February 22, 2024, 3:51 pm

সংবাদ শিরোনাম
ভোলায় ভাষা শহিদের প্রতি পুলিশ সুপারের শ্রদ্ধা নিবেদন বাংলাদেশ প্রেসক্লাব পীরগঞ্জ উপজেলার দ্বি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ৪দিন ব্যাপী বইমেলার উদ্বোধন মাতৃভাষা শহীদের স্মরনে লক্ষ্মীপুরবাসী জগন্নাথপুরে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন চিলমারীতে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়ায়, মোবাইল দিয়ে কর্মচারীর মাথা ফাটালেন উখিয়ায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ উদ্ধার জমাজমি সংক্রান্ত বিরোধ, পটুয়াখালীতে মাছের ঘেরের বাঁধ কেটে দিয়েছে প্রতিপক্ষরা, ১০ লাখ টাকার ক্ষতি রংপুরে মোটর মালিক সমিতির নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি, আটক ৩ শিমুলতলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের আত্মহত্যা

ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ: বিচার বিভাগীয় তদন্তে ২৯ জনের নাম।

ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ: বিচার বিভাগীয় তদন্তে ২৯ জনের  নাম।

সিলেট ব্যুরো অফিস

২০১২ সালে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তে ২৯ জনের নাম উঠে এসেছে। গত বুধবার (১৫ নভেম্বর) সিলেট চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি। সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক উম্মে সরাবন তহুরা পরদিন বৃহস্পতিবার (১৬ নভেম্বর) আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্তে যে ২৯ জনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে তারা হলেন- সিলেট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ও বর্তমানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাস মিঠু, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক (বরখাস্ত) সভাপতি পংকজ পুরকায়স্থ, আবু সরকার (বহিরাগত, শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি), জাহাঙ্গীর আলম (জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক), মৃদুল কান্তি সরকার, কামরুল ইসলাম, আলমগীর হোসেন (সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে আইনজীবী ও বিশ্বনাথ উপজেলার রামপাশা ইউপি চেয়ারম্যান), বাবলা, মো. আতিকুর রহমান, লায়েক আহম্মেদ, সিদ্দিক আহম্মেদ ইউসুফ, জহিরুল ইসলাম, আক্তারুল ইসলাম, জসিম উদ্দিন, আসাদুজ্জামান শাহিন, মোহাম্মদ বিন মামুন বুলবুল, আউলাদ, আছরাফ আহমেদ শিপন, নজরুল ইসলাম, অলিউল্লাহ ওরফে ওলিউর রহমান, খুরশেদ আলম, বাছিদ ওরফে আবদুল বাছিদ, আবদুস সালাম, ইমতিয়াজ রফিক চৌধুরী, আবদুল্লাহ ফারুক, কয়েছ ওরফে কয়েছুজ্জামান তালুকদার, আবু রেহান, রুবেল ও জ্যোতির্ময় দাস সৌরভ।

অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

বিচার বিভাগীয় তদন্তে বলা হয়, ‘ছাত্রাবাস পোড়ানোর ঘটনায় মামলার বাদীসহ সাক্ষীদের জবানবন্দি ফের গ্রহণ করা হয়। ফলে সাক্ষীদের মৌখিক সাক্ষ্য, ভিডিও ফুটেজ, স্থিরচিত্র, জেলা প্রশাসন গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এটাই প্রমাণিত হয় যে, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের বিরোধের কারণেই সংঘটিত হয়। ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ছাত্রাবাসে অগ্নিসংযোগ করে।মৌখিক ও দালিলিক সাক্ষ্য বিচার বিশ্লেষণে এটা সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণিত।’

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ছাত্রাবাসে আগুন দিতে গ্যালনে করে পেট্রোল ব্যবহার করা হয়। পরে ছাত্রাবাস কক্ষ লুটপাটও হয়। এ ব্যাপারে এক সাক্ষী বলেছেন, ‘ছাত্রাবাস যখন আগুনে পুড়ছিল, তখন রামদা উঁচিয়ে মিছিল করেছিলেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পুলিশ ছাত্রাবাসের ফটকের সামনে উপস্থিত থাকলেও নীরব ছিল। পরে ছাত্রলীগের একটি সংক্ষিপ্ত সমাবেশও হয় ছাত্রাবাস ফটকে।’

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ৮ জুলাই সিলেট এমসি কলেজে শিবির তাড়াতে ছাত্রবাসে ছাত্রলীগের দেওয়া আগুনে ৪২টি কক্ষ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় হল সুপার বশির আহমদ বাদী হয়ে সিলেট মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় ২০১২ সালের ১৩ জুলাই মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে এ ঘটনায় আরও দুটি মামলা করা হয়।

আলোচিত এ মামলায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) দু’বার ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একবার আদালতে প্রতিবেদন দাখিল কররেও আদালত তা গ্রহণ করেননি। সর্বশেষ গত ৩১ মে বিচার বিভাগীয় তদন্তের আদেশ দেন সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে সারাবন তহুরা।

Facebook Comments Box
Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর