March 24, 2026, 1:24 am

সংবাদ শিরোনাম
রাস্তায় ‘মরণফাঁদ’—রংপুরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথা সড়কের দায় কার? ঈদ যাত্রায় জনভোগান্তি নিরসনে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান শ্রম পরিদর্শন: লাইসেন্সে অস্বচ্ছতা, বোনাসে নীরবতা রসিক-এর পূর্ণকালীন প্রশাসক হলেন-আইনজীবী মাহফুজ-উন-নবী চৌধুরী আলুর লাভজনক দাম নিশ্চিত করা এবং সার নিয়ে দুর্নীতি, কালোবাজারী বন্ধ করে ভর্তুকি মূল্যে কৃষকের সার পাওয়ার নিশ্চয়তার দাবিতে রংপুরে কৃষক সংগঠনের বিক্ষোভ শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? বদর দিবস উপলক্ষে গঙ্গাচড়ায় আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রংপুর জেলার নব-নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সভা শ্রম পরিদর্শন না প্রহসন? ঈদের আগে হোটেল শ্রমিকদের বোনাস সংকটের ভেতরের গল্প একটি প্রজ্ঞাপন, বহু প্রত্যাশা: ঈদ বোনাসের অন্তরালের গল্প

রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিন মেয়র প্রার্থী

রংপুর ব্যুরো:
আগামী ২৭ ডিসেম্বর হচ্ছে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এবারের নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে
আসছে ততই হিসেব জটিল হচ্ছে। ভোটের হিসেবের চুলচেলা বিশ্লেষণ করছে প্রার্থী ও সমর্থকরা। তবে এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর লড়াইয়ের সম্ভবনা মনে করা হলেও ভোটের মাঠে আওয়ামী
লীগ সমর্থক এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কথা এখন ভোটারদের কাছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অন্যদিকে এবারের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেয়ায় প্রার্থীরা নতুন প্রজন্ম, বিএনপি, জামায়াত,
সংখ্যালঘু ও অবাঙ্গালি ভোটারকে তাদের পক্ষে টানার চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন এই তিন প্রার্থী।
আর জাতীয় পার্টির মধ্যে কোন প্রকাশ্য কোন বিভেদ না থাকলেও দলের চেয়ারম্যান জিএম
কাদেরের দায়িত্ব পালনে আদালতের বাঁধা থাকায় কিছুটা হতাশ রংপুরের নেতাকর্মীরা। আর জাতীয়
পার্টির প্রার্থীর নানা ব্যর্থতা, অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দুদকে তলবসহ নানা ইস্যু এবার
ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে।
আর মনোনয়ন বঞ্চিতদের অসন্তোষ ও আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বেকায়দায় রয়েছে
আ.লী প্রার্থী। একারণে শীঘ্রই দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা রংপুর আসছেন বলেও দলীয় সূত্রে জানা
গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রংপুর সিটি কর্পোরেশনের এবারের নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত অংশগ্রহণ না
করায় ভোটের লড়াই হবার কথা জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ঘিরে।
এছাড়াও আওয়ামীলীগ সমর্থক স্বতন্ত্র এক প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীও
আলোচনায় রয়েছেন।
স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলন ইতিমধ্যেই মাঠ সরগরম করে রাখছেন। তার নিজস্ব কর্মী বাহিনী, খামারী,
আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন দলের নিরব সমর্থন ও প্রয়াত মেয়র ঝন্টুর ভোট
তিনি কাজে লাগাতে পারলেই ভালো ফলাফল হবে।
তবে জাতীয় পার্টি তাদের মূল প্রতিদ্বন্দীভাবছেন আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কাকে।
পক্ষান্তরে আওয়ামী লীগ তাদের প্রতিদ্বন্দী জাতীয় পার্টিকে মাথায় রেখে নির্বাচনি মাঠ চষে
বেড়াচ্ছেন। গ্রহণ করছেন বিভিন্ন কৌশল। এর মধ্যে জাতীয় পার্টি ও আওয়ামীলীগ নতুন প্রজন্ম,
বিএনপি, জামায়াত, সংখ্যালঘু ও অবাঙ্গালি ভোটারকে তাদের পক্ষে নেয়ার চেষ্টা করছেন।
তরুণদের ভোট টানতে নৌকা ও লাঙ্গল মার্কার প্রার্থীরা গ্রহণ করেছেন নানা উদ্যোগ।
আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরছেন। তবে বসে নেই আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী দুই
স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইসলামী আন্দোলনসহ অন্যদল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও।
আওয়ামীলীগ নেতারা মনে করছেন, নৌকা মার্কা প্রার্থী সংরক্ষিত আসনের সাবেক এমপি ও
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আইনজীবী হোসনে আরা লুৎফা ডালিয়ার পক্ষে সবাই
ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামবেন।
গত নির্বাচনের ভুলত্রুটি সংশোধন করে সবাই এক হয়ে কাজ করলে বিজয় সুনিশ্চিত হবে।
মনোনয়ন বঞ্চিতদের অসন্তোষ ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটাতে কেন্দ্রীয় টিমসহ রংপুর
আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ কাজ করছেন।
জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা মনে করছেন, রংপুর হচ্ছে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির
প্রতিষ্ঠাতা পল্লীবন্ধু হুসেইন মুহাম্ম্দ এরশাদের জন্মস্থান।

জাতীয় পার্টি ও লাঙ্গলের ঘাটি। এখানে অন্য কোন দলের প্রার্থী সুবিধা করতে পারবে না তার
প্রমাণ বিগত সিটি নির্বাচন। ওই নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তাফা
এক লাখের বেশি ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এবারও তারা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় হবেন বলে মনে
করছেন। এজন্য তারা ইতিমধ্যেই নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে।
সেন্টার কমিটিও চুড়ান্ত হয়েছে। কর্মী-সমর্থক ও নেতাকর্মী সবাই উৎফুল্ল। কারণ হিসাবে তারা
মনে করছেন, মোস্তফা একজন সফল জনপ্রতিনিধি, তিনি দলমত নির্বিশেষে সবার সাথে মিশেন, তার
দরজা সবার জন্য খোলা। এতে ভোটারসহ নগরবাসী তার সাথে সহজে মিশতে পারেন, কথা বলতে
পারবেন। এটাই তাদের সবচেয়ে বড় পাওয়া।
এ ব্যাপারে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী ও দলটি মহানগর কমিটির সভাপতি, সদ্য সাবেক মেয়র
মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নির্বাচনে সব দলই শক্তিশালী এখানে কাউকে ছোট করে
দেখার সুযোগ নেই। তবে রংপুরবাসী তাকেই বিজয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রংপুর মহানগর মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক তুষার কান্তি মন্ডল জানান, সিটি
করপোরেশনের উন্নয়নের স্বার্থে এবার ভোটাররা আওয়ামীলীগের নৌকা মার্কা প্রার্থীকে ভোট
দিবেন।
এদিকে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ছাড়াও
প্রতিদ্বন্দীতা করছেন আরও সাতজন প্রার্থী।
তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রংপুর মহানগর সভাপতি আমিরুজ্জামান পিয়াল,
মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও জেলা ডেইরী ফার্মাস সংগঠনের
সভাপতি লতিফুর রহমান মিলন, জাকের পার্টির নেতা খোরশেদ আলম খোকন, স্বতন্ত্র প্রার্থী
ব্যবসায়ী মেহেদী হাসান বনি, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আতাউর জামান বাবু, জাসদের
সফিয়ার রহমান, স্বতন্ত্র মো. আবু রায়হান ও খেলাফত মজলিসের তৌহিদুর রহমান মন্ডল রাজু।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর