ইমানুল সোহান ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয় সংবাদদাতাঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ওই
শিক্ষার্থীর নাম নাজমুল হাসান। নাজমুল হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার গ্রামের বাসা সাতক্ষীরা জেলার তালা থানার বারাতে। গত শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদ্দাম হোসেন হলের ২২৯
নং কক্ষে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে সে ।আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্র্থীর সহপাঠী সূত্রে জানা গেছে, নাজমুল হাই প্রেসার ও হাপানী রোগে ভুক্ত। বেশ কিছুদিন ধরে সে অসুস্থতার মধ্যে ছিল। প্রতিদিন সে ১২টি করে ট্যাবলেট সেবন করত এবং সবসময় বিষন্নতা ও হতাশার মধ্যে থাকতো। হতাশা ও অসুস্থতাকে সঙ্গী করে সে আত্মহত্যা করে।’তার সহপাঠীরা আরো জানায়, আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তার বন্ধু নাদিমকে রুমে আসতে বলে নাজমুল। পরে নাদিম নাজমুলের রুমে গিয়ে ভেতর থেকে
দরজা বন্ধ দেখতে পায়। এরপর নাদিম নাজমুলকে কয়েকবার ডাকার পরেও সাড়া পেতে ব্যর্থ হয়। তখন সে রুমের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকে। একপর্যায়ে পাশের রুমের কয়েকজন শিক্ষার্থী জড়ো হয়ে রুমের দরজা ভাঙ্গার চেষ্টা করে। দরজা ভেঙ্গে নাজমুলকে ফাঁসরত অবস্থায় দেখতে পায় তারা। তারপর তাকে বিশ্ব বিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। নিলে তার বন্ধু ও আশেপাশের রুমের কয়েকজন তাকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যায়। পরে মেডিকেল সেন্টারের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ষোষণা করে। এ বিষয়ে নাজমুলের রুমমেট মনজুর হাসান বলেন, আমি গত দুই-তিন দিন ধরে গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছি। আবার অন্য রুমমেটও বাড়িতে আছে। আমরা ক্যাম্পাসে থাকলে এমনটা হতে দিতাম না।’মেডিকেল সেন্টারে কর্মরত ডঃ. বদিউজ্জামান বলেন, ‘নাজমুলকে মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে আসা হলে আমরা তাকে মৃত অবস্থায় পায়। সে যে আত্মহত্যা করেছে এটাও নিহ্নিত হয়েছে।’এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রতন শেখ বলেন, ‘এটা আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। লাশ কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপর সেখান থেকে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার পরিবারের নিকট লাশ হস্তান্তর করা হবে।’ এ বিষয়ে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনা শোনামাত্রই কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাসে চলে আসি। এরপর পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ওই শিক্ষার্থীর রুম পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার মর্মহত। এ ধরনের ঘটনা কোনভাবেই কাম্য নয়।
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৯ অক্টোবর ২০১৮/ইকবাল