April 13, 2026, 1:16 am

সংবাদ শিরোনাম
রেস্টুরেন্ট, ভবন, আর অদৃশ্য টাকা: এক কর্মকর্তার সম্পদের নীরব বিস্তার জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন: রংপুরে ১১ দলের বিক্ষোভ দিনাজপুর বধির ইনস্টিটিউটে শিক্ষার্থীদের মাঝে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দিতে নতুন পোশাক বিতরণ সাড়ে চার কোটি বিনিয়োগ নথি ঠিক, অদৃশ্য উৎস–আয়ের শেষ গন্তব্য কোথায়? রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাজার তৈরির পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

ব্যবসা করে লাভের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি ও বাজার তৈরির পদক্ষেপ নিতে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার ২৩তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনাদের… শুধু নিজেরা আর্থিক স্বচ্ছলতা আনলে হবে না। সাথে সাথে মানুষের ক্রয় ক্ষমতা বাড়াতে হবে। আপনার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে হলে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বাড়ানো একান্তভাবে প্রয়োজন। উৎপাদিত পণ্যের জন্য নতুন নতুন বাজার খুঁজে বের করতেও ব্যবসায়ীদের তাগিদ দেন শেখ হাসিনা। আমাদের আরও সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমি মনে করি, আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যারা জড়িতৃ আমাদের নতুন নতুন পণ্য যেমন উৎপাদন করতে হবে, আমাদের এক্সপোর্ট বাস্কেটটাও বাড়াতে হবে। আরও কী কী পণ্য বাংলাদেশ রপ্তানি করতে পারে, বিশ্বের কোন দেশে বাংলাদেশের কোন পণ্যের নতুন বাজার আছে, সেখানে কতটা চাহিদাটা আছে- সেসব খুঁজে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন সরকারপ্রধান। সেই সঙ্গে পণ্যের মান ও সময়োপযোগিতার দিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য যাতে বৃদ্ধি পায়; সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে কবে। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সকালে উদ্বোধনী বক্তব্যের পর ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন শেখ হাসিনা। পরে তিনি বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু হয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বাণিজ্য মেলা চলবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ৩০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা প্রবেশ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৫৮৯টি প্যাভিলিয়ন ও স্টল রয়েছে। এর মধ্যে ১১২টি বড় ও ৭৭টি ছোট প্যাভিলিয়ন। থাইল্যান্ড, ইরান, তুরস্ক, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, নেপাল, চীন, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, হংকং, সিঙ্গাপুর, মরিশাস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ৪৩টি প্রতিষ্ঠান মেলায় অংশ নিচ্ছে। শিল্পের পাশাপাশি কৃষির ওপর গুরুত্ব আরোপের তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অর্থনীতি কৃষি নির্ভর। একটা দেশকে উন্নত করতে হলে শিল্পায়নে যেতে হবে। কিন্তু কৃষিকে কোনোভাবে অবহেলা করা যাবে না। কারণ, কৃষিটা অত্যন্ত জরুরি। কৃষির মধ্য দিয়ে আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়। আবার, এই কৃষির সাথে সাথে আমাদের শিল্পেও যেতে হবে। শিল্প ছাড়া অর্থনৈতিক উন্নতি ত্বরান্তিত হয় না। আর সেই সাথে সাথে আমাদের রপ্তানিও করতে হবে। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের পরিকল্পিতভাবে নীতিমালা নিতে হবে। প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বের কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই প্রতিযোগিতাময় বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে আমাদের চলতে হবে। উৎপাদিত পণ্যের মানোন্নয়ন ও ব্যান্ডিংয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে এজন্য সরকারের পক্ষ থেকে সব রকমের সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের দায়িত্বের কথা বলতে গিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, প্রধানমন্ত্রিত্ব; এটা তো অল্প সময়ের একটা দায়িত্ব। কিন্তু এই সময়টুকু সম্পূর্ণ কাজে লাগাতে চাই… যে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য কতটুকু গড়ে দিতে পারলাম; সেই ভাবেই কাজ করি। এই দেশটি আমাদের, এই দেশটি গড়ে তুলতে হবে আমাদের। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার গুরুত্ব তুলে ধরে শেখ হাসিনা আরো বলেন, মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশীয় উদ্যোক্তারা যেমন লাভবান হচ্ছে, নতুন পণ্য প্রদর্শনীর সুযোগ পান, অন্যদিকে দেশি-বিদেশি ক্রেতারা- তাদের রুচি ও চাহিদা পূরণের সুযোগ হয়ে যাচ্ছে এই মেলার মধ্য দিয়ে। ফলে মেলায় পণ্যের মানোন্নয়ন ও বহুমুখী করার সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। ১৯৭১ সালে মাত্র ৪ হাজার ৯৮৫ কোটি টাকার অর্থনীতি নিয়ে যাত্রা শুরু হয় বাংলাদেশের। এখন তা প্রায় আট লাখ কোটি টাকারও বেশি। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন বিশ্বের ৪৬তম বৃহত্তম অর্থনীতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রায় ৯০ শতাংশ নিজস্ব অর্থায়নে করছি। এখন আমদানি ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ অভ্যন্তরীণ আয় থেকে মেটানো হচ্ছে। আমরা সেই সক্ষমতা অর্জন করেছি। এখন কারও কাছে হাত পেতে চলতে হবে না। আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশকে আমরা ছাড়িয়ে গেছি। বাংলাদেশ সম্পর্কে বিভিন্ন সংস্থার সূচকের কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের মতে- অর্থনৈতিক ও সামাজিক সূচকে একইসঙ্গে উন্নয়ন ঘটানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ রীতিমত বিস্ময়। প্রাইস ওয়াটার হাউস কুপার্স বলেছে, নেক্সট ইলেভেনের প্রথমে থাকা বাংলাদেশের অর্থনীতি ২০৫০ সালে পশ্চিমা দেশগুলোকেও ছাড়িয়ে যাবে। অনুষ্ঠানের শুরুতেই উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান বিজয় ভট্টাচার্য। ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন তার বক্তব্যে নতুন মুখ্য সচিব নজিবুর রহমানকে তার নতুন দায়িত্বের জন্য অভিনন্দন জানান। এছাড়া উপস্থিত বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান কাজী আমিনুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, আমরা নামে মাত্র ওয়ানস্টপ সার্ভিস চাই না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সুভাশীষ বসু।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর