প্রত্যেক বিভাগীয় শহরে হবে বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল
ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশের প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে পর্যায়ক্রমে একটি করে স্বতন্ত্র বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। গতকাল রোববার তিনি সংসদে জাতীয় পার্টির সদস্য সেলিম উদ্দিনের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, দেশে হৃদরোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে উন্নত হার্টের চিকিৎসার জন্য সরকার এসব হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় ইতোমধ্যে সারাদেশের সকল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নতমানের হার্টের চিকিৎসার জন্য করোনারী কেয়ার ইউনিটসহ আলাদা হৃদরোগ বিশেষায়িত বিভাগ এবং কিডনি বিভাগ খোলা হয়েছে। তিনি বলেন, এসব হৃদরোগ বিভাগসমূহে উন্নতমানের হৃদরোগ চিকিৎসার সকল প্রকার ব্যয়বহুল ওষুধসহ বিনামূল্যে সেবা দেয়া হয় এবং বেশ কিছু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনজিওগ্রামসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ঢাকায় অবস্থিত বিশেষায়িত হৃদরোগ হাসপাতালে দেশের দরিদ্র জনসাধারণসহ অন্যান্য সকল রোগীকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়ে থাকে। তিনি বলেন, গ্রামীণ দরিদ্র সাধারণ জনগণের দৌরগোড়ায় বিনামূল্যে বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে সারাদেশে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করে সেখানে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞসহ মেডিসিন, সার্জারি, গাইনীঅবস, এ্যানেসথেসিয়া, শিশু, হৃদরোগ, ইএনটি, চক্ষু, অর্থোপেডিকস এবং চর্ম ও যৌন এই ১০টি রোগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করে জনবল পদায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে সংসদে জাতীয় পার্টির সালমা ইসলামের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে গত বছরের নভেম্বর পর্যন্ত কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে ৬৮ কোটি ৪২ লাখের অধিক গ্রামীণ জনগণ ভিজিটের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ২ কোটি ২৮ লাখের অধিক জরুরি ও জটিল রোগীকে উন্নত ব্যবস্থাপনার জন্য উচ্চতর পর্যায়ে রেফার করা হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সেবার উন্নয়নে সারাদেশে ইউনিয়নস্থ প্রতিটি সাবেক ওয়ার্ডে ১টি করে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ৫শ’ কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপন করা হয়েছে। দেশের ১ হাজার ১শ’টি কমিউনিটি ক্লিনিকে স্বাভাবিক প্রসব পরিচালিত হচ্ছে এবং ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত ৪১ হাজার ৫৩৮টি স্বাভাবিক প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ১৩ হাজারের অধিক কমিউনিটি ক্লিনিকে ১টি করে কম্পিউটার এবং প্রায় ২৪ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীকে টেবলেটসহ ইন্টারনেট সংযোগ দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত মোট ১০ হাজার ৭১৭টি নতুন পদ সৃষ্টি করা হয়েছে এবং ১৩ হাজার ৬৬৫ জন ডাক্তারসহ মোট ৪১ হাজার ৩২৪জনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ২০১৭ সালে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে ৩৭৮জন সহকারী সার্জন, ৬৭ জন সহকারী ডেন্টাল সার্জন নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নাসিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ প্রদান অনুমোদন করেছেন। এর মধ্যে ৪ হাজার ৮৯২ জন চিকিৎসক নিয়োগ প্রক্রিয়াদীন রয়েছে।
তিনি বলেন, এ ছাড়া সহকারী পরিচালক পদে ১৪৮ জন, উপ-পরিচালক পদে ৭৬ জন, পরিচালক পদে ৩২ জন, বিষয়ভিত্তিক অধ্যাপক পদে ১৭৮ জন, সহযোগী অধ্যাপক পদে ৫৪৩ জন, সহকারী অধ্যাপক ৫২২ জন এবং জুনিয়র কনসালটেন্ট পদে ৭৩৮ জন চিকিৎসককে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে ওষুধ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৭ সালে মোট ১৪২টি দেশে ৩ হাজার ১৯৬ কোটি টাকার ওষুধ রপ্তানি করেছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও সহযোগিতার ফলে ওষুধ রপ্তানির পরিমাণ ও দেশের সংখ্যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাসিম বলেন, মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে প্রায় ২ হাজার ৫শ’ শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়েছে। তিনি বলেন, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ১৩ হাজার ৮৬১ জন কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোডাইডার নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। সারা দেশে এ পর্যন্ত ৬৭টি মডেল ফার্মেসী এবং ২৬টি মডেল মেডিসিন শপ চালু করা হয়েছে। সরকারি দলের সদস্য আমিনা আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে নাসিম বলেন, আগামি ৫ বছরে দেশের মোট ৩০টি জেলায় কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, কিশোরী মেয়েদের স্বাস্থ্য সেবার জন্য স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে এমএনসি এ- এএইচ প্রকল্পের আওতায় স্কুল হেলথ এ- এ্যাডোলেসেন্ট হেলথ প্রোগ্রাম দেশের ১১টি জেলায় কৈশোর-বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম কর্নার চালু করেছে। এই কৈশোর সেবা কার্যক্রম কর্নারে কিশোরী মেয়েদের কৈশোরকালীন বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে জ্ঞান দেয়া হয়।
সরকারি দলের সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী বলেন, সারাদেশে ডাক্তারের শূন্য পদ পূরণের জন্য নতুন ৫ হাজার ডাক্তার নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি বলেন, সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার জরাজীর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিক সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।