরাসিদের সামনে ছন্দ খুঁজে পেতে সময় লাগছিল। ১৯ মিনিটে একটি ফ্রি-কিক পেরু পেল বটে। কিন্তু উয়োতুন গোলমুখে চমৎকার বল পাঠালেও উমিতিকে ফাউল করে বসেন রদ্রিগেজ। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক আক্রমণটি ছিল ৩২ মিনিটে। ফ্লোরেস কাটিয়ে নেন পাভার্দকে। এরপর নিচু ক্রস করেন। কুয়েভা সেই বলে উমতিতিকে এড়িয়ে গোলের প্রায় ১২ গজ দুর থেকে শট নেন। বাঁ পায়ের সেই জোরালো শট গোলকিপার লরিস পা দিয়েই ঠেকিয়ে রক্ষা করেছেন দলকে।
পেরুর এমন আক্রমণ পছন্দ হয়নি বুঝি ফরাসিদের! ৩৪ মিনিটে লিড নেয় তারা। মাঝমাঠে বল হারায় পেরুভিয়ানরা। জিরু-পগবা মিলে এগিয়ে যান পেরুর রক্ষণের দিকে। গোল বক্সে ঢুকে পড়ে বাঁ দিক দিয়ে জিরু চমৎকারভাবে বলটাকে তুলে দিলেন। এমবাপে ছিলেন সেখানে। গোলরক্ষক পজিশন হারিয়েছেন। গোলমুখের ঠিক ডানে পায়ের হালকা ছোঁয়ায় বলটাকে জালে জড়িয়ে ফরাসিদের উৎসবে মাতান এমবাপে। পারফেক্ট গোল বলা যায়।
গোল করার সময় এমবাপের বয়স ছিল ১৯ বছর ৬ মাস ৩ দিন। এটাই ফ্রান্সের হয়ে বড় কোন টুর্নামেন্টে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড়ের গোলের রেকর্ড। ফরাসিদের ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়ের পর জন্ম নেয়া প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে এই টুর্নামেন্টে গোল করেছেন এমবাপে।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আরও দুইটি সুযোগ পেয়েছিল ফ্রান্স। তবে প্রথমবার ফরোয়ার্ড গ্রিজমানের শট পোস্টের বাইরে দিয়ে যায়। পরবর্তীতে স্ট্রাইকার জিরু পেরুর ডি-বক্সে বাঁধা পান দলটির রক্ষণের।
দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের আক্রমণাত্মক খেলাটা ধরে রাখে পেরু। বরং গোলের দেখা পেতে চাপ আরো বাড়ায় দলটি। ৫০ মিনিটের মাথায় মিডফিল্ডার ফারফান ফ্রান্সের ডি-বক্সের কাছে বল বাড়িয়ে দেন আকুইনোকে। এই মিডফিল্ডার সেখান থেকেই দুর্দান্ত একটি বাঁকানো শট নেন। তবে তা গোলপোস্টের ডানদিকে প্রতিহত হয়ে বাইরে চলে যায়। গোলবঞ্চিত হয় পেরু।
এই অর্ধে তেমন সুবিধা করে উঠতে পারেনি ফ্রান্স। তবে বারবার আক্রমণে উঠেছে পেরু। কিছু সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি দলটি। তাই ৯০ মিনিট শেষে ১-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পেরুকে। একদিকে ফেভারিট ফরাসিদের শেষ ষোল নিশ্চিত হওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে পেরুভিয়ানদের স্বপ্নভঙ্গের বেদনা। ছোট দলগুলোর বীরত্বের পরও এই বিশ্বকাপ এমন দৃশ্য নিয়মিত দেখিয়ে যাচ্ছে দর্শকদের।