April 9, 2026, 8:46 pm

সংবাদ শিরোনাম
সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ

মির্জাপুরে ফের সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র : টার্গেটে রেল ও বাসযাত্রী ॥ রেহাই পাচ্ছে না এলাকার সাধারণ মানুষও

মির্জাপুরে ফের সক্রিয় ছিনতাইকারী চক্র : টার্গেটে রেল ও বাসযাত্রী ॥ রেহাই পাচ্ছে না এলাকার সাধারণ মানুষও
মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মির্জাপুরে ফের সক্রিয় হয়ে উঠেছে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা। এক সময় মির্জাপুর সদরের চরপাড়া গ্রামের খালের পাড়, ব্রিজের নির্জন স্থানে চলতি হোন্ডা ও সিএনজির গতিরোধ করে ছিনতাইকার্য সম্পন্ন করত ছিনতাইকারীরা। এলাকার সাধারণ মানুষও তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। অনেকে মাঝে মাঝেই পড়তো ছিনতাইকারীদের কবলে। বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ ও এলাকাবাসীর দাবিতে পুলিশের ব্যাপক তৎপরতায় ঐ সময় থেমে গেলেও বর্তমানে আবার শুরু হয়েছে ছিনতাইকারীদের উৎপাত।
বর্তমানে ছিনতাইকারীরা তাদের ছিনতাই এলাকা আরও সম্প্রসারিত করেছে। নতুন ছিনতাইয়ের এলাকা হিসেবে তারা অবস্থান নিচ্ছে মির্জাপুর বাইপাস ও রেল স্টেশন সংলগ্ন বিভিন্ন স্থানে। টার্গেট হিসেবে বেছে নিচ্ছে রাত্রিকালীন সময়ে ভ্রমণ করা বাস ও রেল যাত্রীদের। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এ এলাকার নির্জনতাকে পুঁজি করে সুযোগ বুঝে ছিনতাইকারীরা দেশীয় অস্ত্র দ্বারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে। এছাড়া মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতাল রোড, বাইমহাটী, কচুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন স্পটে ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যরা সক্রিয় আছে বলেও জানা গেছে।
ছিনতাইকারীদের কবলে পড়া পুষ্টকামুড়ী চরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সুজন খান বলেন, ছিনতাইকারীদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এ থেকে রেহাই পেতে দ্রুত ছিনতাইকারীদের গ্রেফতার ও এলাকায় পুলিশ টহল জোরদার করার দাবিও জানান তিনি।
সম্প্রতি ছিনতাইকারী চক্রের কবলে পড়া ট্রাকচালক মো. হারুন মিয়া  বলেন, গত ২৩ তারিখ রাত ১২টার দিকে বগুড়া থেকে মির্জাপুর বাইপাস সংলগ্ন স্থানে বহন করা গ্যাস সিলিন্ডার আনলোড করার পর হঠাৎ করে ৫-৭ সদস্যের একটি ছিনতাইকারী দল দেশীয় অস্ত্রসহ তার ওপর হামলা করে সাথে থাকা ১২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। সে সময় তিনি ছিনতাইকারীদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে ছিনতাইকারীরা তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে তার হাতের একটি আঙ্গুলে ৮টি সেলাই করতে হয় এবং চিকিৎসাবাবদ এ পর্যন্ত তার ১০-১২ হাজার টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে বলে জানান।
মির্জাপুর বাইপাস ও রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী রহিম মিয়া, চাকরিজীবী অপু শিকদার ও স্থানীয় বাসিন্দা জিল্লুর রহমান জানান, প্রায় সময়ই রাতের বেলা তাদের এলাকায় ছিনতাই ও বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কাজ সংঘটিত হয়ে থাকে। এ নিয়ে এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরম আতংক বিরাজ করছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
মির্জাপুর রেল স্টেশন মাস্টার নাজমুল হুদা বকুল বলেন, বেশ কয়েকবার রেলযাত্রীদের ছিনতাইকারীচক্রের কবলে পরার ঘটনা শুনেছি। এমনকি আমাদের এক লাইনম্যান কর্মকর্তাও একদিন ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছে। সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত স্টেশন এলাকায় সার্বক্ষণিক পুলিশ টহলের ব্যবস্থা করলে ছিনতাইকারীদের উৎপাত কমে যেত বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
ছিনতাইয়ের ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম মিজানুল হক দৈনিক জনতাকে বলেন, ছিনতাইসহ সকল প্রকার অপরাধের বিষয়ে পুলিশ প্রশাসন তৎপর আছে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় এ পর্যন্ত ২০-২৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি একটি ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, জননিরাপত্তার জন্য মোট ৬টি টিম পুলিশ রাত্রিকালীন সময়ে মির্জাপুরের বিভিন্ন স্থানে কাজ করছে। ছিনতাইয়ের ঘটনা বর্তমানে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে বলেও দাবি করেন মিজানুল হক।

mostbet
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর