March 24, 2026, 11:25 am

সংবাদ শিরোনাম
রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর দাফন সম্পন্ন

কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর দাফন সম্পন্ন

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

 

 

 

খ্যাতনামা কথাসাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ শওকত আলীর দাফন গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর জুরাইন কবরস্থানে সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৮টায় তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন (্ইন্নালিল্লাহি… রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮১। তিনি ৩ ছেলে, আত্মীয়স্বজন ও অসংখ্য শুভাকাঙ্খী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর শোক প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশ লেখক শিবিরের পক্ষ থেকে প্রকাশক রবীন আহসান জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, কিডনি ও রক্তচাপে ভুগছিলেন। ৩ সপ্তাহ আগে বাসায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শে সেখান থেকে পাঁচদিন আগে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছিল। তিনি জানান, জোহর নামাজের পর টিকাটুলি জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে প্রয়াত এই কথাসাহিত্যিকের প্রতি সর্বস্তরের মানুষের শেষ শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের জন্য তার মরদেহ বিকেল তিনটা থেকে চারটা পর্যন্ত ঢাকা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হয়। পরে তাকে জুরাইন কবরস্থানে বাদ আছর দাফন করা হয়। শওকত আলী ১৯৩৬ সালে দিনাজপুরে জন্মগ্রহণ করেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিক্ষকতা করতেন। দীর্ঘদিন শিক্ষকতার পর তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসরে যান। লেখালেখি জীবনে তিনি গল্প, উপন্যাস, প্রবন্ধ লিখেছেন। কিছুদিন সাংবাদিকতাও করেছিলেন। তার প্রকাশিত গ্রস্থের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। অধ্যাপক শওকত আলী ১৯৫৯ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত ঠাকুরগাঁও কলেজে, পরবর্তীতে সরকারী সংগীত মহাবিদ্যালয় ও সর্বশেষ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। ভাষা আন্দোলনেও তিনি অংশ নিয়েছিলেন। তার সাহিত্য চর্চায় বাংলার খেটে খাওয়া মানুষের জীবনধারা উচ্চকিত হয়েছে। শোষণহীন সমাজব্যবস্থা ছিল তার কথাসাহিত্যের মূলভাষ্য। অধ্যাপক শওকত আলীর প্রকাশিত উপন্যাসের মধ্যে পিঙ্গল আকাশ (১৯৬৩), যাত্রা (১৯৭৬), প্রদোষে প্রাকৃতজন (১৯৮৪), অপেক্ষা (১৯৮৫), দক্ষিণায়নের দিন (১৯৮৫), কুলায়কায় কাল¯্রােত (১৯৮৬), পূর্বরাত্রি পূর্বদিন (১৯৮৬), সম্বল (১৯৮৬), গন্তব্যে অত:পর (১৯৮৭), ভালোবাসা কারে কয় (১৯৮৮), যেতে চাই (১৯৮৮), ওয়ারিশ (১৯৮৯), বাসর ও মধু চন্দ্রিমা, উত্তরের খেপ (১৯৯১), দ্রিপদী (২০০২), হিসাব নিকাশ, দলিল, ছবির উপরে ছাপ উল্লেখযোগ্য। ছোটগল্পের মধ্যে উন্মুল বাসনা, লেলিহান সাধ, শুন হে লক্ষিণদর, বাবা আপনে যান এবং শিশুসাহিত্যে টুনকো নামে হাতি, নীল পাহাড়ের গান, ভিতর গড়ের তিন মূর্তি এবং তিনবন্ধু ও প্রাচীন রাজবাড়ি বেশ পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে। সাহিত্যে অবদানের জন্য শওকত আলী একুশে পদক, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, হুমায়ুন কবীর স্মৃতি পুরস্কার, লেখক শিবির পুরস্কার, ফিলিপস পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার লাভ করেন।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর