April 3, 2026, 1:53 am

সংবাদ শিরোনাম
বৈধ কাগজপত্র-হেলমেট ছাড়া মিলবে না জ্বালানি তেল ক্যাম্পবেলটাউনে গার্হস্থ্য সহিংসতা প্রতিরোধে সেমিনার অনুষ্ঠিত দিনাজপুরে যাত্রীবাহী কোচ ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ২, গুরুতর আহত ৬ ক্যান্সার প্রতিরোধে স্বাস্থ্য সচেতনতা ও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের বিকল্প নেই পূর্ব শত্রুতার জেরে রাতের আঁধারে শতাধিক গাছ নষ্টের অভিযোগ এক-এগারোর ছায়া: বন্ধ দরজার ভেতর থেকে উঠে আসা নাম—মাসুদ রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী

শীতে গ্যাস সঙ্কট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পোৎপাদন

শীতে গ্যাস সঙ্কট আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পোৎপাদন

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

শীতে গ্যাস আরো তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলাতেই গ্যাসের সঙ্কট বিরাজ করছে। গ্যাস সরবরাহ কম থাকায় লাইনে চাপ কম। ফলে বাসাবাড়িতে যেমন গ্যাস থাকছে না, তেমনি শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। দু’সপ্তাহ ধরে চলমান এ সমস্যা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে গাজীপুর, আশুলিয়া, টঙ্গী ও সাভারের শিল্প-কারখানাগুলোতে প্রয়োজনীয় চাপে গ্যাস মিলছে না। এমনকি কারখানা চালু রাখাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। অধিকাংশ কারখানা দিন ও রাতের অধিকাংশ সময় বন্ধ থাকছে। ওসব এলাকায় গ্যাস সরবরাহের দায়িত্বে থাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানিও গ্যাস সমস্যায় বিব্রত। তবে আপাতত পরিস্থিতির উন্নতির কোনো আশ্বাস মেলেনি। যদিও পেট্রোবাংলা বলছে, দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। বর্তমানে রাজধানী ছাড়াও গাজীপুর, আশুলিয়া ইপিজেট ও নারায়ণগঞ্জসহ দেশের শিল্পসমৃদ্ধ এলাকাগুলোতে দিনের বেশিরভাগ সময়ই গ্যাস থাকছে না। এমন পরিস্থিতিতে বর্ধিত উৎপাদন দূরের কথা, বিদ্যমান উৎপাদন ক্ষমতার এক-তৃতীয়াংশও গ্যাসের অভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। তাতে শিল্পমালিকদের হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ ভেস্তে যেতে বসেছে। ধ্বংসের দ্বারপ্রাÍে পৌঁছেছে অনেক শিল্প-কারখানা। তিতাস গ্যাস ও পেট্রোবাংলা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বর্তমানে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়ায় রাজধানীসহ সারা দেশে গ্যাসের সংকট চলছে। বাসা বাড়িতে চুলা জ্বলছে টিম টিম করে। সকাল সাড়ে ৭টার পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকার বেশিরভাগ আবাসিক এলাকায় গ্যাগ থাকে না। গ্যাস সংকটে চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভারসহ আশপাশের এলাকার অধিকাংশ শিল্পকারখানা দিনে বন্ধ রাখতে হচ্ছে। আস্তে আস্তে এ সংকট সারা দেশে ছড়িয়ে পড়তে শুরু হয়েছে। উৎপাদিত গ্যাসের ৯২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক কাজে। আর মাত্র ৮ শতাংশ ব্যবহার করে আবাসিক গ্রাহকরা। আর শীতকালীন মৌসুম পুরোপুরি শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীসহ সারাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের চরম সংকট শুরু হয়েছে।

