রাতের অন্ধকারে জামায়াতে ইসলামের এমপি প্রার্থীর বিলবোর্ড ফেলে দিয়ে নিজের নামের বিলবোর্ড প্রতিস্থাপন করে ধানের শীষে ভোট চান গজঘন্টা ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি মতিউর রহমান বাবু। এই নিয়ে দিনভর উত্তেজিত গজঘন্টা ইউনিয়ন।
গজঘন্টা ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামের সভাপতি মাওলানা ফরিদ উদ্দিন সুজা বলেন, ১০.১১.২৫ ইং তারিখে রাতে গজঘন্টা ইউনিয়নের চার মাথায় জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থী রায়হান সিরাজীর একটি বিলবোর্ড নিখোঁজ হয়। তিনি আরো বলেন, ইউনিয়নের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিষয়টি নিয়ে আমরা চুপ ছিলাম।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গঙ্গাচড়া উপজেলার প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি মোঃ আশরাফুল আলম তার বক্তব্যে বলেন,গত ঈদুল ফিতর থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত এমপি প্রার্থী জননেতা রায়হান সিরাজীর একটি বিলবোর্ড গজঘন্টা ইউনিয়নের জিরো পয়েন্টে থাকলেও ১১.১১.২৫ ইং তারিখ রাত্রে গজঘন্টা ইউনিয়নের সেক্রেটারি মতিউর রহমান বাবু, রাতের অন্ধকারে জামায়াত নেতা রায়হান সিরাজির বিলবোর্ডটি বেআইনিভাবে ফেলায়ে দিয়ে সেখানে তার নামের একটি বিলবোর্ড স্থাপন করেন।
জনাব আশরাফুল আরো বলেন, বিলবোর্ডটি গত ঈদুল ফিতর থেকে এখানে থাকলেও কোন কথা হয়নি।
গজঘন্টা ইউনিয়ন বিএনপি সেক্রেটারি মতিউর রহমান বাবু এমন একটি সময় উদ্দেশ্য প্রণীতভাবে বিলবোর্ডটি অন্যায় ভাবে ফেলালেন, যখন ফ্যাসিবাদ শক্তি মাথা ছাড়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন গত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদের দ্বারা নির্যাতনের সময় এই মতিউর রহমান বাবু কোথায় ছিলেন? আজ যখন ফ্যাসিবাদরা লকডাউন ঘোষণা করেছে , ঠিক সেই সময় আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে, গোপন এজেন্ডা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে বিলবোর্ড ফেলায়ে দেয়ার মত নেক্কারজনক ঘটনা ঘটায়। এ বিষয়ে তিনি গজঘন্টা ইউনিয়নের জনগণ ও প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করেন।
গজঘন্টায় ইউনিয়ন সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, মতিউর রহমান বাবু নিজ উদ্যোগে এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন এ ব্যাপারে দলীয়ভাবে বিষয়টি কেউ জানিনা। তবে এ কাজটি ঠিক হয়নি। এর দায়ভার মতিউর রহমান বাবুকেই নিতে হবে।
অবশেষে প্রশাসন ও উপজেলা পর্যায়ের জামায়াত ইসলামীও বিএনপি নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে গভীর রাতে মীমাংসা হয় এবং সকলের সম্মতিতে শান্তিপূর্ণভাবে জামায়াতে ইসলামের এমপি প্রার্থীরায়হান সিরাজীর বিলবোর্ডটি স্থাপনের মধ্য দিয়ে গজঘন্টা ইউনিয়নের পরিবেশ আপাতত শান্ত হয়।