স্মিথ সবাইকে ‘দৌড়াচ্ছেন’!
ডিটেকটিভ স্পোর্টস ডেস্ক
ফিল্ডিংয়ের সময় মাঠের একপ্রান্ত থেকে আরেকপ্রান্তে ছুটছিলেন তামিম ইকবাল। একপর্যায়ে কোচের কাছে বলছিলেন, “স্যার আমাকে এত দৌড়াচ্ছে!” স্টিভেন স্মিথের চিন্তাশীল ও সক্রিয় নেতৃত্বে এমন ছুটোছুটি করতে হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের সব ফিল্ডারকে। সবাইকে দলে সম্পৃক্ত করার এই যে চেষ্টা অধিনায়কের, সেটি খুব ভালো লেগেছে কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের।
প্রথমবার বিপিএল খেলতে এসে স্মিথ পেয়েছেন নেতৃত্ব। দলে তামিম ইকবাল থাকলেও নেতৃত্বে কখনও খুব আগ্রহী নন অভিজ্ঞ বাঁহাতি ওপেনার। কুমিল্লা তাই ভরসা রেখেছে স্মিথের ওপর। বল টেম্পারিং বিতর্কে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে নিষিদ্ধ হয়েছেন, কিন্তু তার আগে নেতৃত্বে যথেষ্টই সফল ছিলেন এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।
বিপিএল শুরুর মাত্র দুই দিন আগে দলে যোগ দিলেও স্মিথকে মাঠে দেখা গেছে বেশ প্রাণবন্ত। পুরোপুরি কর্তৃত্ব পেতে, সতীর্থদের বুঝে উঠতে সময় লাগবে কিছুটা। কিন্তু নিজের ছাপ রাখতে শুরু করেছেন প্রথম ম্যাচ থেকেই। রোববার সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে কুমিল্লার জয়ে তার বোলিং পরিবর্তন, মাঠ সাজানো ছিল দারুণ।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার কোচ সালাউদ্দিন জানালেন, প্রথম ম্যাচে স্মিথের নেতৃত্ব তার দারুণ লেগেছে।
“তামিমের খুব কষ্ট হয়েছে আজকে। ও আমাকে বলেছে, ‘স্যার, স্মিথ আমাকে এত দৌড়াচ্ছে!’ সবাইকে ও (স্মিথ) খুব সম্পৃক্ত রেখেছে। এটা খুব ইতিবাচক। ছেলেদের কষ্ট হবে, বুঝতে পারছি এখনই। যারা ভালো ফিল্ডার, বাইরে তাদের অনেক দৌড়াদৌড়ি করতে হবে।”
“ও প্রত্যেকটা খেলোয়াড়কে অনেক বেশি সম্পৃক্ত করে রেখেছে। এটা খুব ভালো দিক। সে অনেক বেশি অভিজ্ঞ। বিদেশি আরও অনেকের মতো ওর হয়তো এখানে খেলার অভিজ্ঞতা এতটা নেই। তবে এই টুর্নামেন্টে ভালো খেলার জন্য ও নিজেও বেশ উদগ্রীব।”
কুমিল্লা কোচের মতে, সময়ের সঙ্গে পারস্পরিক যোগাযোগ আরও বাড়বে। স্মিথের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে সবাইকেই।
“ওর সাথে খেলোয়াড়দের যোগাযোগ কেমন হচ্ছে, সেটা এখনই বলা কঠিন। আমাকে হয়তো মানিয়ে নিতে হবে। স্মিথকেও মানিয়ে নিতে হবে। দেশি এবং বিদেশি খেলোয়াড়দের মধ্যে সমন্বয় করা কঠিন। তবে একটু কঠিন হলেও দলের স্বার্থে আমাদেরকে মানিয়ে নিতে হবে।”
“আমার কাছে মনে হচ্ছে ও অনেক ইতিবাচক। খেলাটা খুব ভালো চিন্তা করে। যদি খেলা ১০ ওভারে থাকে, তাহলে ও দুই ওভার পর, কি হবে সেটা নিয়েও চিন্তা করে। তার এই দিকটা দেখে বেশ ভালো লাগছে।”