সূত্র জানায়, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা থেকে তিতাসকে সর্বোচ্চ ১ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস দেয়া হয়। এর মাত্র ৮ শতাংশ পান আবাসিক গ্রাহকরা। তারপরও গ্যাসের স্বল্পচাপের সবচেয়ে বড় শিকার হন এই গ্রাহকরা। বাকি ৯২ শতাংশ গ্যাস ব্যবহৃত হয় বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্প-কারখানা ও বাণিজ্যিক কাজে। শীতকালে তিতাস এলাকায় চাহিদা থাকে দুই হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। কিন্তু এখন পর্যন্ত গ্যাস না থাকায় গ্রাহকের বিড়ম্বনার কথা স্বীকার করেন তিতাসের কর্মকর্তারাও। তাদের মতে, মূলত গ্যাস কম আসায় সরবরাহ কম হচ্ছে। আর শীতকালে গ্যাস একটু সংকট থাকে। যদিও প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর মতে, আগামী বছর দেশের গ্যাস সংকট ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা হবে। সেজন্য বিদেশ থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করে ১ কোটি ঘনফুট জাতীয় গ্রিড যোগ করা হবে। ৫০ শতাংশের মধ্যে প্রথমার্ধে ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

সূত্র আরো জানায়, সিলেট গ্যাসফিল্ড, তিতাস গ্যাস ক্ষেত্রসহ ১০টি বড় গ্যাসকূপ থেকে কয়েকদিন ধরে গ্যাস উৎপাদন কমে গেছে। তার মধ্যে ভাঙ্গুরা গ্যাসফিল্ডে আগে উৎপাদন হতো ১৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (এমএমসিএফ), সেখানে উৎপাদন হয়েছে ৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। রূপগঞ্জ গ্যাসফিল্ডে ৮ এমএমসিএফডি থেকে কমে উৎপাদন হচ্ছে দশমিক ৪ মিলিয়ন ঘনফুট। সেমুতাং গ্যাসফিল্ডে আগে হতো ৩ এমএমসিএফডি, এখন হচ্ছে দশমিক ৯ এমএমসিএফডি। শাহবাজপুরে আগে হতো ৫০ এমএমসিএফডি, এখন হচ্ছে ৩৭.২ এমএমসিএফডি, ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসফিল্ডে আগে ২৬ এমএমসিএফডি হতো, এখন হচ্ছে ১২.০১ এমএমসিএফডি। সালদায় আগে ছিল ১০, এখন ৩.০৮ এমএমসিএফডি, রিয়ানীগঞ্জ গ্যাসফিল্ডে আগে হতো ১৫, এখন ৯.২ এমএমসিএফডি। সিলেট গ্যাস ফিল্ডে আগে হতো ৮ এমএমসিএফডি, এখন হচ্ছে ৫ এমএমসিএফডি। তিতাস গ্যাসফিল্ডে আগে হতো ৫৪২ এমএমসিএফডি, এখন হচ্ছে ৩৩৫ এমএমসিএফডি। বর্তমানে দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ৮৫ শতাংশের জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা হয়। কেন্দ্রগুলোতে গড়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরবরাহ করা হচ্ছে ৭০ কোটি ঘনফুটের মতো। বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা ২’শ ৫০ কোটি ঘনফুট। তার বিপরীতে উৎপাদন ২’শ কোটি ঘন ফুটের কম। তাই বোরো মৌসুমের জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দেয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রয়োজনে সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রেখে তা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সরবরাহের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে গ্যাসের অভাবে সাড়ে ১১’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় গ্যাস সংকট বেড়েছে। ফলে শিল্পে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। তিতাস ও ফেঞ্চুগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রের দুটো কূপের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সেজন্য প্রায় ছয় কোটি ঘনফুট গ্যাসের উৎপাদন কমেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিতাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মসিউর রহমান জানান, দেশে ৫০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের সংকট চলছে। বেশিরভাগ গ্যাস ক্ষেত্রগুলোয় উৎপাদন কমে গেছে। আগেই ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যেতো। গত কয়েক দিন ধরে আরো ১০ থেকে ১২ কোটি ঘনফুট গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। ১৫৮ কোটি ঘনফুট গ্যাস, যেখানে চাহিদা প্রায় ১৯০ কোটি ঘনফুট। ফলে গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে টঙ্গী ও গাজীপুরের শিল্প-কারখানায় সমস্যা প্রকট। বিষয়টি নিয়ে পেট্রোবাংলার সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদেরকে সমস্যার কথা জানানো হয়েছে। পেট্রোবাংলা বলেছে, এক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি হবে। যদিও পেট্রোবাংলা কদিন আগেও এমন আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সমাধান হয়নি, বরং গ্যাসের সরবরাহ কমেছে।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর