
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ২ হাতুড়ে গ্রাম্য ডাক্তার মিলে এক গর্ভবতী মহিলাকে ব্লেড দিয়ে সিজার করার পর ফুটফুটে এক নবজাতকের মাথার বিভিন্ন স্থানে কেটে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে পুর জেলা জুরে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়, পাশাপাশি ওই নবজাতকের পরিবারের মধ্যে বইছে সুখে মাতব। এ ঘটনাটি ঘটেছে
গত বুধবার(৮ আগস্ট) তাহিরপুর উপজেলার বালিজুরি ইউনিয়নের বড়খলা
কান্দা হাটি গ্রামে এবং এমন মর্মান্তিক ঘটনার জন্ম দিয়েছে এই গ্রামেরই গ্রাম্য ২ হাতুড়ে ডাক্তার।
এ ঘটনার সংবাদ পেয়ে তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পূর্নেন্দু দেব ও তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল হোসেন ঘটনার দিনেই বড়খলা গ্রামে সরেজমিন যান।
শুক্রবার দুপুরে বড়খলা গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়,গত বুধবার সকাল ১১টার দিকে বড়খলা গ্রামের সুজিত বর্মন এর স্ত্রীর প্রসব ব্যাথা অতিরিক্ত হওয়ার ফলে পরিবারের লোকজন বিষয়টি একই গ্রামের হাতুড়ে ডাক্তার লাল মোহন বর্মন ও নুরুল আমিন নামের আরেক গ্রাম্য ডাক্তারকে প্রসব ব্যাথার বিষয়টি জানালে তাৎক্ষনিক দুই হাতুড়ে ডাক্তার সুজিত বর্মন এর বাড়িতে যায়।
সেখানে গিয়ে তার স্ত্রীকে দেখ হাতুড়ে ডাক্তার দুজনেই এই গর্বভতী পরিবারের লোকজনকে জানায় বাচ্ছাটি মৃত তাই ব্যতা খু ববেশি হচ্ছে। যত তাড়াতাড়ি সিজার করতে না পারলে বাচ্ছার মায়েরও মৃত্যু হবে। হাতুড়ে ডাক্তাররা জানায় তারা নিজেরাই সিজার করতে পারে ! পরে নিজ বসত ঘরের মধ্যেই দু,হাতুড়ে ডাক্তার মিলে
ব্লেড দিয়ে (যোনিপথ) কেটে সিজার করার চেষ্ঠা করলে ব্লেডের আঘাতে বাচ্ছাটির মাথার বিভিন্ন জায়গায় কেটে যায়। এমতাবস্থায় রক্তাক্ত বাচ্ছাটিকে বাচাঁতে পাশর্^বর্তী বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে পথিমধ্যে বাচ্ছাটির মৃত্যু হয়। বর্তমানে বাচ্ছাটির মা বিশ^ম্ভরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে।
এ বিষয়ে কথা হয় স্বামী সুজিত বর্মনের সঙ্গে তিনি বলেন,আমার সুস্থ বাচ্ছাটি এমনভাবে মারা গেল,মায়ের অবস্থাও খারাপ আমি এখন কি করব ভাবতে পারছিনা।
এ ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রেনু মিয়া জানান, বিষয়টি নিয়ে আমরা গ্রাম্যভাবে বসেছিলাম,রোগীনী সুস্থ হওয়ার পর আমরা একটা সিদ্ধান্ত গ্রহন করব।
এ বিষয়ে হাতুড়ে ডাক্তার নুরুল আমিন ও লাল মোহন বর্মনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্ঠা করলেও নাম্বার দু,টি বন্ধ পাওয়া যায়।
তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ ইকবাল হোসেন জানান,ঘটনাটি শুনে আমি সরেজমিনে গিয়েছিলাম এবং আমি খুবই মর্মাহত হয়েছি। বর্তমান আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে এ ঘটনাটি নতুন এক ইতিহাস সৃষ্টি করেছে।