ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধিঃ
ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে যানবাহন চলাচল একবারে অযোগ্য হয়ে পড়েছে। যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। মহাসড়ক জুড়ে অগণিত খানা-খন্দক ও বড় বড় গর্ত সৃষ্টিসহ কোথাও কোথাও সড়কের অস্তিত্বই হারিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের অযোগ্য মহাসড়ক এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়—ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার সড়কের পুরোটাই যান চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ভেড়ামারা-কুষ্টিয়া মহাড়কটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত ২০১৪-২০১৫ ও ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরে জনগুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক দুইটি মেরামতের জন্য টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে একেবারে অপর্যাপ্ত ওই বরাদ্দের সাময়িক সংস্কারে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে সংস্কারের পরপরই ওভার লোডে গাড়ির অব্যাহত চাপ ও বর্ষায় বৃষ্টির পানিতে মহাসড়কের সংস্কারকৃত কাজগুলো ধুয়ে-মুছে বিলীন হয়ে গেছে। যান চলাচলের অযোগ্য এই মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সমপ্রতি সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের উদ্যোগে কুষ্টিয়ায় মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী পরিবহন মালিক-শ্রমিকরা মহাসড়ক মেরামতের দাবি তোলেন। অন্যথায় গাড়ি চলাচল বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়। পথচারী, যানবাহনের যাত্রী, চালক ও মহাসড়ক সংলগ্ন বসতবাড়ির মানুষজন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। গাড়ি চলাচলের সময় প্রচণ্ড ধুলায় চারিদিক আচ্ছন্ন হয়ে যায়। এ ছাড়া প্রতিদিন কমপক্ষে ৮-১০টি যানবাহন পথিমধ্যে বিকল ও দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। অপরদিকে, ধুলা থেকে পরিত্রাণের জন্য মহাসড়ক সংলগ্ন বসতবাড়ির শত শত মানুষ ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রেখে একরকম অবরুদ্ধ জীবন-যাপন করছেন। ফলে তাদের স্বাভাবিক জীবন-যাপন দারুণভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন লাভলু বলেন, ‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। করুণ দশায় পরিণত মহাসড়ক দুইটিতে প্রতিদিন দুর্ঘটনা, গাড়ি বিকলসহ যন্ত্রাংশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অতিসত্বর মেরামত কাজ শুরু না হলে গাড়ি চলাচল বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।’ সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুষ্টিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মহাসড়ক দুইটির অধিক ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে খুলনা জোনের অতিরিক্ত প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। চলতি মাসের শেষদিকে টেন্ডার উন্মুক্ত ও অনুমোদনের পর সংস্কার কাজ শুরু হবে।’
প্রাইভেট ডিটেকটিভ/১৮মার্চ২০১৮/ইকবাল