সেঞ্চুরিতে ফিরলেন মুমিনুল
ডিটেকটিভ স্পোর্টস ডেস্ক
শন উইলিয়ামসকে কাট করে বাউন্ডারি, মুমিনুল হক ছুঁলেন ফিফটি। আরেক প্রান্ত থেকে ব্যাট তুলে তালি দিয়ে উৎসাহ জোগালেন মুশফিকুর রহিম। মুমিনুলের ভাবান্তর নেই। গত কিছুদিনের যা অবস্থা, তাতে ফিফটিও উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। কিন্তু একটু ব্যাট তোলা বা নূন্যতম উদযাপনও দেখা গেল না। মুমিনুলের দৃষ্টি ছিল বড় কিছুতে। সেই লক্ষ্য পূরণ করে তবেই করলেন উদযাপন। সেঞ্চুরি!
অবশেষে দুঃসময়ের বেড়াজাল ছিঁড়ে বের হলেন মুমিনুল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে উপহার দিলেন দারুণ এক সেঞ্চুরি। তার নিজের জন্য যেমন জরুরি ছিল, দলের জন্যও সেঞ্চুরিটি এসেছে দারুণ প্রয়োজনের সময়।
দলীয় ১৩ রানে ইমরুল কায়েস আউট হওয়ার পর উইকেটে গিয়েছিলেন মুমিনুল। আরও দুই ব্যাটসম্যানের দ্রুত বিদায়ে দলের রান হয়ে যায় ৩ উইকেটে ২৬। আরেকটি ব্যাটিং বিপর্যয়, আরও একবার অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় দল। সকালে উইকেটে আর্দ্রতা ছিল বেশ, জিম্বাবুয়ের পেসাররা বোলিং করছিলেন দারুণ। সেই অনিশ্চয়তার দোলাচলেই আরও একবার ত্রাতা হলো মুমিনুলের ব্যাট।
বাংলাদেশের টেস্ট ব্যাটিংয়ের সাম্প্রতিক দুরাবস্থার সমার্থক হয়ে ছিলেন যেন মুমিনুল। সাদা পোশাকে যিনি ছিলেন দলের বড় ভরসা, তিনিই যেন ভুলে গিয়েছিলেন রান করতে। এই টেস্টের আগে টানা যে আট ইনিংসে দুইশ ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ, এই আট ইনিংসে মুমিনুলের রান ছিল ৬৯।
রানখরার চেয়েও দুর্ভাবনার ব্যাপার ছিল তার আউট হওয়ার ধরন। বারবার ফিরছিলেন আলগা শটে। এই ইনিংসের শুরুটাও খুব ভালো ছিল না। সৌভাগ্যের ছোঁয়া ছিল। জীবন পেয়েছেন ৯ ও ২৫ রানে। ছিলেন বেশ নড়বড়ে। আত্মবিশ্বাসের অভাব ব্যাটিংয়ে ফুটে উঠছিল স্পষ্টভাবে।
সেই সময় কাটিয়ে ফেলার পর অবশ্য ক্রমেই খুঁজে পেয়েছেন নিজেকে। আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছেন, চেনা শটগুলোও ফিরে এসেছে। প্রথম সেশন শেষে রান ছিল ৬৪ বলে ২৫। দ্বিতীয় সেশনে রীতিমতো রান উৎসবে মেতেছিলেন। এই সেশনেই করেছেন ১০০ বলে ৯০ রান।
ফিফটি করেছিলেন ৯২ বলে। পরের ফিফটি কেবল ৫৮ বলেই। ১৫০ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টেস্ট সেঞ্চুরি।
তার সেঞ্চুরিতে একটা মাইফলক স্পর্শ করল দেশের ক্রিকেটও। ১১০ টেস্টে বাংলাদেশের এটি ৫০তম টেস্ট সেঞ্চুরি।
সাত টেস্ট সেঞ্চুরিতে দেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির রেকর্ডে মুমিনুল এখন এককভাবে দুইয়ে। ৬১ টেস্টে ৬ সেঞ্চুরি করা মোহাম্মদ আশরাফুলকে পেছনে ফেললেন ৩১ টেস্টেই ৭ সেঞ্চুরি করে।
এই সেঞ্চুরিযাত্রায় তার সঙ্গী ছিলেন মুশফিকুর রহিম। বিপর্যয় থেকে দলকে টেনে তুলেছে এই দুজনের জুটিই। চতুর্থ উইকেটে দুজনে গড়েছেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটির রেকর্ড। আগের রেকর্ড জুটিতেও ছিলেন মুমিনুল। বছরের শুরুতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্টে মুমিনুল ও লিটন দাস গড়েছিলেন ১৮০ রানের জুটি।
সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর মুমিনুল ছুটছিলেন আরও বড় কিছুর পথে। চা বিরতিতে গিয়েছিলেন ১১৫ রান নিয়ে।